আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
86 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (7 points)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তাদ প্রথম উত্তর টা কিছু বুঝতে পারি নি। প্রথম প্রশ্নটা আমার এক পরিচিত জনের। ওনারা বন্ধক নিয়েছেন জমিটা। সেখানে চাষাবাদ করেন। সেই ফসলের উপর কি তারা যাকাত দিতে হবে প্রশ্ন টা এমন ছিল। উত্তর টা আমি বুঝতে পারি নি। তাদের কি জানাবো সেটাও বুঝতে পারছি না। একটু সহজে যদি বলতেন খুব উপকার হত। জাযাকাল্লাহ খাইরন ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ । 

 

সাথে আরো কিছু প্রশ্ন আছে একই সাথে।

 

১) ওনার কিছু ঋনও আছে লাখ খানেক টাকা। যে বন্ধক দিয়েছে ৩ লাখ টাকা। যে জমিতে চাষাবাদ করছে। ওনার ইনকাম বলতে এটাই। বাড়িতে কিছু জায়গা আছে ৪/৫ টা গাছ, টুকটাক। সেখান থেকে আয় তেমন নেই। দিন আনে দিন খায় এমন। ওনার এক ছেলে চাকরি করে। আর ২ ছেলে এখনো কিছু করে না। ওনার স্ত্রীর কোন স্বর্নের গহনা নেই। 

 

ওনারা কি যাকাতের হকদার?  ওনাদের কি যাকাত দেয়া যাবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
বন্ধককৃত বস্তু বন্ধকগ্রহীতার কাছে আমানতস্বরূপ। 

★বন্ধকি জমি থেকে বন্ধকগ্রহীতার কোনো ফায়দা হাসিল করা নাজায়েজ ও হারাম। এমনকি বন্ধকদাতা এর অনুমতি দিলেও পারবে না। কারণ বন্ধকি জমি থেকে বন্ধকগ্রহীতা কোনো ধরনের ফায়দা উপভোগ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত, যা হারাম। (বাদায়েউস সানায়ে : ৬/১৪৬)

ইবনে সিরিন (রহ.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক লোক সাহাবি ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করল, এক ব্যক্তি আমার কাছে একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছে, তা আমি আরোহণের কাজে ব্যবহার করেছি। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, তুমি আরোহণের মাধ্যমে এর থেকে যে উপকার লাভ করেছ তা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৫০৭১)
,
বিখ্যাত তাবেয়ি ইমাম কাজি শুরাইহ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সুদ পান করা কিভাবে হয়ে থাকে? তিনি বলেন, বন্ধকগ্রহীতা বন্ধকি গাভির দুধ পান করা সুদ পানের অন্তর্ভুক্ত। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৫০৬৯)
,
বৈধ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুনঃ 

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত মাসয়ালা জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতি নাজায়েজ। 
এটি জায়েজ পদ্ধতি নয়।
এভাবে সেই জমি থেকে নিজে চাষাবাদ করা বা অন্য কাউকে দিয়ে চাষাবাদ করানো কোনোটাই জায়েজ নেই,সেই জমি থেকে কোনো ভাবেই উপকৃত হওয়া যাবেনা।

এমতাবস্থায় সে জমি ব্যবহার যেহেতু হারাম,তাই সেই জকি হতে যেসব ফসল উৎপন্ন হবে, সব ফসল হারাম বলে বিবেচিত হবে।

হারাম সম্পদের উপর যেহেতু যাকাত নেই, তাই সে ফসলেরয়া যাকাত দিতে হবে না।

এই ফসল পুরোপুরি মিসকিনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে।
,     
(০২)
তারা যাকাতের হকদার নন।
তাই তাদেরকে যাকাত দেয়া যাবেনা।

হ্যাঁ তার স্ত্রীর মালিকানায় যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে, তার স্ত্রী যদি দরিদ্র হয়, সেক্ষেত্রে তার স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...