আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
59 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (6 points)
১।পিরিয়ড ভালো হওয়ার পর গোছল করে যোহরের থেকে নামাজ শুরু করার অভ্যাস হয় তাহলে রোজার সময় কি করবে?রোজা তো ফজর থেকে শুরু হয় আর ফরজ গোছল ছারা তো আর ফজর নামাজ পরা যাবে না তাহলে করনীয় কি হবে? সে কি ফজরের সময় গোছল করে নিবে?

২।পিরিয়ড শেষে সুস্থ হবে যেদিন ঐদিন যদি ফরজ গোছল ছারা সাহরি খায় এবং ফজর না পরে একবারে যোহর পযন্ত অপেক্ষা করে আসলেই সুস্থ হয়েছে কিনা তারপর যদি দেখে সুস্থ হয়েছে তারপর ফজর কাজা এবং যোহরের নামাজ একসাথে পরে তাহলে কি ফজর কাজা করার কারনে গুনাহ হবে?যদি গুনাহ হয় তাহলে কি করবে?

৩।পিরিয়ড শেষ ভেবে কেউ যদি গোছল করে পরিষ্কার হয়ে যায় তারপর যদি আবার সামান্য লালচে কিছু দেখে তাহলে কি আবার পুনরায় গোছল করতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
https://ifatwa.info/72324/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
সেহরি খাওয়ার জন্য পবিত্র হওয়া শর্ত নয়।
 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুনুবি (নাপাক) অবস্থায় সেহরি (সাহুর) গ্রহণ করেছেন বলে একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে এবং এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, তার আগে তিনি ওজু করে নিতেন।

এ অবস্থায় সেহরি খেলে ফজর নামাজের জন্য ফজর নামাজের পূর্বে গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে নিতে হবে।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
উম্মুল মোমিনীন আয়েশা রা. বর্ণিত হাদিস:

ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﺪﺭﻛﻪ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻫﻮ ﺟﻨﺐ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺣﻠﻢ، ﻓﻴﻐﺘﺴﻞ ﻭﻳﺼﻮﻡ

“রমজান মাসে স্বপ্নদোষ ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় (অর্থাৎ স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে নাপাক অবস্থায়) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর হয়ে যেত। অত:পর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন।”
[সহিহ বুখারি : ১৮২৯ ও মুসলিম : ১১০৯।]

রাসুলের অপর স্ত্রী উম্মুল মোমিনীন উম্মে সালামা রা. বর্ণনা করেন:

ﻛﺎﻥ ﻳﺪﺭﻛﻪ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻭﻫﻮ ﺟﻨﺐ ﻣﻦ ﺃﻫﻠﻪ ﺛﻢ ﻳﻐﺘﺴﻞ ﻭﻳﺼﻮﻡ.

“সহবাসের ফলে নাপাকি অবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর করে ফেলতেন। অত:পর গোসল করে রোজা রাখতেন।
[সহিহ বুখারি: ১৯২৬]


★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি সাহরির ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই হায়েজ থেকে পবিত্র হয়ে গিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনি ওই দিনের রোজা রাখতে পারবেন।

অন্যথায় সেদিনের রোজা আপনি রাখতে পারবেন না।

এক্ষেত্রে ফরজ গোসল রোযার জন্য শর্ত নয়, ফরজ গোসল নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতের জন্য শর্ত।

(০২)
সে যদি নিশ্চিত হয় বা তার যদি প্রবল ধারণা হয় যে ফজরের ওয়াক্তের পর আর কোন ব্লাড আসবে না, তাহলে তার জন্য এভাবে ফজরের নামাজ কাজা করা কোন ভাবেই জায়েজ নেই।

আর যদি সে নিশ্চিত হয় বা তার প্রবল ধারণা হয় যে ফজরের ওয়াক্তের পরেও তার ব্লাড আসবে, তাহলে এক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে ফজরের নামাজ কাজা হয় তার গুনাহ হবে না।

(০৩)
হ্যাঁ,ব্লিডিং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তাকে পুনরায় ফরজ গোসল করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 298 views
...