আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
117 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম।


১) মেয়েদের হস্তমৈথুন করা কি হারাম?

২) মেয়েরা হস্তমৈথুন করার পর কি তাদের গোসল করা ফরজ হয়ে যায়?

৩) হায়েজ চলাকালীন অবস্থায় হস্তমৈথুন করলে কি গুনাহ হয়?

৩) রোজা রেখে কোনো মেয়ে হস্তমৈথুন করলে কি তার রোজা ভেঙ্গে যায়? ভেঙ্গে গেলে এর কাফফারা কী?

৪) পরিবার এখন বিয়েতে রাজি না। এর ফলে কোনো মেয়ে হস্তমৈথুনে আসক্ত থাকলে এর থেকে বের হওয়ার জন্য তার করনীয় কী?

৫) স্ত্রী সহবাস করতে চাচ্ছে, কিন্তু স্বামীর মন চাচ্ছে না বা ইচ্ছে করছে না করার। সুস্থ থাকা সত্ত্বেও শুধু এই কারণে যদি স্বামী সহবাস করবে না বলে মানা করে দেয়, এতে কি স্বামীর গুন্নাহ হবে?

৬) উক্ত কারণে কি স্ত্রী তখন হস্তমৈথুন করতে পারবে? উত্তর যদি "না" হয়, তাহলে স্ত্রীর করণীয় কী?

৭) উক্ত কারণে যদি স্ত্রী সবসময় ডিপ্রেশনে থাকে ও হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে কি স্ত্রী তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে পারবে?

1 Answer

0 votes
by (763,650 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাত বা অন্য কিছুর মাধ্যমে বীর্যপাত, স্বমৈথুন বা হস্তমৈথুন
করা কোরআন সুন্নাহ ও সুস্থ বিবেকের নির্দেশ মতে হারাম ও কবিরা গুনাহ।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ لِفُرُوۡجِهِمۡ حٰفِظُوۡنَ ۙ﴿۵﴾
আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী।
(সুরা মুমিনুন ০৫)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
عبد الله بن عمرو بن العاص عن النبي صلى الله عليه وسلم سبعة لا ينظر الله عز وجل إليهم يوم القيامة ولا يزكيهم ويقول : ادخلوا النار مع الداخلين : الفاعل والمفعول به ، والناكح يده ، وناكح البهيمة ، وناكح المرأة في دبرها ، وناكح المرأة وابنتها ، والزاني بحليلة جاره ،والمؤذي لجاره حتى يلعنه
“সাত শ্রেণীর লোকের উপর আল্লাহ অভিশাপ বর্ষণ করেন, কিয়ামতের দিন এদের দিকে তাকাবেন না এবং এদেরকে জাহান্নামে প্রবেশের আদেশ দিবেন। এরা হল–সমকামী, হস্তমৈথুনকারী, জীবজন্তুর সাথে সঙ্গমকারী, স্ত্রীর সঙ্গে পুংমৈথুনকারী, কোন মহিলা ও তার কন্যাকে একসাথে বিবাহকারী, প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারকারী এবং প্রতিবেশীকে এমন কষ্টদানকারী যে, যার কারণে সে তাকে অভিশাপ দেয় । তবে এরা যদি তাওবা করে তাহলে তারা সবাই হয়ত ক্ষমা পেতে পারে।” (বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান৭/৩২৯)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: يَجِيءُ النَّاكِحُ يَدَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَدُهُ حُبْلَى 
হযরত আনাস বিন মালেক রাঃ বলেন, কিয়ামতের ময়দানে হস্তমৈথুনকারী এমনভাবে উঠবে যে, তার হাত গর্ভবতী থাকবে। [শুয়াবুল ঈমান, বর্ণনা নং-৫০৮৭]

হস্তমৈথুনের বিধান সম্পর্কে জানুনঃ 

আরো জানুনঃ- 
https://ifatwa.info/50877/

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
১) নর নারী নির্বিশেষে সকলের জন্যই  হস্তমৈথুন করা হারাম।

২) মেয়েরা হস্তমৈথুন করার পর তাদের বীর্যপাত হলে সেক্ষেত্রে তাদের উপরেও গোসল করা ফরজ হয়ে যাবে।

৩) হায়েজ চলাকালীন অবস্থায় হস্তমৈথুন করলেও গুনাহ হবে।

৩) রোজা রেখে কোনো মেয়ে হস্তমৈথুন করলে সেক্ষেত্রে বীর্যপাত হলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। ভেঙ্গে গেলে এর কাজা আদায় করতে হবে। কাফফারা আবশ্যক হবেনা।

(০৪)
★হস্তমৈথুন থেকে বাঁচার বিস্তারিত আমল জানুনঃ
,
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনি দ্রুত বিবাহের চেষ্টা করুন,বিবাহের আগে এই মারাত্মক গুনাহ থেকে বাঁচতে রোযা রাখবেন,এবং বিবাহের আগ পর্যন্ত রোযা চালিয়ে যাবেন।

দ্রুত বিবাহের আমল জানুনঃ-

আপনি আল্লাহর কাছে দোয়ার পাশাপাশি নিজ অভিভাবকদের মাধ্যমে দ্রুত বিবাহের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

নিজের বোন মা দাদি নানী ফুপু ইত্যাদিদের মাধ্যমে বাবাকে বুঝে রাজি করতে হবে।

শুধু দোয়া করে নিজে বিবাহের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা না করলে সফল হওয়া হবেনা।
তাই দোয়ার পাশাপাশি বিবাহের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
অভিভাবকদের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সম্পাদন করার চেষ্টা করুন।

(০৫)
বিনা ওযরে এমনটি করলে এটা স্বামীর জন্য অন্যায় হবে।

এক্ষেত্রে স্বামীর মন যদি কোনক্রমেই সহবাসের প্রতি আকৃষ্ট না হয় এবং কিছুদিন আগেও সহবাস করে থাকে,সেক্ষেত্রে গুনাহ হবেনা।

৬) উক্ত কারণে স্ত্রী তখন হস্তমৈথুন করতে পারবেনা।
এক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর হাত দিয়ে হস্তমৈথুন করিয়ে নিতে পারবে।

৭) উক্ত কারণে যদি স্ত্রী সবসময় ডিপ্রেশনে থাকে ও হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে স্ত্রী স্বামী হতে তালাকের ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে থাকলে,স্বামী প্রদত্ত তালাকের ক্ষমতাবলে নিজেকে নিজে তালাক দিতে পারবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...