আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
71 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (44 points)
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
১- উস্তাজ এই কয়েকদিনে তো কয়েক জায়গায় ভূমিকম্প হলো আল্লহ মাফ করুন। একটা আতঙ্ক হয়ে গেছে আমার। আমি আজকে স্বপ্নে ও দেখলাম যে ভূমিকম্প হচ্ছে। দুই তিনবার হয়েছে এমন। সবাই খুব ভয় পাচ্ছে। আবার একটু পরে দেখলাম যে আমি কার সাথে যেনো হাসছি। পরে ঘুম থেকে উঠে বাম দিকে থুতু দিয়েছি আর তা'আউজ পড়েছি আলহামদুলিল্লাহ। এখন এই স্বপ্নের ভিত্তিতে আমাকে কিছু নসীহা দিলে ভালো হতো।

০২- রুকইয়াহ সম্পর্কে আকিদা কেমন হওয়া উচিত? রুকইয়াহ চলাকালীন বা এমনে সময় যেকোনো সমস্যা যেমন মাথা ব্যথা বা এই রকম কোনো সমস্যা হলে কি সেটা রুকইয়াহজনিত সমস্যা ধরে নিতে হবে? অসুস্থতা তো আছে ইসলামে তাইনা! আবার অনেক সময় দেখা যায় যে চেহারা কোনো ব্রন বা গোটা উঠলে বা চেহারা নরমালি যেমন দেখায় তার চেয়ে একটু খারাপ দেখালেই সেটা কে আইন বা হাসাদ ধরা হয়। এটা কি ঠিক? কারো কি নিজের বদনজর নিজের উপর লাগতে পারে?


০৩- কেউ যদি আমার হক নষ্ট করার পরে আমি তাকে মন থেকে মাফ না করতে পারি। তাহলে কি আমি আল্লহর কাছে এইভাবে দোয়া করতে পারবো যে "ইয়া আল্লহ , আপনি যদি তাকে মাফ করে দেন তাহলে আমি সেটার উপর সন্তুষ্ট থাকবো ইন্ন শা আল্লহ" ?

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
ইসলামী দৃষ্টিতে স্বপ্ন তিন প্রকার। 
,
১. যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাহকে দেখানো হয় যা কল্যানকর হয়।

২. শয়তানের পক্ষ হতে দেখানো হয় যাতে মানুষ খারাপ, মন্দ ভয়ংকর কিছু দেখে থাকে।

তবে শয়তান স্বপ্ন দেখানোর দ্বারা মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারেনা।
,
 ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। শয়তান মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্যই এমন সব আজব আজব জিনিস দেখায়। এমনটা দেখলে ঘুম থেকে জেগে বাম দিকে থুথু ফেলে আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে হয়। 

৩. মানুষের কল্পনা। অর্থাৎ মানুষ যা কল্পনা করে স্বপ্নে তা দেখতে পায়। 
,

হাদীস শরীফে এসেছে  

خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَتَادَةَ يَقُوْلُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلميَقُوْلُ الرُّؤْيَا مِنْ اللهِ وَالْحُلْمُ مِنْ الشَّيْطَانِ فَإِذَا رَأٰى أَحَدُكُمْ شَيْئًا يَكْرَهُه“فَلْيَنْفِثْ حِينَ يَسْتَيْقِظُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَيَتَعَوَّذْ مِنْ شَرِّهَا فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّه“وَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ وَإِنْ كُنْتُ لأَرَى الرُّؤْيَا أَثْقَلَ عَلَيَّ مِنَ الْجَبَلِ فَمَا هُوَ إِلاَّ أَنْ سَمِعْتُ هٰذَا الْحَدِيثَ فَمَا أُبَالِيهَا.

আবূ ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, আর মন্দ স্বপ্ন হয় শয়তানের তরফ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে খারাপ লাগে, তা হলে সে যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে তখন সে যেন তিনবার থুথু ফেলে এবং এর ক্ষতি থেকে আশ্রয় চায়। কেননা, তা হলে এটা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। 

আবূ সালামাহ বলেনঃ আমি যখন এমন স্বপ্ন দেখি যা আমার কাছে পাহাড়ের চেয়ে ভারি মনে হয়, তখন এ হাদীস শোনার ফলে আমি তার কোন পরোয়াই করি না। [বুখারী ৫৭৪৭ মুসলিম পর্ব ৪২/হাঃ ২২৬১, আহমাদ ২২৭০৭] 
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত স্বপ্নটি মুছিবত আর কষ্ট আসার দিকে ইঙ্গিত বহন করছে।

সুতরাং আল্লাহর কাছে যাবতীয় বালা মুছিবত হতে পানাহ চাইবেন।

উল্লেখ্য এটি আপনার মনের কল্পনা প্রসূত স্বপ্নও হতে পারে।

(০২)
জানা মতে নিজের বদনজর নিজের উপর লাগেনা।

প্রশ্নে উল্লেখিত অসুস্থতার কারণ বদ নজর লেগেছে, এমনটি না ভাবের পরামর্শ থাকবে। বেশি সমস্যা মনে হলে চিকিৎসা নিতে পারেন।

(০৩)
হ্যাঁ, এভাবে দোয়া করতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...