আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
63 views
in কুরবানী (Slaughtering) by (69 points)
edited by
১.কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য হাতে কি টাকা থাকা আবশ্যক? নেসাবের মালিক কিন্তু হাতে কোনো টাকা নাই;এক্ষেত্রে কি তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে?

২.একজন নারী স্বর্ণ আছে যেটা স্বর্ণের নিসাবের থেকে কম।তার কাছে কয়েকগ্রাম রুপা ছিল যেটা সে স্বামীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এবং ব্যবহার করে না। তার কাছে কোনো টাকা থাকে না। থাকলেও সেটা দিয়ে সে খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনে আর সাদাকাহ এর জন্য কিছু টাকা রেখে দেয় অনলাইনে দেয়ার জন্য। এখন এই নারীর জন্য কি যাকাত ফরয হবে এবং কুরবানী ওয়াজিব হবে?

৩.যাকাত ফরজ হলেই কি তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়?

৪.উমরাহ করার ক্ষেত্রে মুখ কি নিকাব দিয়ে ঢাকা যায়?

৫.উমরাহ এর ক্ষেত্রে কি আলাদা কাপড় যেটা মুখে স্পর্শ করবে না সেরকম কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকতে হবে যেমন করে হজ্জের সময় ঢাকা লাগে?

৬.শুধুমাত্র তওয়াফ করার সময় নিকাব পড়া যায়?

৭.উমরাহ এবং হজ্জের ক্ষেত্রে কোন কোন সময়গুলোতে নিকাব পরে থাকা যায়?

৮.উমরাহ এবং হজ্জের ক্ষেত্রে কোন কোন সময় নিকাব পড়া যায় না?

৯.স্বামীর অজান্তে তার ফোন চেক করা কি গুনাহের কাজ?সন্দেহ হলে কিংবা সন্দেহ ব্যতীত?

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১) কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য হাতে টাকা থাকা আবশ্যক নয়। নেসাবের মালিকের যদি হাতে টাকা না থাকে,তাহলে এক্ষেত্রেও তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।

(২) একজন নারী স্বর্ণ আছে যেটা স্বর্ণের নিসাবের থেকে কম। তার কাছে কয়েকগ্রাম রুপা ছিল যেটা সে স্বামীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।এই নারীর উপর যাকাত ফরয হবে না। তার যদি নেসাব পরিমাণ অক্রমবর্ধমান মাল যেমন জায়গা জমি, ঘরের আসবাব পত্র না থাকে, তাহলে কুরবানী ওয়াজিব হবে না।

(৩) যাকাত ফরজ হলেই তার উপর কুরবানীও ওয়াজিব হবে।

(৪) ইহরাম অবস্থায় নিকাব দিয়ে মুখ ঢাকা নিষেধ। নারী পুরুষ সবার জন্যই এই বিধান। মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত বিধান হল, গায়রে মাহরামের সামনে মুখ ঢেকে রাখবে। ইহরাম অবস্থায় ভুলে মুখে কাপড় লেগে গেলে এবং সাথে সাথেই সরিয়ে নিলে দম বা সদকাহ কিছুই ওয়াজিব হবে না। ১২ ঘন্টার অধিক সময় ধরে মুখ ঢেকে রাখলে তখন দম ওয়াজিব হবে। ১২ ঘন্টার চেয়ে কম হলে একটি সদকায়ে ফিতির সমপরিমাণ টাকা সদকাহ করতে হবে।

الفقه الإسلامي وأدلته (3/ 599):
"وأجاز الشافعية والحنفية ذلك بوجود حاجز عن الوجه فقالوا: للمرأة أن تسدل على وجهها ثوباً متجافيا عنه بخشبة ونحوها، سواء فعلته لحاجة من حر أو برد أو خوف فتنة ونحوها، أو لغير حاجة، فإن وقعت الخشبة فأصاب الثوب وجهها بغير اختيارها ورفعته في الحال، فلا فدية. وإن كان عمداً وقعت بغير اختيارها فاستدامت، لزمتها الفدية".  فقط واللہ اعلم


(৫) উমরাহ এবং হজ্বের একই বিধান। হজ্ব ক্যাপ যা বাজারে পাওয়া যায়, সেটা ব্যবহার করবেন।

(৬) শুধুমাত্র তওয়াফ করার সময় নিকাব পড়া যায়?

(৭) উমরাহ এবং হজ্জের ক্ষেত্রে কখনই নেকাব পড়া যাবে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেকাব পরিধানের অনুমতি থাকবে।

(৮) উমরাহ এবং হজ্জের সময় গায়রে মাহরামের সামনে নেকাব পড়া যাবে। 

(৯) স্বামীর অজান্তে তার ফোন চেক করা কখনই উচিত হবে না।সন্দেহ হোক বা না হোক, কখনই চেক করা যাবে না।হ্যা, স্বামীর অনুমতি নিয়ে চেক করা যাবে। স্বামী গোনাহে লিপ্ত থাকার সন্দেহ হলে করা যাবে তবে গোনাহ সম্পর্কে কাউকেই অবগত করা যাবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...