আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
75 views
in সালাত(Prayer) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ

সিলেটে পিতা মাতার সাথে অনেক বছর যাবত ভাড়া বাসায় থাকি এবং গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম।

১) সিলেট থেকে চট্টগ্রামে ১৫ দিনের কম নিয়তে ট্রেনে সফর করলে সফরকালীন অবস্থায় কসর করতে হবে কিনা এবং কীভাবে করবো?

-কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে না বসে পড়া যাবে?

 -দাড়িয়ে পড়লে সিটে রুকু,সিজদা বসে দিব?

-তায়াম্মুম নাকি পানি দ্বারা ওজু করতে হবে ?

(সাধারণত ট্রেনে বাথরুম/পানি থাকে,তবে সেখানে ওজু করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকেনা বিশেষ করে মেয়েদের জন্য)

২) এরূপ দাঁড়িয়ে বা বসে সফরে সালাত আদায় করলে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ঐ সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে কি!

৩) যদি সফর করে প্রথমে খালার বাসায় যায় (যেটি স্থায়ী নিবাস না ), সেক্ষেত্রে খালার বাসায় থাকাকালীন কি কসর করবো? আর দাদুর বাড়িতে প্রথমে গেলে সম্পূর্ণ সালাত না কসর?

৪) প্রথমে খালার,পরে দাদুর বাড়িতে ( স্থায়ী নিবাস) যাবার পর অন্য আত্মীয় স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেলে (সফর দূরত্ব নয়) তাহলে ঐ আত্নীয়ের বাড়িতে কসর করবো না সম্পূর্ণ?

- দাদুর বাড়িতে প্রথমে অথবা যখনই যায় ,তখন থেকে কি মুকিম হয়ে যাবো? এরপর অন্য জায়গায় বেড়াতে গেলে সম্পূর্ণ সালাত আদায় করবো?

৫) সিলেট থেকে চট্টগ্রামে ১৫ দিনের কম নিয়তে যাবার পর, যদি ১৫ দিনের অধিক থাকা হয় তবে সালাতের ক্ষেত্রে করণীয় কি ?

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান হলো ওয়াতনে আসলী (স্থায়ী নিবাস) তে এক দিনের জন্য গেলেও পুরো নামাজ পড়তে হবে।
    
ব্যক্তি নিজের স্থায়ী নিবাসে গেলে কখনো মুসাফির হয়না। স্থায়ী নিবাস বলে এমন স্থানকে-“যেখানে ব্যক্তির বসবাসের জন্য স্থায়ী গৃহ থাকে, স্ত্রী সন্তান নিয়ে যেখানে সর্বদার জন্য থাকার নিবাস হয়”।

শরীয়তের বিধান হলো কোন স্থানে গিয়ে সেখানে যদি কমপক্ষে পনের দিন থাকার নিয়ত না করে, তাহলেও কসর পড়তে হবে। বেশি দিন থাকার নিয়ত করলে কসর করতে পারবে না।

৭৮ কিলোমিটার হল সফরের দূরত্ব। এর কম নয়। সুতরাং কেউ যদি ৭৮ কিলোমিটার দূরত্বের সফরের নিয়তে বের হয় কেবল সেই ব্যক্তি কসর পড়তে পার। এরচে’কম দূরত্বের সফরের জন্য কসর পড়া জায়েজ নয়।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

সেক্ষেত্রে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ কসর করতে হবে। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে,

وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ

‘আর যখন তোমরা যমীনে সফর করবে, তখন তোমাদের নামাজ কসর করাতে কোনো দোষ নেই।’ [সূরা নিসা, আয়াত: ১০১]

হাদিস শরীফে এসেছে,

عِيسَى بْنُ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ فِى طَرِيقٍ – قَالَ – فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ فَرَأَى نَاسًا قِيَامًا فَقَالَ مَا يَصْنَعُ هَؤُلاَءِ قُلْتُ يُسَبِّحُونَ. قَالَ لَوْ كُنْتُ مُسَبِّحًا أَتْمَمْتُ صَلاَتِى يَا ابْنَ أَخِى إِنِّى صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ – ﷺ – فِى السَّفَرِ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ أَبَا بَكْرٍ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ عُمَرَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَصَحِبْتُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَقَدْ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِى رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

ইবনে উমর রাযি. বলেন, নিশ্চয় আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সাথে সফর করেছি, তিনি মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। আমি আবু বকর রাযি. এর সাথেও সফর করেছি, তিনিও আমরণ সফরে ২ রাকাতই পড়েছেন। আমি উমর রাযি. এর সাথেও সফর করেছি তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। আমি  উসমান রাযি. এর সাথেও সফর করেছি, তিনিও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। আর আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমি তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ এর মাঝে রেখেছি উত্তম আদর্শ। (মুসলিম ১৬১১)

ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
يَا أَهْلَ مَكَّةَ ، لا تَقْصُرُوا الصَّلاةَ فِي أَدْنَى مِنْ أَرْبَعَةِ بُرُدٍ
হে মক্কাবাসী! চার বারীদের কমে কসর করবে না। (দারা কুতনী ১/৩৮৭)

ইমাম বুখারি রহ. বলেন,
 وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ، وَابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، يَقْصُرَانِ، وَيُفْطِرَانِ فِي أَرْبَعَةِ بُرُدٍ وَهِيَ سِتَّةَ عَشَرَ فَرْسَخًا

ইবনে উমর রাযি এবং  ইবনে আব্বাস রাযি চার বারীদ সফরের সময় কসর পড়া এবং রোযা ভাঙ্গার কথা বলেছেন। আর সেটি হল, ১৬ ফরসখ। (সহিহ বুখারি, নামায কসর করা অধ্যায়)

★সেই হিসেবে সফরের দূরত্ব দাঁড়াচ্ছে ৪৮ মাইল।

আরো জানুনঃ 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে সিলেট থেকে চট্টগ্রামে  সফর করলে সফরকালীন অবস্থায় কসর করতে হবে। 

এক্ষেত্রে ট্রেনে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি জানুনঃ- 

(০২)
যানবাহনে যদি স্বলাত আদায় করা হয়, তাহলে দাড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে রুকু সিজদার মাধ্যমে নামায পড়ার চেষ্টা করতে হবে। 

যদি বসে নামায পড়া হয় অথবা যদি কিবলা ঠিক না থাকে কিংবা যদি রুকু সিজদাকে সঠিকভাবে আদায় করা না হয়, তাহলে উক্ত নামাযকে পরবর্তীতে দোহড়াতে হবে। 

(৩-৪)
খালার বাসা কোথায়?
দাদার বাসা কোথায়?
কোন বাসা হতে কথা ন বাসায় যাবেন?

সেটি বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করলে ভালো হতো।

(০৫)
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি শুরুতেই ১৫ দিন তার বেশি থাকার নিয়ত করেন,তাহলে স্বাভাবিক ভাবে সম্পূর্ণ সালাত আদায় করবেন।

আর যদি আপনি শুরুতেই ১৪ দিন বা তার চেয়ে কম দিন থাকার নিয়ত করেন,পরবর্তীতে ১৪ দিনের পর কাজ শেষ না হওয়ায় বা অন্য কোনো কারনে আরো ৭ দিন থাকার নিয়ত করেন,সেক্ষেত্রে কসরের সালাত আদায় করবেন।
পূর্ণ নামাজ আদায় করবেননা।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (1 point)
খালা, দাদু,অন্য আত্মীয়ের বাসা চট্টগ্রামে।
(সফরে দূরত্বে না)
৩) যদি সফর করে প্রথমে খালার বাসায় যায় (যেটি স্থায়ী নিবাস না ), সেক্ষেত্রে খালার বাসায় থাকাকালীন কি কসর করবো? আর দাদুর বাড়িতে প্রথমে গেলে সম্পূর্ণ সালাত না কসর?

৪) প্রথমে খালার,পরে দাদুর বাড়িতে ( স্থায়ী নিবাস) যাবার পর অন্য আত্মীয় স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেলে (সফর দূরত্ব নয়) তাহলে ঐ আত্নীয়ের বাড়িতে কসর করবো না সম্পূর্ণ?

- দাদুর বাড়িতে প্রথমে অথবা যখনই যায় ,তখন থেকে কি মুকিম হয়ে যাবো? এরপর অন্য জায়গায় বেড়াতে গেলে সম্পূর্ণ সালাত আদায় করবো?
by (762,960 points)
যদি সিলেট থেকে সরাসরি আপনার খালার বাসায় যান, এক্ষেত্রে আপনার নিজ শহরের সীমানার উপর দিয়ে যদি আপনাকে যেতে না হয়, তাহলে এক্ষেত্রে খালার বাসায় ১৫ দিনের কম থাকলে কসর করবেন



by (762,960 points)
(০৪)
পূর্ণ নামাজ আদায় করবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 167 views
0 votes
1 answer 365 views
...