আমার আব্বুর নতুন ওষুধের ফার্মেসি। ওষুধের ফার্মেসিতে, সাধারণত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াও আমার আব্বু বা অন্য ফার্মেসির লোকেরা ওষুধ বিক্রি করে নিজেদের ধারণা থেকে যে, এটা খেলে হয়ত ঐ রোগ ভাল হবে। অনেক সময় ঐ ঔষধ দেওয়া ভুলও হতে পারে যেহেতু ধারণা থেকে দেয়, এরা তো আর ডাক্তার না। তাহলে রোগীর ক্ষতি হবে , রোগী মারাও যেতে পারে। তাৎক্ষণিক মারা না গেলেও পরবর্তীতে এটা অনেক বছর পরেও ঐ ওষুধ তার ক্ষতির কারণ হয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এটাও কি তাহলে ঐ বান্দাদের হক নষ্ট না? কিন্তু এটা তো বাংলাদেশের প্রায় সকল ফার্মেসিতে করতেছে।
আগেও অনেকে ঔষধ কিনছে আমার আব্বুর দোকান থেকে, তাহলে কার কার ক্ষতি হবে এটাও তো আমি জানি না। তাদের কাছে কিভাবে ক্ষমা চাইব?
এছাড়া আমার প্রায় বিভিন্ন কাজেই মনে হয় যে আমি অন্যের হক নষ্ট করতেছি। রাস্তায় একটা কলার খোসা আমি অন্যের ভালোর জন্য লাথি দিয়ে সাইডে ফেলার পর মনে হয়, ঐখানে পা দিয়ে কেউ পিছলে পড়লে তার ক্ষতির জন্যও তো আমি দায়ী। পা পিছলে পড়ে সে মরেও যেতে পারে।আমি তাহলে তার হক নষ্ট করলাম।
আমার একটা ফ্রেন্ড মুরগির মাংস কয়েকদিন গরম করে করে খায়, কিন্তু এভাবে খাওয়া ক্ষতিকর। আমি তাকে বলছি। পরে আমার মনে হল শুধু ওকে বললাম, এটা আমার সবাইকে মনে হয় বলতে হবে। না হয়, সবার ক্ষতির জন্য আমি দায়ী। তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও, এই ক্ষতি একসময় তাদের মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এভাবে আমি সবার হক নষ্ট করতেছি।
কোনো একটা বিষয় নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে আলোচনা হলে, অনেক অনেক কথা হয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। অনেকক্ষণ পরে বা কয়েকদিন পরে যদি মনে পড়ে যে, ঐ তথ্যটা তো ভুল বলছিলাম তখন আমার মনে হয় যে আমার উচিত এখন সবাইকে জানানো যে, ঐদিন আমি এই কথাটা ভুল বলছিলাম। না হয়, ঐ তথ্য যদি মেয়েদের বা ছেলেদের কোনো চাকরি পরীক্ষায় আসে, আমার ঐ ভুল তথ্যের কারণে ওরা নাম্বার কম পাবে আর ওদের চাকরি হবে না। এর জন্য আমি দায়ী থাকব। আমি ছেলেগুলার চাকরির হক নষ্ট করলাম।
আমি আল্লাহর ইবাদত কম করলে আমার কাছে মনে হয়, আমার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যদি আমার বাসার লোক বা বন্ধুবান্ধবও কম ইবাদত করে, তাহলে এর জন্যও আমি দায়ী থাকব অর্থাৎ আমি তাদের ইবাদতের হক নষ্ট করতেছি মানে শুধু দুনিয়া না আখিরাতের হকও নষ্ট করতেছি।
এইরকম অনেক কারণ আছে ঐগুলা বলে শেষ করা যাবে না হুজুর, যার জন্য আমার মনে হয় আমি অন্যের হক নষ্ট করতেছি। আমারে দয়া করে, এই হক নষ্টের বিষয় টা পরিষ্কার করে দেন হুজুর। আপনারা উত্তর না দিলে কার কাছে যাব। আপনার কাছে আমার অনুরোধ হুজুর, দয়া করে বিষয়টা ক্লিয়ার করে দেন।
আপনাদের থেকে এর আগে একটা উত্তর পাইছি যে, এক ব্যক্তি ১০০ খুন করেও মাফ পাইছে। সেও বান্দার বেঁচে থাকার হক নষ্ট করছিল। আমার ক্ষেত্রেও কি সেটা প্রযোজ্য হবে? ঐ ১০০ খুন করা ব্যক্তি তো না জেনে বান্দার হক নষ্ট করছিল কিন্তু আমি তো জেনেও বান্দার হক নষ্ট করতেছি। জেনেও বান্দার হক নষ্ট করতেছি এটা বললাম কারণ আমার কাছে মনে হয় আমার উচিত আমার আব্বুকে বলা যে, তুমি কাস্টমার এসে যে ঔষধ চাইবে শুধু সেটা বিক্রি করবা, নিজে থেকে কোনো ঔষধ কাস্টমারকে সাজেস্ট করবা না। আমার আরও মনে হয় শুধু আমার আব্বুকে না, আশেপাশের সব দোকানদারকে এমনকি সারা বিশ্বের সব ফার্মেসির লোকদের আমার বলার দায়িত্ব যে, আপনারা নিজেদের ধারণা থেকে কোনো ঔষধ বিক্রি করবেন না এতে ঐ অসুস্থ বান্দার ক্ষতি হতে পারে, আর আপনার দ্বারা তার হক নষ্ট হতে পারে। কিন্তু আমি সব ফার্মেসির লোককে এইগুলা বলতেছি না। তার মানে আমি জেনেও এতগুলা লোককে ক্ষতি থেকে বাঁচাইতেছি না, অর্থাৎ আমি জেনেও এত লোকের হক নষ্ট করতেছি আর ঐ ১০০ খুন করা ব্যক্তি তো না জেনে হক নষ্ট করছিল । তাই জিজ্ঞেস করতেছি, আমাকে কি আল্লাহ ঐ ১০০ খুন করা ব্যক্তির মত আল্লাহ মাফ করবে? এক হুজুর বলছিল যে, আল্লাহ শিরক ব্যতীত হুকুকুল্লাহ(আল্লাহর হক) জাতীয় গুনাহ মাফ করে, বান্দার হক জাতীয় গুনাহ মাফ করে না।
আমার ৮ বছর যাবৎ এইরকম মনে হইতেছে। আমি কি পরিমাণ চিন্তার মধ্যে আছি, বলে বুঝাতে পারব না হুজুর। আমার হাতজোড় অনুরোধ, দয়া করে আমাকে চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করুন। আল্লাহ বান্দার হক মাফ করে কিনা ( তাহলে এক মুফতি কেন বলল যে বান্দার হক আল্লাহ মাফ করে না) এবং কতটুকু ক্ষতি হলে বা কখন আসলে বান্দার হক নষ্ট হইছে বলে ধরে নিব, এই ২টা বিষয় একটু পরিষ্কার ভাবে বলে দিয়েন। আর আমার এখন করণীয় কি?
দয়া করে উপরের সবগুলো বিষয়ের উত্তর ই দিয়েন হুজুর, আর এক জায়গায় বলছি যে আখিরাতে হকও নষ্ট করতেছি ঐ বিষয় টাও একটু বইলেন দয়া করে।