আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
76 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আমার আব্বুর নতুন ওষুধের ফার্মেসি। ওষুধের ফার্মেসিতে, সাধারণত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াও আমার আব্বু বা অন্য ফার্মেসির লোকেরা ওষুধ বিক্রি করে নিজেদের ধারণা থেকে যে, এটা খেলে হয়ত ঐ রোগ ভাল হবে। অনেক সময় ঐ ঔষধ দেওয়া ভুলও হতে পারে যেহেতু ধারণা থেকে দেয়, এরা তো আর ডাক্তার না। তাহলে রোগীর ক্ষতি হবে , রোগী মারাও যেতে পারে। তাৎক্ষণিক মারা না গেলেও পরবর্তীতে এটা অনেক বছর পরেও ঐ ওষুধ তার ক্ষতির কারণ হয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এটাও কি তাহলে ঐ বান্দাদের হক নষ্ট না? কিন্তু এটা তো বাংলাদেশের প্রায় সকল ফার্মেসিতে করতেছে।

আগেও অনেকে ঔষধ কিনছে আমার আব্বুর দোকান থেকে, তাহলে কার কার ক্ষতি হবে এটাও তো আমি জানি না। তাদের কাছে কিভাবে ক্ষমা চাইব?

 এছাড়া আমার প্রায় বিভিন্ন কাজেই মনে হয় যে আমি অন্যের হক নষ্ট করতেছি। রাস্তায় একটা কলার খোসা আমি অন্যের ভালোর জন্য লাথি দিয়ে সাইডে ফেলার পর মনে হয়, ঐখানে পা দিয়ে কেউ পিছলে পড়লে তার ক্ষতির জন্যও তো আমি দায়ী। পা পিছলে পড়ে সে মরেও যেতে পারে।আমি তাহলে তার হক নষ্ট করলাম।

আমার একটা ফ্রেন্ড মুরগির মাংস কয়েকদিন গরম করে করে খায়, কিন্তু এভাবে খাওয়া ক্ষতিকর। আমি তাকে বলছি। পরে আমার মনে হল শুধু ওকে বললাম, এটা আমার সবাইকে মনে হয় বলতে হবে। না হয়, সবার ক্ষতির জন্য আমি দায়ী। তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও, এই ক্ষতি একসময় তাদের মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এভাবে আমি সবার হক নষ্ট করতেছি।

কোনো একটা বিষয় নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে আলোচনা হলে, অনেক অনেক কথা হয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। অনেকক্ষণ পরে বা কয়েকদিন পরে যদি মনে পড়ে যে, ঐ তথ্যটা তো ভুল বলছিলাম তখন আমার মনে হয় যে আমার উচিত এখন সবাইকে জানানো যে, ঐদিন আমি এই কথাটা ভুল বলছিলাম। না হয়, ঐ তথ্য যদি মেয়েদের বা ছেলেদের কোনো চাকরি পরীক্ষায় আসে, আমার ঐ ভুল তথ্যের কারণে ওরা নাম্বার কম পাবে আর ওদের চাকরি হবে না। এর জন্য আমি দায়ী থাকব। আমি ছেলেগুলার চাকরির হক নষ্ট করলাম।

আমি আল্লাহর ইবাদত কম করলে আমার কাছে মনে হয়, আমার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যদি আমার বাসার লোক বা বন্ধুবান্ধবও কম ইবাদত করে, তাহলে এর জন্যও আমি দায়ী থাকব অর্থাৎ আমি তাদের ইবাদতের হক নষ্ট করতেছি মানে শুধু দুনিয়া না আখিরাতের হকও নষ্ট করতেছি।

এইরকম অনেক কারণ আছে ঐগুলা বলে শেষ করা যাবে না হুজুর, যার জন্য আমার মনে হয় আমি অন্যের হক নষ্ট করতেছি। আমারে দয়া করে, এই হক নষ্টের বিষয় টা পরিষ্কার করে দেন হুজুর। আপনারা উত্তর না দিলে কার কাছে যাব। আপনার কাছে আমার অনুরোধ হুজুর, দয়া করে বিষয়টা ক্লিয়ার করে দেন।

আপনাদের থেকে এর আগে একটা উত্তর পাইছি যে, এক ব্যক্তি ১০০ খুন করেও মাফ পাইছে। সেও বান্দার বেঁচে থাকার হক নষ্ট করছিল। আমার ক্ষেত্রেও কি সেটা প্রযোজ্য হবে? ঐ ১০০ খুন করা ব্যক্তি তো না জেনে বান্দার হক নষ্ট করছিল কিন্তু আমি তো জেনেও বান্দার হক নষ্ট করতেছি। জেনেও বান্দার হক নষ্ট করতেছি এটা বললাম কারণ আমার কাছে মনে হয় আমার উচিত আমার আব্বুকে বলা যে, তুমি কাস্টমার এসে যে ঔষধ চাইবে শুধু সেটা বিক্রি করবা, নিজে থেকে কোনো ঔষধ কাস্টমারকে সাজেস্ট করবা না। আমার আরও মনে হয় শুধু আমার আব্বুকে না, আশেপাশের সব দোকানদারকে এমনকি সারা বিশ্বের সব ফার্মেসির লোকদের আমার বলার দায়িত্ব যে, আপনারা নিজেদের ধারণা থেকে কোনো ঔষধ বিক্রি করবেন না এতে ঐ অসুস্থ বান্দার ক্ষতি হতে পারে, আর আপনার দ্বারা তার হক নষ্ট হতে পারে। কিন্তু আমি সব ফার্মেসির লোককে এইগুলা বলতেছি না। তার মানে আমি জেনেও এতগুলা লোককে ক্ষতি থেকে বাঁচাইতেছি না, অর্থাৎ আমি জেনেও এত লোকের হক নষ্ট করতেছি আর ঐ ১০০ খুন করা ব্যক্তি তো না জেনে হক নষ্ট করছিল । তাই জিজ্ঞেস করতেছি, আমাকে কি আল্লাহ ঐ ১০০ খুন করা ব্যক্তির মত আল্লাহ মাফ করবে? এক হুজুর বলছিল যে, আল্লাহ শিরক ব্যতীত হুকুকুল্লাহ(আল্লাহর হক) জাতীয় গুনাহ মাফ করে, বান্দার হক জাতীয় গুনাহ মাফ করে না।

আমার ৮ বছর যাবৎ এইরকম মনে হইতেছে। আমি কি পরিমাণ চিন্তার মধ্যে আছি, বলে বুঝাতে পারব না হুজুর। আমার হাতজোড় অনুরোধ, দয়া করে আমাকে চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করুন। আল্লাহ বান্দার হক মাফ করে কিনা ( তাহলে এক মুফতি কেন বলল যে বান্দার হক আল্লাহ মাফ করে না) এবং কতটুকু ক্ষতি হলে বা কখন আসলে বান্দার হক নষ্ট হইছে বলে ধরে নিব, এই ২টা বিষয় একটু পরিষ্কার ভাবে বলে দিয়েন। আর আমার এখন করণীয় কি?

দয়া করে উপরের সবগুলো বিষয়ের উত্তর ই দিয়েন হুজুর, আর এক জায়গায় বলছি যে আখিরাতে হকও নষ্ট করতেছি ঐ বিষয় টাও একটু বইলেন দয়া করে।

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
সার্টিফিকেট ব্যতিত ঔষধ দেওয়া সরকারি বিধি মুতাবেক নিষিদ্ধ। যেহেতু কুরআন সুন্নাহ বিরোধী না হলে সরকারি বিধানকে মান্য করা জরুরী, তাই মেডিসিন ও ফার্মেসী সংক্রান্ত সরকারি বিধি বিধান মান্য করা অতীব জরুরী। যদি কেউ সরকারি বিধান মান্য না করে ঔষধ দেয়, তাহলে সরকারি বিধা মুতাবেক শাস্তিকে শরীয়ত অগ্রাহ্য করবে না। আপনি আপনার বাবাকে এবং সবাই মাস'আলা অবগত করে দিবেন।হেকমতের সাথে সবাইকে বুঝাবেন, তাহলে আপনি দায়িত্ব মুক্ত হয়ে যাবেন। দাওয়াত না পৌছানোর কোনো প্রশ্ন আপনার উপর পতিত হবে না।

وفي الشامية:
’’قوله:(لوجوب طاعة ولي الأمر) بالآية الشريفة ومن طاعته تصديقه  قال العلامة البيري في أواخر شرحه على الأشباه و النظائر عند الكلام على شروط الإمامة ثم إذا وقعت البيعة من أهل الحل والعقد صار إماما يفترض إطاعته كما في خزانة الأكمل وفي شرح الجواهر تجب إطاعته فيما إباحه الدين وهو ما يعود نفعه إلى العامة كعمارة دار الإسلام والمسلمين مما تناوله الكتاب والسنة والإجماع  وفي النهاية وغيرهما روي عن أبي يوسف لما قدم بغداد صلى بالناس العيد وكلفه هارون الرشيد وكبر تكبير ابن عباس رضي الله عنهما‘‘.(كتاب الهبة، مطلب طاعة أولي الأمر واجبة،69/11:رشيدية)
وفي الدر مع الرد:
’’قوله:( أمر السلطان إنما ينفذ ) أي يتبع ولا تجوز مخالفته وسيأتي قبيل الشهادات عند قوله أمرك قاض بقطع أو رجم الخ التعليل بوجوب طاعة ولي الأمر  وفي ط عن الحموي أن صاحب البحر ذكر ناقلا عن أئمتنا أن طاعة الإمام في غير معصية واجبة فلو أمر بصوم يوم وجب‘‘.(كتاب القضاء، مطلب طاعة الإمام واجبة، 132/8:رشيدية).فقط.واللہ تعالیٰ اعلم بالصواب.

اگر آپ نے باقاعدہ مکمل طور پر ڈاکٹری نہیں کی ہے یا کسی ماہر ڈاکٹر کے یہاں رہ کر ۱۵-۲۰سال تک پریکٹس نہیں کی ہے نہ آپ پاس کوئی سرٹیفکیٹ ہے تو آپ کے لیے کسی مریض کو اپنی تشخیص سے دوا دینے کا قانوناً حق نہیں ہے، اگر کسی مریض کو نقصان پہنچا تو اس کا وبال آپ کے اوپر آئے گا۔ ویسے اب تک جو دوا دے کر آپ نے پیسے نفع کے لیے ہیں وہ نفع آپ کے لیے حرام نہیں ہے، بلکہ حلال ہے۔
واللہ تعالیٰ اعلم
جواب نمبر: 147506
دارالافتاء،
دارالعلوم دیوبند


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...