আসসালামু আলাইকুম।
আমার বাবা নেশাখোর, জালিম। দাদার ৩০ বিঘা সম্পদ বিক্রি করছে আর খেয়েছে সারাজীবন, অথচ আমরা সন্তানেরা এতিমের মতো বড় হয়েছি, না খেয়ে থেকেছি। শখ আহ্লাদ তো দূরের কথা, খাবারই পাইনি। অন্যের থেকে নিয়ে, কাজ করে, বেতন না দিয়ে পড়াশোনা চালিয়েছি। আমার দাদা আমাকে কিছু জমি দিয়েছিলো, আমার বাবা নিজের জমি তো বিক্রি করছেই, আমার গুলোও অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে। মানে নিজের জমি বিক্রি করছে, বদলে দখল দিয়েছে আমারটা। সেই জমি আজও পাইনি। যারা আমাকে জমি দিচ্ছেনা আমার বাবা তাদের কথা মতোই চলে।
আমি বিয়ে করেছি। একসময় চাকরি করে সব টাকা মায়ের হাতে তুলে দিতাম, আর স্ত্রীকে স্যাক্রিফাইস করতে বলতাম। আমার পরিবার আমার স্ত্রীর প্রতি এতোটা জুলুম করেছে যে সে বাচ্চা হওয়ার পর পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত হয়। ২ বছর বাচ্চার বয়স, এখনো সে সম্পূর্ণ সুস্থ নয়। আমার পরিবার বা মায়ের কথা শুনলেই সে অস্থির হয়ে যায়, অস্বাভাবিক আচরণ করে, নিজেকে কষ্ট দেয়, সব ছেড়ে চলে যেতে চায়। আমার কোনো বাড়ি নেই, বাবার যে বাড়ি আছে সেখানে আমার কোনো অধিকার নেই। বাবা বলেছে, আমার ভবিষ্যৎ আমার, তার ভবিষ্যৎ তার। আমি ভাড়া বাসায় থাকি, আর গ্রামে গেলে শ্বশুরবাড়ি থাকি। আমার বাবা মা দুজনেই আমার হক্ব নষ্ট করেছে। আমি একটা বেকার ছেলে, চাকরির চেষ্টা করছি, ব্যবসার চেষ্টা করছি, তারা আমাকে ১ টাকাও সাহায্য না করে আমার বোনেদের জামাইদের দেয়, যতটুকু দেয় বোনদের দেয়। আমার জন্য কিছু নেই। আমার মা কতটা স্বার্থপর, আমার বাবা বসতবাড়ির সামনের জমি বিক্রি করছে, আমার মা আমাকে বলে, আমার শেষ সম্বল কয়েক শতক জমি আছে, সেই জমি বদল দিয়ে তাদের যেনো বসতবাড়ির সামনের অংশ ফেরত নিয়ে দেই।
আমার একটা সন্তান আছে, তার খোজ কেউ নেয়না। আমার স্ত্রীর সন্তান হওয়ার পর আমার মাকে অনেক অনুরোধ করেও কয়েকটা দিন আমাদেরর কাছে রাখতে পারিনি। অথচ সেই একই মা আমার বোনের সন্তান হওয়ার পর দিব্যি তার কাছে গিয়ে আছে।
এখন আমার স্ত্রী সন্তানকে রাখার জন্য একটা বাড়ি করতে হবে টাকা জমিয়ে। আমাদের করে খাওয়া নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আমি তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখতে চাইনা। ফোন দিলে কথা বলি, দেখা হলে কথা বলি। কিন্তু তাদের কোনো দেখভাল আমি করবোনা। তারা কল দিলে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যায়, যেহেতু তার মানসিক সমস্যা। নিজের উপর হওয়া সব জুলুমের কথা বলতে থাকে। আমার স্ত্রী চায়না আমি তাদের সাথে মিশি। আমি তাদের বাড়িতে যাইনা, আমার ঘৃণা লাগে। আমার উপর যত জুলুম সবাই মিলে করেছে সব এখানে লিখলে অনেক বড় হয়ে যাবে। এমতাবস্থায়, আমি বা আমার স্ত্রী কি গুনাহগার হবো?
বি.দ্র: বিয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত থাকা খাওয়া সহ অন্যান্য খরচ আমার শ্বশুর টাকা, চাল, ফসল দিয়ে সাহায্য করতেছে। আমার স্ত্রী একটা চাকরি করে, সেটা দিয়ে আমরা চলি। আমিও এখন ব্যবসা শুরু করছি। এই স্ত্রী আমার প্রতিটা বিষয়ে পাশে থেকেছে খেয়ে না খেয়ে। আর আমার বাবা মা শুধু তাদের খাওয়ার ধান্দা, টাকা দিলে তারা খুশি, না দিলে বেজার। আগে যখন চাকরি করতাম, সব টাকা মায়ের কাছে দিতাম। মা ইচ্ছামতো খরচ করতো, বোনেদের দিতো, আমি কিছুই বলতামনা। সেই বোনেরাও স্বার্থের প্রশ্নে আমার বিরুদ্ধে।