আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
61 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (11 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমার বাবা নেশাখোর, জালিম। দাদার ৩০ বিঘা সম্পদ বিক্রি করছে আর খেয়েছে সারাজীবন, অথচ আমরা সন্তানেরা এতিমের মতো বড় হয়েছি, না খেয়ে থেকেছি। শখ আহ্লাদ তো দূরের কথা, খাবারই পাইনি। অন্যের থেকে নিয়ে, কাজ করে, বেতন না দিয়ে পড়াশোনা চালিয়েছি। আমার দাদা আমাকে কিছু জমি দিয়েছিলো, আমার বাবা নিজের জমি তো বিক্রি করছেই, আমার গুলোও অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে। মানে নিজের জমি বিক্রি করছে, বদলে দখল দিয়েছে আমারটা। সেই জমি আজও পাইনি। যারা আমাকে জমি দিচ্ছেনা আমার বাবা তাদের কথা মতোই চলে।

আমি বিয়ে করেছি। একসময় চাকরি করে সব টাকা মায়ের হাতে তুলে দিতাম, আর স্ত্রীকে স্যাক্রিফাইস করতে বলতাম। আমার পরিবার আমার স্ত্রীর প্রতি এতোটা জুলুম করেছে যে সে বাচ্চা হওয়ার পর পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত হয়। ২ বছর বাচ্চার বয়স, এখনো সে সম্পূর্ণ সুস্থ নয়। আমার পরিবার বা মায়ের কথা শুনলেই সে অস্থির হয়ে যায়, অস্বাভাবিক আচরণ করে, নিজেকে কষ্ট দেয়, সব ছেড়ে চলে যেতে চায়। আমার কোনো বাড়ি নেই, বাবার যে বাড়ি আছে সেখানে আমার কোনো অধিকার নেই। বাবা বলেছে, আমার ভবিষ্যৎ আমার, তার ভবিষ্যৎ তার। আমি ভাড়া বাসায় থাকি, আর গ্রামে গেলে শ্বশুরবাড়ি থাকি। আমার বাবা মা দুজনেই আমার হক্ব নষ্ট করেছে। আমি একটা বেকার ছেলে, চাকরির চেষ্টা করছি, ব্যবসার চেষ্টা করছি, তারা আমাকে ১ টাকাও সাহায্য না করে আমার বোনেদের জামাইদের দেয়, যতটুকু দেয় বোনদের দেয়। আমার জন্য কিছু নেই। আমার মা কতটা স্বার্থপর, আমার বাবা বসতবাড়ির সামনের জমি বিক্রি করছে, আমার মা আমাকে বলে, আমার শেষ সম্বল কয়েক শতক জমি আছে, সেই জমি বদল দিয়ে তাদের যেনো বসতবাড়ির সামনের অংশ ফেরত নিয়ে দেই।

আমার একটা সন্তান আছে, তার খোজ কেউ নেয়না। আমার স্ত্রীর সন্তান হওয়ার পর আমার মাকে অনেক অনুরোধ করেও কয়েকটা দিন আমাদেরর কাছে রাখতে পারিনি। অথচ সেই একই মা আমার বোনের সন্তান হওয়ার পর দিব্যি তার কাছে গিয়ে আছে।

এখন আমার স্ত্রী সন্তানকে রাখার জন্য একটা বাড়ি করতে হবে টাকা জমিয়ে। আমাদের করে খাওয়া নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আমি তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখতে চাইনা। ফোন দিলে কথা বলি, দেখা হলে কথা বলি। কিন্তু তাদের কোনো দেখভাল আমি করবোনা। তারা কল দিলে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যায়, যেহেতু তার মানসিক সমস্যা। নিজের উপর হওয়া সব জুলুমের কথা বলতে থাকে। আমার স্ত্রী চায়না আমি তাদের সাথে মিশি। আমি তাদের বাড়িতে যাইনা, আমার ঘৃণা লাগে। আমার উপর যত জুলুম সবাই মিলে করেছে সব এখানে লিখলে অনেক বড় হয়ে যাবে। এমতাবস্থায়, আমি বা আমার স্ত্রী কি গুনাহগার হবো?

বি.দ্র: বিয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত থাকা খাওয়া সহ অন্যান্য খরচ আমার শ্বশুর টাকা, চাল, ফসল দিয়ে সাহায্য করতেছে। আমার স্ত্রী একটা চাকরি করে, সেটা দিয়ে আমরা চলি। আমিও এখন ব্যবসা শুরু করছি। এই স্ত্রী আমার প্রতিটা বিষয়ে পাশে থেকেছে খেয়ে না খেয়ে। আর আমার বাবা মা শুধু তাদের খাওয়ার ধান্দা, টাকা দিলে তারা খুশি, না দিলে বেজার। আগে যখন চাকরি করতাম, সব টাকা মায়ের কাছে দিতাম। মা ইচ্ছামতো খরচ করতো, বোনেদের দিতো, আমি কিছুই বলতামনা। সেই বোনেরাও স্বার্থের প্রশ্নে আমার বিরুদ্ধে।

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/18346/ ফতোয়ায় উল্লেখ রয়েছেঃ 
আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা নাজায়েজ,এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাঃ অনেক কঠোরভাষা ব্যবহার করেছেন।

হাদীস শরীফে এসেছে  

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم قَالَ " لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ " . - صحيح

জুবাইর ইবনু মুত্বঈম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

.(বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ১৯-(২৫৫৫), আবূ দাঊদ ১৬৯৬, তিরমিযী ১৯০৯, সহীহুল জামি‘ ৭৬৭১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৫৪০ সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৪৫, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ২০২৩৪, মুসনাদুল বাযযার ৩৪০৫, আহমাদ ১৬৭৩২, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৭৩৯২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৫৪, শু‘আবুল ঈমান ৭৯৫২, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৪৯১, আর মু‘জামুল আওসাত্ব ৯২৮৭।)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনারা এখন যেভাবে চলতে চাচ্ছেন এতে আপনাদের কোন গুনাহ হবে না। তবে কথা বলা একেবারে বন্ধ করা যাবেনা।
মাঝে মাঝে ফোনে হলেও কথা বার্তা বলে সালাম বিনিময় করবেন।

আপনি আপনার জায়গা হতে চেষ্টা করবেন, মাঝে মাঝে বাবা-মার সাথে কথা বলে তাদের সুখে দুখে সাধ্যের মধ্যে থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...