আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
1,107 views
in সাওম (Fasting) by (1 point)
আস সালামু আলাইকুম। আমার হজ্জ এর শর্ত হিসেবে করোনার টিকা নিতে হবে। এখন আমার টিকার ডেইট রমজানে পরে যেতে পারে। ইসলামিক ফাউণ্ডেশন থেকে যদিও বলা হয়েছে যে রোজা রেখে করোনার টিকা নেওয়া যাবে কিন্তু কিছু আলেম এর বিরোধিতা করছেন। তাই আমি জানতে চাচ্ছি যে আসলেই রোজা রেখে করোনার টিকা নেওয়া যাবে কিনা?

জাযাকাল্লাহু খইরন

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
ইনজেকশনের শরয়ী হুকুম বুঝতে হলে প্রথমে দু’টি বিষয় বুঝতে হবে। যথা-
১-ইনজেকশনের পদ্ধতিটি কি রোযায় কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে কি না?
২-কোন উদ্দেশ্যে ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে? মাকসাদের ভিন্নতার কারণে ইনজেকশনের হুকুমে কোন ভিন্নতা আসবে কি না?

ইনজেকশনের পদ্ধতি
বিজ্ঞ ডাক্তারদের বক্তব্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতার দ্বারা একথাই প্রমাণিত যে, ইনজেকশন কয়েকভাবে দেয়া হয়। যেমন-
ক-গোস্তে ইনজেকশন দেয়া।
খ-চামড়া ও গোস্তের মাঝামাঝি ইনজেকশন দেয়া।
গ-সরাসরি পেটে।
ঘ-অধিকাংশ সময় রগের মাঝে দেয়া হয়।

এবার ভাবার বিষয় হল-এ চার ধরণের ইনজেকশনের হুকুম কি?
এর সহজ জবাব হল-ইনজেকশন চাই রগে দেয়া হোক, যেমন সাধারণত রোগীদের দেয়া হয়, বা চামড়া বা গোস্তে দেয়া হোক, বা পেটে দেয়া হোক যেমন কুকুর কামড়ালে পেটে ইনজেকশন দেয়া হয়, এ সকল সুরতে হুকুম হল এসব কারণে রোযা ভঙ্গ হবে না।ইনজেকশনের ব্যাপারে জমহুর ওলামাদের রায় এটাই যে, এর দ্বারা রোযা ভঙ্গ হয় না। যারা এ মতের উপর ফাতওয়া দিয়েছেন তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা
১-ইমদাদুল ফাতওয়া-২/১৪৪-১৪৭
২-ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ-৬/৪০-৪০৯
৩-ফাতওয়া রহিমিয়া-৭/২৫৭
৪-আহসানুল ফাতওয়া-৪/৪২২
৫-কিফায়াতুল মুফতী-৪/২৫৩
৬-ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-১৫/১৭৩-১৭৯
৭-ফাতওয়ায়ে হক্কানী-৪/১৬২-১৬৩
৮-আপকি মাসায়িল আওর উনকা হল্ল-৩/২১২
৯-জাদিদ ফিক্বহী মাসায়িল-১/১২২-১২৪
১০-ফাতওয়া মুফতী মাহমুদ-৩/৪৮৮-৪৮৯
১১-কিতাবুল ফাতওয়া-৩/৩৯১-৩৯২
১২-ফাতওয়া উসমানী-২/১৮১-১৮৬
১৩-ইমদাদুল ফাতওয়া-৩/১৩৩-১৩৪
১৪-খাইরুল ফাতওয়া-৪/৭৪

لما فى الفتاوى الهندية:
"ولو أقطر شيئًا من الدواء في عينه لايفطر صومه عندنا، وإن وجد طعمه في حلقه، وإذا بزق فرأى أثر الكحل، ولونه في بزاقه عامة المشايخ على أنه لايفسد صومه، كذا في الذخيرة، وهو الأصح هكذا في التبيين."(کتاب الصوم، الباب الرابع فيما يفسد وما لا يفسد، ج: 1، صفحہ: 203، ط: دار الفکر)

وفى فتاوی رحیمیة: (7/264):
"دوا بذریعہ انجکشن رگوں میں پہنچنا مفسدِ  صوم نہیں ہے،فسادِ  صوم کے ليے مفطر کا جوف دماغ یا معدہ میں پہنچنا ضروری ہے اور وہ یہاں پایا نہیں جاتا ، إن العبرۃ للوصول إلی الجوف و الدماغ. دیکھیے  سوراخِ ذکر میں دوا ٹپکانے سے روزہ فاسد نہیں ہوتا؛ اس لیے کہ گو د وا  اندرونِ  بدن گئی،  لیکن مثانہ سے آگے (معدہ میں ) نہیں پہنچتی ۔"
عالمگیری ج ۱ ص ۲۰۴ الباب الرابع فیما یفسد وما لا یفسد)  

وفى بدائع الصنائع:
ما وصل إلى الجوف أو إلى الدماغ عن المخارق الأصلية كالأنف والأذن والدبر بأن استعط أو احتقن أو أقطر في أذنه فوصل إلى الجوف أو إلى الدماغ فسد صومه وأما ما وصل إلى الجوف أو إلى الدماغ عن غير المخارق الأصلية بأن داوى الجائفة، والآمة، فإن داواها بدواء يابس لا يفسد لأنه لم يصل إلى الجوف ولا إلى الدماغ ولو علم أنه وصل يفسد
(بدا ئع الصنائع، کتاب الصیام،فصل فی ارکان الصیام ، جلد2، صفحہ603 ، مطبوعہ کوئٹہ)

لمافی الھندیۃ(۲۰۳/۱): ومایدخل من مسام البدن من الدھن لایفطر ھکذا فی شرح المجمع ومن اغتسل فی ماء وجد بردہ فی باطنہ لا یفطرہ۔

وفی الشامیۃ(۳۹۶،۳۹۵/۲): والمفطرانماھوالداخل من المنافذللا تفاق علی ان من اغتسل فی ماء فوجدبردہ فی باطنہ انہ لایفطر۔


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 334 views
0 votes
1 answer 351 views
...