আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
62 views
in পবিত্রতা (Purity) by (41 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ্।
আমার প্রতিমাসে সাধারণত মাসিক বা হায়েজ হয় ৩০-৩৫ দিন সময় পর পর। কিন্তু  গত মাসে আর এই মাসে হঠাৎ করে ২৮ দিন পরে সামান্য একটু রক্ত দেখা গিয়েছে। আর এবার একদিন আর ১ম  দিন রাতেই রং টা ঘোলাটে ছিল একবার। এরপর থেকে আর কিছু দেখা য়ায়নি। গত মাসেও একই সমস্যা হয়েছিলো ১ দিন  একটু রক্ত দেখা গিয়েছিলো পরে আর দেখা যায় নি। সাদাস্রাবের মতোই দেখা গিয়েছে। তবুও ১ ম দিন রক্ত দেখার কারনে,  হায়েজ ভেবে ৩ দিন সলাত আদায় করিনি। কার হাদিসে আছে হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন। কিন্তু দেখি যে এর ৫,৭ দিন পরে আবারও হায়েজ হয়েছে আর  তা স্বাভাবিক ভাবে যেমন রক্ত আসে তেমনি হয়েছিল।  আর তা স্থায়ি ছিলো ৮,৯ দিন।
পরে আগের ৩ দিন যেটা হায়েজ ধরেছিলাম ওটাকে অসুস্থা ধরে পূর্বের ৩ দিনের সলাত কাযা আদায় করে নিয়েছিলাম আলহামদুলিল্লাহ।  আর পরের ৮,৯ দিনের রক্ত টা কে মাসিক ধরেছিলাম। কিন্তু আবার এ মাসে একই সমস্যা দেখতেছি।

*** বলে রাখা ভালো আমার গত ৪,৫ বছর হায়েজের সমস্যা ছিলো খুবই।  মাসে ৮,১০ দিন পর পর হতো। তখন ১৫ দিন পর পর হিসেব করে সলাত আদায় করতাম। কিন্তু অনেক চিকিৎসা আর চেষ্টায় আল্লাহর রহমতে গত ১১ মাস ৩৫ দিন পর পর হায়েজ বা মাসিক হয়েছিল আর থাকতো ৮,৯ দিন করে৷  সুস্থ হওয়ার ১১ মাস পর আবার নতুন করে দেখতেছি এই সমস্যা হচ্ছে।  স্বাভাবিক হায়েজের ৫,৭ দিন আগে একবার করে সামান্য রক্ত দেখা যাচ্ছে।***
প্রশ্নঃ এখন আমি কি এই ২৮ দিন  পরে মাসিকের আগে যে ১দিন রক্ত দেখা যাচ্ছে এটাকে অসুস্থা ধরবো নাকি হায়েজ ধরবো?
এটার ৫,৭ দিন পরে কিন্তু আবার স্বাভাবিক হায়েজয়ের মতো রক্ত আসে।
যদিও আমি এটা জানি ১৫ দিন পর হলেই ওটাকে হায়েজ বা মাসিক বলে।
কিন্তু আমার প্রশ্ন হলোঃ এটায় তো স্বভাবিক ভাবে যেমন মাসিক হয় রক্ত আসে ওটার মতো হয় না রক্ত।  সামান্য একটু একদিনই একবারই দেখা যায়। এটাকে আমি হায়েজ বা মাসিক ধরবো নাকি এটার ৫,৭ দিন পরে স্বাভাবিক ভাবে যেটা হয় হায়েজের মতো রক্ত আসে আর থাকেও ৮,৯ দিন করে। নাকি আমি  পরের টাকে  হায়েজ ধরবো?
আশা করি আমার প্রশ্নটি বুঝেছেন।
জাজাকুমুল্লাহ খইরন।

1 Answer

0 votes
by (764,190 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তুহর তথা দুই হায়েজের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সীমা পনেরো দিন।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটি হায়েজ নয়,বরং সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এই সময়ে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।    
হজরত হান্নাদ [রহ] আম্মাজান আয়েশা [রা]-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা বিনতে হুবাইশ নামক এক নারী একবার রাসুল [সা]-এর সমীপে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি কি নামাজ পড়া ছেড়ে দেবো? রাসুল [সা] বললেন, না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয়; বরং এ হলো শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে দিনগুলি নামাজ ছেড়ে দেবে। আর হায়েযের দিন চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করবে। [তিরমিজি, হাদিস-১২৫]
,
আরো জানুনঃ   

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ঐ একবার ব্লাড আসার  ৫,৭ দিন পরে স্বাভাবিক ভাবে যেটা হয় হায়েজের মতো রক্ত, আর থাকেও ৮,৯ দিন করে,সেটিকে হায়েজ ধরবেন। 

চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (41 points)
আপনাকে অনেক অনেক জাযাকুমুল্লাহ খইরন উস্তাদ।  আপনার উওর পেয়ে খুবই উপকৃত হলাম আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ সুুম্মা আলহামদুলিল্লাহ।  
by (41 points)
আপনাকে অনেক অনেক জাযাকুমুল্লাহ খইরন উস্তাদ। আপনার উওর পেয়ে খুবই উপকৃত হলাম আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ সুুম্মা আলহামদুলিল্লাহ।  

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...