আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
65 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম।
স্বামী প্রবাসী। স্ত্রীকে ঝগড়ার সময়ে 'তালাক' লিখে ম্যাসেজ দেন। স্ত্রী জিজ্ঞেস করেন কাকে তালাক, স্পষ্ট করতে। স্বামী কোনো উত্তর দেয়নি। উলটো স্বামী স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে তালাক হয়ে গেছে না? স্ত্রী এটার কোনো উত্তর দেয়নি।
তারপর স্বামী বলেন "তালাক তো দিয়েই দিলাম অথবা তালাক তো হয়েই গেলো"৷ এ দুটোর যেকোনো একটা কথা বলেছে। স্ত্রীর স্পষ্ট মনে নেই।।

এরপর ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী বলেন " তালাক দিলাম" স্ত্রী জিজ্ঞেস করেন কাকে, স্বামী বলেন "তোমাকে তালাক দিলাম". পুরোটা কথা ফোনে হয়েছে।
আসলে কত তালাক হয়েছে?

ইদ্দতের ১ মাস চলছে। স্বামী স্ত্রী দুইজনই মিলে যেতে চাচ্ছে। মিলে যাওয়ার সুযোগ আছে কি? আর স্বামী যেহেতু প্রবাসী, তিনি এই মুহূর্তে বা আগামী কয়েক মাসে দেশে আসতে পারবেন না। ফোনে কথা বলে কি মিলে যাওয়া যাবে?

আর বর্তমানে কথা বলে স্বামী জানিয়েছেন " তালাক" লিখে যে ম্যাসেজটা তিনি দিয়েছেন সেখানে তার তালাক দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল না।

1 Answer

0 votes
by (765,690 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آَتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (229)

"এ তালাক দু'বার, অতঃপর স্ত্রীকে হয় বিধিসম্মতভাবে রাখবে অথবা সদয়ভাবে বিদায় দেবে। আর স্ত্রীকে দেয়া কোন কিছু ফেরৎ নেয়া তোমাদের পক্ষে উচিত নয়। তবে যদি তাদের উভয়ের আশংকা হয় যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না এবং তোমরা যদি আশংকা কর যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না, তবে (সে অবস্থায়) স্ত্রী কোন কিছুর বিনিময়ে (স্বামী থেকে) নিষ্কৃতি পেতে চাইলে তাতে (স্বামী-স্ত্রীর) কারো কোনো পাপ নেই। এসব আল্লাহর সীমারেখা। কাজেই তা লংঘন কর না। যারা আল্লাহর (নির্দিষ্ট) সীমারেখা লংঘন করে তারাই অত্যাচারী।" (সুরা বাকারা ২২৯)

তালাক এটি খুবই মারাত্মক একটি শব্দ। নিকৃষ্ট হালাল বলা হয়েছে হাদীসে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُعَرِّفِ بْنِ وَاصِلٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَبْغَضُ الْحَلاَلِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الطَّلاَقُ " .

কাসীর  ইবন  উবায়দ .......... ইবন  উমার  (রাঃ)  নবী  করীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  হতে  বর্ণনা  করেছেন যে,  আল্লাহ্  তা‘আলার  নিকট  নিকৃষ্টতম  হালাল বস্তু  হল  তালাক।

(আবূ দাউদ ২১৭৮, ইরওয়া ২০৪০, যইফ আবু দাউদ ৩৭৩-৩৭৪, আর-রাদ্দু আলাল বালীক ১১৩।) 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: الطَّلَاقُ، وَالنِّكَاحُ، وَالرَّجْعَةُ “

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তিনি বিষয় এমন যে, ইচ্ছেকৃত করলে ইচ্ছেকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছেকৃত বলে ধর্তব্য হয়। তা হল, তালাক, বিবাহ এবং তালাকে রেজয়ীপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৯৪}

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখ রয়েছেঃ- 

ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী বলেন " তালাক দিলাম" স্ত্রী জিজ্ঞেস করেন কাকে, স্বামী বলেন "তোমাকে তালাক দিলাম"

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে "তোমাকে তালাক দিলাম" বলার ক্ষেত্রে স্বামী যদি স্বতন্ত্র আরও এক তালাকের নিয়ত না করে থাকে সেক্ষেত্রে প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে স্ত্রীর উপর ২ তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে।

এক্ষেত্রে ইদ্দত-এর (৩ হায়েজের) মধ্যেই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চাইলে মৌখিক ভাবে স্ত্রীকে ফোনে ফিরিয়ে নিলাম বললেই হবে,অথবা স্ত্রীর ইদ্দত চলাকালীন সময়ের মধ্যেই দেশে এসে স্ত্রীর সাথে স্বামী সুলভ দৈহিক আচরণ করলেই হবে।

আর যদি ইদ্দতকাল অতিবাহিত হওয়ার পর ফিরিয়ে নিতে চায়,সেক্ষেত্রে নতুন করে বিবাহ পড়িয়ে নিতে হবে। 

রজ'আত সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...