আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
90 views
in সালাত(Prayer) by (30 points)
আসসালামু আ'লাইকুম।
১. নামাজে উপরের দুই দাঁতের মাঝের অবস্থান আমি প্রায়ই খুজে পাইনা। তাই লাম, নুন এসব হরফে সন্দেহ হয়। তাই প্রায়ই আমি মুখ দিয়ে নামাজের কথাগুলো উচ্চারণ করার আগে জিহ্বা দিয়ে উপরের দুই দাঁতের মাঝের জায়গাটাতে লাগাই। মাঝেমাঝে এটা একটানা ৩বার বা তার বেশি হয় তিন তাসবিহ। এতে কি আমলে কাসীর হবে?

২. মাঝেমাঝে আমার নামাজের হিজাবের থুতনির জায়গাটা টাইট হয়ে যায়, তখন আমি হাত না লাগিয়ে থুতনিটাই নিজেনিজে ডানেবামে নাড়াই টাইটটা ঢিলা বা আরামদায়ক করার জন্য। এক্ষেত্রে তিনবারের বেশি হলে কি আমলে কাসীর হবে?
হলে তিনবার কীভাবে গুনব? একবার সম্পূর্ণ ডান থেকে বামে আনলেই একবার হবে, নাকী একবার ডান থেকে বামে এনে আবার বাম থেকে ডানে নিলে হবে?

৩. আমার নামাজের পায়জামার নিচদিকে পায়ের তলার অংশ সেলাই করা যাতে পা বের না হয়। এই পায়জামার কাপড়টিতে সুতা দিয়ে অনেক মোটা মোটা উঁচু ডিজাইন আছে। এখন যদি নামাজের সময় এই ডিজাইনগুলো পায়ের নিচে পড়ে তাহলে কি নামাজে সমস্যা হবে?

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
নামাযে যেকোনো ভুলের কারণে সেজদা সাহু ওয়াজিব হয়ে যায় না। বরং ভুলে নামাযের কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে কিংবা কোনো ফরয বা ওয়াজিব বিলম্বিত হলে ওয়াজিব হয়। আর যদি ভুলে কোনো ফরয ছুটে যায়, তবে সেজদা সাহু করা যথেষ্ট নয়, বরং পুনরায় নামায আদায় করতে হবে। আর কোনো সুন্নত বা মুস্তাহাব ছুটে গেলে সেজদা সাহু করার বিধান নেই। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك بن أنس، عن ابن شهاب، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبد الله بن بحينة رضي الله عنه، أنه قال: صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين من بعض الصلوات، ثم قام فلم يجلس، فقام الناس معه، فلما قضى صلاته ونظرنا تسليمه كبر قبل التسليم، فسجد سجدتين وهو جالس، ثم سلم.

আবদুল্লাহ ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নামায আমাদের দুই রাকাত পড়ান। তারপর না বসে দাঁড়িয়ে যান। মুকতাদীরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যায়। যখন তিনি নামায পূর্ণ করলেন এবং আমরা তাঁর সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম তখন সালাম ফিরানোর আগে তাকবীর দিলেন এবং বসা অবস্থায় দুটি সেজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন। 
(সহীহ বুখারী, হাদীস ১২২৪ সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৭০)

https://ifatwa.info/5487/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
নামাজের ভিতর এক রুকন সমপরিমাণ চুপ থাকলে সেজদায়ে  সাহু ওয়াজিব হয়।

(এক রুকন= ছহীহ শুদ্ধ ভাবে তিন বার سبحان ربي العظيم  পড়া সমপরিমাণ সময়) 

الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) 
(2/ 93):
"أداء ركن ولم يشتغل حالة الشك بقراءة ولا تسبيح) ذكره في الذخيرة (وجب عليه سجود السهو في) جميع (صور الشك) سواء عمل بالتحري أو بنى على الأقل، فتح ؛ لتأخير الركن، لكن في السراج أنه يسجد للسهو في أخذ الأقل مطلقاً، وفي غلبة الظن إن تفكر قدر ركن.
(و) اعلم أنه (إذا شغله ذلك) الشك فتفكر (قدر... الخ
(قوله واعلم إلخ) قال في المنية وشرحها الصغير: ثم الأصل في التفكر أنه إن منعه عن أداء ركن كقراءة آية أو ثلاث أو ركوع أو سجود أو عن أداء واجب كالقعود يلزمه السهو لاستلزام ذلك ترك الواجب وهو الإتيان بالركن أو الواجب في محله، وإن لم يمنعه عن شيء من ذلك بأن كان يؤدي الأركان ويتفكر لايلزمه السهو".

সারমর্মঃ- নামাজে এক রুকন সমপরিমাণ সময় কেরাত/তাসবিহ না করে চুপ থাকলে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। 

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি তিন তাসবিহ বা তারও অধিক সময় চুপচাপ অতিবাহিত হয়,যবান দিয়ে কোনো আয়াত উচ্চারণ না করে,সেক্ষেত্রে আপনার উপর সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। 

এক্ষেত্রে আমলে কাসির হবেনা। 

(০২)
প্রশ্নের বিবরণ মতে এক্ষেত্রে আমলে কাসীর হবেনা।

(০৩)
এক্ষেত্রে নামাজের সমস্যা হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (30 points)
হুজুর চুপ থাকা নয়, বারবার জিহ্বা উপরের তালুতে লাগাই, আবার সরিয়ে ফেলি। মুখ খোলা থাকে হালকা। বাইরে থেকে দেখে মনে হতে পারে আমি নামাজের বাইরেও জিহ্বা নাড়াচ্ছি যেহেতু, হয়তো কিছু বলছি৷ এতে কি আমলে কাসীর হবে?
by (769,290 points)
সেই সময় যেহেতু আপনার তেলাওয়াত চালু ছিল, তাই এতে আপনার নামাজ ভেঙ্গে যাবে না।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 564 views
0 votes
1 answer 92 views
0 votes
1 answer 132 views
...