আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
39 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (34 points)
আসসালামু আ'লাইকুম। আমি মানুষের যে যে হক নষ্ট করেছি সেগুলো একটু বিস্তারিত লিখি-

১. প্রায়ই বিভিন্ন ফানি বা অন্যান্য ভিডিও-রিলস দেখে অনেক পাবলিক নেতা বা নায়ক-নায়িকাদের হাস্যকর কান্ড নিয়ে হাসিঠাট্টা বা সমালোচনা করেছি। হয়তো কেউ একটা বানান ভুল করেছে বা বোকামি করেছে, বা একজন আরেকজনকে পঁচাচ্ছে। এগুলো পরিমাণে বিশাল। এবং তাদের থেকে মাফ চাওয়া প্রায় অসম্ভব। এগুলো কি গীবত? গীবত হলে এগুলোর ক্ষেত্রে কীভাবে কাফফারা দিব?
সদকা করে তাদেরকে সেই সদকার সওয়াব দেয়ার জন্য এত টাকা তো নেই, ইস্তিগফার/ দরুদ পড়ে সওয়াব তাদেরকে দিয়ে দেয়া যাবে?
(উল্লেখ্য যে, প্রকাশ্য খারাপ কাজগুলোর সমালোচনার উদ্দেশ্য বেশিরভাগসময় ছিল সচেতনতা সৃষ্টি করা, যে আমাদের জন্য ক্ষতিকর তাকে ক্ষতিকর হিসেবে পরিবারের কাছে তুলে ধরা। ট্রলগুলোরও একটা অংশ ইসলামবিদ্বেষীদের জবাব দেয়ার জন্য ছিল, তবে সব না)

২. প্রায়ই এমন হয় যে কেউ একজন নরমাল কথা বলতে বলতে হয়তো এমন অনুপস্থিত ব্যক্তিকে নিয়ে কথা বলে যে/যারা কোনো গুনাহ করছে। তো যারা এরকম ব্যক্তিদের নিয়ে কথা বলে তারা খুব নরমালি ওই গুনাহগুলো নিয়ে হেসে হেসে কথা বলে, তাদের প্রায়ই খেয়াল থাকেনা যে এগুলো গুনাহের কাজ৷ তখন আমি আমার মনে গুনাহের প্রতি অভ্যস্ততা চলে আসার ভয়ে একটু কড়া করে জোর দিয়ে বলি, যে তারা তো গুনাহের কাজ করছে। পয়েন্ট আউট করে বলি, যে এগুলো এগুলো গুনাহ৷ এগুলো আমি নিজের মনে যাতে গুনাহের গ্রহণযোগ্যতা চলে না আসে এজন্য বলি। গুনাহগুলো প্রকাশ্যও হতে পারে, আবার দুই-তিনজন জানি এমনও হতে পারে।
এগুলো কি গীবত হবে? হলে এরকম পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিত?

৩. প্রায় ২০ বছর আগে একজন ঝালমুড়িওয়ালা আমাকে ২টাকার মুড়ি বাকিতে দিয়েছিলেন, এরপরে আমি টাকা নিয়ে ওনাকে খুঁজলেও পাইনি৷ এক্ষেত্রে এটার কাফফারা কীভাবে দেব? আর কত টাকা দেব?

৪. আমার ভার্সিটির হলে একবার আমি ১ মাস ধরে রুমের লাইট জ্বালিয়ে রেখে চলে আসি। এটার কাফফারা কীভাবে দেব? একমাসের টাকা হিসাব করে দিয়ে দেব? দিলেও কার কাছে দেব? এই টাকার হক কি সব ছাত্রীর, নাকী খালা-ছাত্রী-ম্যানেজার সবার?

৫. একইসাথে এমন কয়েকবার হয়েছে যে আমাদের পানির ফিল্টার ছেড়ে রুমে চলে যাওয়ায়(ফিল্টার অনেক স্লো হওয়ায় সময় লাগে) আসার পরে দেখা গেছে পানি উপচে পড়ছে৷ এর কাফফারা কীভাবে দেব?

৬. একবার হলের কোনো এক ফ্লোরে গিয়ে দুই-একবার সিংকে রাখা একটা সাবান দিয়ে হাত/ প্লেট ধুই। কার সাবান জানা নেই, খোঁজাও হয়নি। এর কাফফারা কীভাবে দেব?

৭. একটা মেয়ে একবার আমার ভাড়া দিয়েছিল ১০ টাকা, প্রায় ৫ বছর আগে। এখন তাকে কত টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে?

৮. হলে পানি রাখার জায়গায় অনেকে বোতল রেখে যায়। একবার আমি পানি নিতে যাওয়ার সময় একজনের বোতল ধাক্কা লেগে অনেক নিচে ড্রেনে পড়ে যায়। কার বোতল, সেটা খোঁজা অনেক ঝামেলার ছিল। তখন আমি একইধরনের আরেকটা বোতল নিয়ে সেখানে রাখি, আর দেয়ালে একটা নোট লিখে রাখি, যে "স্যরি, বোতলটা পড়ে গেছে, এই বোতলটা নিতে পারেন" বা এমন কিছু। একটু পরে বোতলটা আর পাইনি, সম্ভবত সে নিয়ে গেছে(নিশ্চিত না)। এতে কি কাফফারা হয়েছে? আর যে বোতলটা পড়ে গেল সেটা তো ড্রেন ময়লা করেছে, এর কাফফারা কীভাবে দেব?

৯. আমভাবে আমি অনেক গীবত করেছি, অনেককে কষ্ট দিয়েছি জুলুম করেছি৷ অল্প কয়েকজন বাদে তেমন কারো নাম মনে নেই। এক্ষেত্রে কীভাবে কাফফারা দিতে পারি?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ

حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَيْءٍ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لاَ يَكُونَ دِينَارٌ وَلاَ دِرْهَمٌ إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلَمَتِهِ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِ

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোন বিষয়ে যুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ হতে মাফ করিয়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোন দ্বীনার বা দিরহাম থাকবে না। সে দিন তার কোন সৎকর্ম না থাকলে তার যুলুমের পরিমাণ তা তার নিকট হতে নেয়া হবে আর তার কোন সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ হতে নিয়ে তা তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। (বুখারী শরীফ ২৪৪৯.৬৫৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৮৭)

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ؟» . قَالُوا: الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهُ وَلَا مَتَاعَ. فَقَالَ: «إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ يَأْتِي يَوْم الْقِيَامَة بِصَلَاة وَصِيَام وَزَكَاة وَيَأْتِي وَقَدْ شَتَمَ هَذَا وَقَذَفَ هَذَا. وَأَكَلَ مَالَ هَذَا. وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يَقْضِيَ مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرح فِي النَّار» . رَوَاهُ مُسلم

আবূ হুরায়রা (রাঃ)] হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কি জানো, (প্রকৃত) গরীব কে? সাহাবায়ে কিরাম বললেনঃ আমরা তো মনে করি, আমাদের মধ্যে যার টাকা-পয়সা, ধনদৌলত নেই, সে-ই গরীব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি গরীব হবে, যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে সালাত, সিয়াম ও যাকাত আদায় করে আসবে; কিন্তু সাথে সাথে সেসব লোকেদেরকেও নিয়ে আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো অপবাদ রটিয়েছে, কারো সম্পদ খেয়েছে, কাউকে হত্যা করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে; এমন ব্যক্তিদেরকে তার নেকীগুলো দিয়ে দেয়া হবে। অতঃপর যখন তার পুণ্য শেষ হয়ে যাবে অথচ পাওনাদারদের পাওনা তখনো বাকি, তখন পাওনাদারদের গুনাহ তথা পাপ তার ওপর ঢেলে দেয়া হবে, আর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

(মুসলিম ৫৯-(২৫৮১), তিরমিযী ২৪১৮, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৮৪৫, সহীহুল জামি‘ ৮৭, সহীহ আত্ তারগীব ২২২৩, শু‘আবুল ঈমান ৩৩, আহমাদ ৮০২৯, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৬৪১৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৪১১, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ৫৬১, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ২৭৭৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১১৮৩৮।)

জাবের (রাঃ) বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, কোন জান্নাতবাসী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ তার উপর কোন জাহান্নামবাসীর দাবী অবশিষ্ট থাকবে। আর কোন জাহান্নামবাসীও জাহান্নামে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ তার উপর কোন জান্নাতবাসীর দাবী অবশিষ্ট থাকবে। আমি বললাম, সে দাবী কিভাবে মিটমাট করবে, যেখানে আমরা সকলে উত্থিত হব আল্লাহর সমীপে সহায়-সম্বলহীনভাবে? তিনি বলেন, নেকী ও গোনাহ দ্বারা’ (আহমাদ হা/১৬০৪২; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৯৭০; ছহীহুত তারগীব হা/৩৬০৮)।

মানুষের সাথে জড়িত হকের গুনাহ বলতে যেসব গুনাহ বুঝায়,
যেমন:- লেনদেনে ধোঁকা, বাটপারি, চিটারি করা, কথা দিয়ে কথা না রাখা, কথায় কথায় অভিশাপ দেওয়া, কথার খোটা বা গালি-গালাজ করা, হিংসা বা নিন্দা করা, হেয় মনে করে, মিথ্যা কথা বলা, কারো প্রতি মিথ্যারোপ করা, অন্যের ছবি বিকৃত করা, অন্যের ক্ষতি করা, কাউকে ধোঁকা দেয়া, কারো সঙ্গে প্রতারনা করা, অন্যের অর্থের লোভ করা, গীবত বা পরচর্চা করা, শত্রুতামী করা ইত্যাদি,,, অর্থাৎ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত যা কিছু আছে তার হক রক্ষা করা বা আদায় করার নামই হলো হাক্কুল ইবাদ।

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
এক্ষেত্রে আপনি আল্লাহ তায়ালার কাছে খালেস দিলে তওবা করে নিবেন।

(০২)
হ্যাঁ গীবত হবে। এক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে আপনি সেই স্থান ত্যাগ করবেন।

(০৩)
সেই ঝাল মুড়িওয়ালা ব্যক্তির ছওয়াবের নিয়তে আপনি উক্ত টাকা কোন গরিব মিসকিনকে দান করে দিবেন।

(০৪)
সেই লাইট জ্বলার বিদ্যুৎ বিল কে দিয়েছিল? তাদেরকে আপনি ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া  টাকা দিয়ে দিবেন।

(০৫)
আল্লাহর কাছে তওবা করে নিবেন।

(০৬)
এক্ষেত্রে সাবান ব্যবহার পরিমাণ টাকা গরীব মিসকিনকে দিয়ে দিবেন।

(০৭)
১০ টাকা দিতে হবে।

(০৮)
আর কাফফারা আদায় করতে হবে না।

(০৯)
যাদের গীবত করেছেন তারা বিষয়টি জানলে তাদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিবেন।

তারা না জানলে বা তাদের খোঁজ পাওয়া না গেলে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে নিজের জন্য ও তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...