আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
51 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
আসসালামু আ'লাইকুম।
অন্তরে অনেক পেরেশানি লাগছে সেজন্যই প্রশ্ন করা।

আমি নি:সন্দেহে আল্লাহর পাপি বান্দা।আমি একজন মেয়ে, জেনেরাল ব্যাকগ্রাউন্ড এর মানুষ। দ্বীনের পথে ফেরার চেষ্টায় আছি।হেদায়েত পেয়ে হেদায়েত হারিয়েছি আবারও হেদায়েত পাওয়ার আশায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।নফসের সাথে যুদ্ধ করে এ পথে টিকে থাকা আমার জন্য কঠিন।কারণ আমার কোনো দ্বীনী সহবত নাই, কারো কাছে যেয়ে প্রশ্ন করবো শেয়ার করব  আমি ঠিক পথে আছি কিনা জানতে চাইবো সে উপায়ও নাই।আমার লক্ষ্য আমার নিয়ত সবই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা।


আমার কিছু প্রশ্ন আছে তা হলো
১)আমি যখন কোনো গোপন ইবাদাত করি তখন আমার অবচেতন মনে কিছু কথা আসে, আজকে তো আমি অনেক ভালো আমল করলাম,অমুক (মানে যারা জেনেরাল) নিশ্চয়ই করে নাই আমি তার চেয়ে এগিয়ে।কিংবা আমি আল্লাহর কাছে ধরুন দ্বীনের দাই হওয়ার জন্য দোয়া করছি তখন মনে আসলো যে,আমি দ্বীনের দাই হয়ে গেলে অনেক সম্মানিয় হবো,আখিরাতের পথে এগিয়ে যাবো। অমুক দুনিয়াবি কাজে ব্যস্ত আমি আখিরাতের কাজে এগিয়ে।এধরনের ভালো দোয়া আল্লাহর কাছে চাই কিন্তু তার বিপরিতে অন্তরে অন্যকে হেয় করার কথা মনে আসে কিন্তু যেটা আআমি করতে চাই না।এর থেকে কিভাবে বাচব? এজন্য আমার দোয়াও করতে ইচ্ছে করে না যদি আমার দোয়া কবুল হয়ে গেলে আমার অহংকার বড়ত্ব ভাবনা চলে আসে???উত্তম কিছু চাইতে গেলে মনে হয় সে ত পাইনাই আমি পেয়েছি এ ধরনের ভাবনা থেকে কিভাবে মুক্ত হবো মোট কথা অন্যের চেয়ে নিজে ভালো অবস্থান এ থাকার দোয়া করার সময় এরুপ ভাবনা থেকে কিভাবে মুক্তি পাবো?


২)সাথে এটাও মনে আসে যে,এই যে আমি পর্দা করি,কিছু বাহ্যিক আমল যা মানুষ জেনে যায় আর আমাকে নেককার ভাবে, অথচ আমি ইচ্ছাকৃত জানাতে চাইনা,কিন্তু কিছু বাহ্যিক আমল যা লুকানো সম্ভব নয় তা দেখে যদি তারা আমাকে নেককার ভেবে বসে থাকে এতে আমার কি করনীয়? আমি কিভাবে এর থেকে বাঁঁচব? আমিত ত জানি আমারও অনেক পাপ আছে।


৩)আমার এক সমবয়সী কাজিন এখন জব করে মেয়ে,জেনেরাল। সে গ্রাম থেকে আজ ঢাকা শহরে জব করে। পড়াশোনার দিক দিয়ে দুইজন এই সমান ডিগ্রি অর্জনকারী।কিন্তু আমি জব করিনা বা করতে ইচ্ছুক নই, ব্যবসাতে ইচ্ছা যেহেতু পর্দা করি।এদিকে আমার পরিবারের মন ক্ষুণ্ণ হয় সে জব করে আমাকে দেখিয়ে দিয়েছে,আমি ভালো রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও কিছুই করিনা।এতে আমার কোনো সমস্যা নেই,কিন্তু কাজিন আমাকে হেয় করার চেষ্টা করে নিজেকে বড় জাহির করে,মাঝ মাঝে আমার খুব কষ্ট লাগে।আমি সবসময় চাই প্রত্যেকে তার জায়গায় সাকসেস হোক।এইযে পরিবারের ইচ্ছায় জব খোজা পর্দা করা যায় এভাবে খোজা,আর কাজিন এর কাছে ছোট না হওয়ার জন্য জব করা এটা কতোটুকু জায়েজ? আমার এখন কোনো কাজ করতে গেলেই খালি মনে হয় এটা করলে আমি কি তার থেকে উত্তম হতে পারবো? এরুপ ধারণা করা কি ঠিক?আমার আসলে কিভাবে চলা উচিত? আমি যতই তাকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাই তাও আসে যেহেতু আত্নীয় উঠতে বসতে কথা হয়।কিন্তু আমি আজ অব্দি তার অসফলতার জন্য কখনো দোয়া করিনাই বরং সফলতার জন্য করেছি যাতে হিংসা না আসে।কিন্তু এই যে আমি ওর থেকে নিজেকে উত্তম করার জন্য জব করব ভাবছি এটা কি অহংকার হয়ে গেলো?


এখন আমি কি করব আমার মনে হচ্ছে আমার আমল দোয়া সব শেষ কোনো ভাবে মাইন্ড ডাইভার্ট করতে পারছিনা।দম বন্ধ লাগতেসে।আমাদের এদিকে তালিমের কোনো সুযোগ নাই।আর দ্বীনী সংঘও নেই।আমি ইতেকাফ এ থাকা অবস্থায় এই প্রশ্ন করছি কারণ আমি শান্তিমত দোয়া করতে পারছিনা।আমাকে দয়া করে এর থেকে পরিত্রাণের উপায় জানাবেন,ইং শা আল্লাহ।
জাঝাকুমুল্লাহু খইরন।

1 Answer

0 votes
by (806,580 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১) প্রশ্নে বর্ণিত এরকম বিষয়াবলী মনে আসতেই পারে। তবে সবসময় আল্লাহর কাছে অহংকার থেকে পানাহ চাইবেন। এবং দ্বীনি সোহবত গ্রহণের আপ্রাণ চেষ্টা করবেন।

(২) আপনি রিয়ার আশংকায় গোপনে আমল করার চেষ্টা করবেন। এরপরও যদি কখনো কেউ দেখে ফেলে তাহলে অন্তরে এ নিয়ত রাখবেন যে, আমার এই আমল দেখে অন্যরা যাতে আগ্রহী হয়।

(৩) প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়াবলী মনে আসতেই পারে। সর্বদা এটাই মনে রাখবেন যে, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তেই কাজ করছি। এই নশ্বর পৃথিবী তো অতি তুচ্ছ। আখেরাতই আমাদের মূল মিশন ও ভিশন।
নিম্নোক্ত আয়াতকে অতি স্বযত্নে মনের মধ্যে লালন করবেন-
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। (সূরা আল আনআম-১৬২)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...