আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
86 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (15 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
হুজুর,

আমি আমার ১৪ মাস বয়সী বাচ্চাকে নিয়ে হাজবেন্ডের সাথে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছি ১ মাস হলো।৩ বছর পর দেশে ব্যাক করবো।তখন ২য় বেবীর জন্য চেষ্টা করবো এরকম পরিকল্পনা ছিলো।কিন্তু এখানে আসার পরপরই জানতে পারি আমি প্রেগন্যান্ট।এখন ৮ সপ্তাহ।ডাক্তার বড় কোনো শারিরীক সমস্যার কথা বলে নি।সিজার হবে নাকি নরমালে চেষ্টা করা যাবে এটা বুঝা যাবে আরো পরে।সমস্যা হলো,নতুন প্রেগন্যান্সির পূর্ব থেকেই শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকায় শক্তি অনেক কম পাই।এক বাচ্চার পরিচর্যা করতে হাঁপিয়ে উঠি।এখন নতুন প্রেগন্যান্সি লক্ষণ থেকে শরীর অনেকটা অসুস্থ হয়ে গেছে।খাওয়া,দাওয়া খুবই কমে গেছে।প্রচুর বমি।বাচ্চার পরিচর্যাও কমে গেছে।বুকের দুধ না পেয়ে বাচ্চা ১ মাস ধরে কান্নাকাটি করে।১মাস আগেও বুকের দুধ নিয়ে ওর সমস্যা ছিল না।অন্য খাবার খায় দেখে তাও দিন চলে।নতুন জায়গায় ও ভয় পায় এখনও।চোখের সামনে থেকে সরতে পারি না। যদি বর্তমান অথবা প্রেগন্যান্সি পূর্ববর্তী শারিরীক অবস্থা থাকে খুব কষ্ট করে হলেও ২টা বেবী নিয়ে দিন যাবে।কিন্তু ১ম বেবী সিজারে হয়েছে। সিজারের অভিজ্ঞতা আমার খুব খারাপ। প্রায় ৪ মাস লেগেছে বাচ্চা একা হ্যান্ডলিং করার মত মিনিমাম শারিরীক অবস্থা আসতে।প্রায় ১ মাস যাবৎ আমাকে শোয়া থেকে উঠতেই আরেকজনের হেল্প লেগেছে।২.৫ মাসেও নতুন করে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়েছে সেলাই শুকায় নি,ব্লিডিং দেখা দিয়েছে তাই।শারিরীক ইমিউনিটি কম।শারিরীক কিছু জটিলতাও ছিল ১ম প্রেগন্যান্সিতে।ব্রেস্টফিডিং এর জন্য প্রচুর খাওয়া দাওয়া করতে হয়েছে শুরু থেকেই। আলহামদু লিল্লাহ!দাদী-নানীর সহায়তা ছিলো তখন।এখন ডেলিভারীর আগে তো কষ্ট হবেই একা একা।কিন্তু ডেলিভারী যদি সিজারে হয় তারপর আমার পাশে থাকার মত কেউ নেই এখানে।হাজবেন্ডকে বলেছি ১ মাস ছুটি নিতে পারবে কি না,তাহলেও আমি সাহস করবো। উনি বললেন,পারবেন না।হয়তো ২/১সপ্তাহ পারবেন,তাও শিওর না।দিনরাত মিলিয়ে প্রায় ১০ ঘন্টা সময় একটানা উনি বাইরে থাকেন।সামনে আরো বেশি ব্যস্ততা আসবে উনার।কাচা সেলাই নিয়ে একা ২টা বাচ্চা আমি পেরে উঠার কোনো সম্ভাবনা দেখি না।পরিশ্রম করতে রাজি কিন্তু সিজারের সেলাই+সংসারের কাজ+২টা বাচ্চা+নিজের সঠিক খাওয়া দাওয়া কীভাবে সম্ভব আমি বুঝতে পারছি না।

হাজবেন্ড সরাসরি নিষেধ করে না প্রেগন্যান্সি কন্টিনিউ করতে।আরেকটা বাচ্চা পেলে খুশি হবে বুঝা যায়।কিন্তু কথাবার্তা আচরণে উদাসীনতা এমন যে,আমাকে একাই করতে হবে।ডেলিভারীর সপ্তাহটা পারবেন।এর বেশি আমাকে সময় দিতে পারবেন না।আমি না পারলে যেন এবোরশন করাই।এরকমই বললেন।

এ অবস্থায় আমি কী করতে পারি?আমি চাই না মন থেকে এবোরশন।কিন্তু ডেলিভারীর পরের পরিস্থিতি ২টা বাচ্চার উপর যদি জুলুম হয়ে যায়,আমি মা কী জবাব দিবো?

আমাকে উপযুক্ত মাসআলা ও পরামর্শ দিলে উপকৃত হবো মিন ফাদলিকুম।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান হলো  যদি মহিলা অত্যাধিক দুর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য আশঙ্কাজনক হয় এবং গর্ভধারণের মেয়াদ চার মাসের কম হয়। তাহলে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক গর্ভপাত বৈধ হবে। মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে কোনোভাবেই বৈধ হবেনা।

খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ইত্যাদির অভাবের কারণে সংসারকে সচ্ছল করার নিয়তে, দৈহিক সৌন্দর্য বা ফিগার ঠিক রাখার উদ্দেশ্যে ,কন্যাসন্তান জন্ম নেয়ার ভয়ে (যাতে পরবর্তীতে এদের বিয়ে শাদীর ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়),অধিক সন্তান নেয়াকে লজ্জার বিষয় মনে করে গর্ভপাত বিশেষত অভাবের কারণে সংসারকে সচ্ছল করার নিয়তে গর্ভপাত করলে আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। কেননা রিজিকের মালিক আল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালা  বলেছেন, 

ولا تقتلوا أولادكم خشية إملاق، نحن نرزقهم وإيّاكم إنّ قتلهم كان خطأ كبيراً. 

‘’দারিদ্রতার ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানকে হত্যা কর না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই খাদ্য প্রদান করে থাকি।নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ…’’(সূরা ইসরা, আয়াত-৩১)

অন্যত্র তিনি বলেন, الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ . “শয়তান তোমাদের অভাবের ওয়াদা দেয়।” (সূরা আল-বাক্বারা)

আধুনিক যুগে ভ্রুণহত্যা জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানকে
জীবন্ত সমাধিস্থ করার নামান্তর। তখন বাবা নিজ মেয়েকে গর্তে পুঁতে ফেলত; আর এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা
মায়ের পেটেই শিশুকে মেরে ফেলা হয়। এ দুই হত্যার মধ্যে বাহ্যত কোনো তফাত নেই। এজন্য

রাসুলুল্লাহ (সা.) ভ্রুণহত্যাকে ‘গুপ্তহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘স্মরণ কর ওই
দিনকে, যেদিন জীবন্ত সমাধিস্থ নিষ্পাপ
বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাকে কোন অপরাধের কারণে হত্যা করা হয়েছে?’ (সূরা তাকয়ির :৮)।
,
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,   
চার মাসের পূর্বে বিশেষ কিছু কারণে শরীয়ত গর্ভপাতকে অনুমোদন প্রদান করে থাকে।
,
(ক)বর্তমানে কোলে দুধের একটি শিশু রয়েছে,অপরদিকে উক্ত মহিলার গর্ভাশয়ে নতুন সন্তানও উৎপাদিত হচ্ছে। গর্ভের দরুন দুধ একেবারে শুকিয়ে গেছে।অপরদিকে উক্ত সন্তানকে অন্যকোনো উপায়ে লালনপালন করা যাচ্ছেনা। মায়ের দুধ ব্যতীত অন্যকিছুতে সে মূখই দিচ্ছে না।এমতাবস্থায় চারমাস হয়নি এমন গর্ভকে গর্ভপাত করা বৈধ রয়েছে।
,
(খ)কোনো মুসলমান বিজ্ঞ ডাক্তার উক্ত গর্ভবতী মহিলাকে পরিদর্শন করে বলে যে,গর্ভপাত না করলে মহিলার জান বা কোনো অঙ্গ বিনাশের আশঙ্কা রয়েছে।

আরো জানুনঃ 
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার কোলে যেহেতু দুধের একটি শিশু রয়েছে,অপরদিকে আপনার গর্ভাশয়ে নতুন সন্তানও উৎপাদিত হচ্ছে,সুতরাং এক্ষেত্রে গর্ভের দরুন যদি আপনার দুধ শুকিয়ে যায়,অপরদিকে উক্ত সন্তানকে অন্যকোনো উপায়ে লালনপালন করা না যায়। মায়ের দুধ ব্যতীত অন্যকিছুতে সে মূখই না দেয়, এমতাবস্থায় গর্ভের বয়স যেহেতু চারমাস হয়নি, এমন গর্ভকে গর্ভপাত করা বৈধ রয়েছে।

এমতাবস্থায় আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

...