আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
44 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (8 points)
পরিচিত এক বোন ছোটবেলায় কিছু স্বর্ণ, রুপার দুল, চেইন হাদিয়া পেয়েছিলো। ২ভরি স্বর্ণ, ৩ভরি রুপা এরকম হবে। সেগুলো ছোট থাকার কারণে মা এর কাছেই ছিলো।।বড় হওয়ার পর মা ব্যবহার করতে দিয়েছিলো তাকে।


ওই আপুর স্বামীর সংসারে মাত্রাতিরিক্ত ঝামেলা,জঞ্জাট, ক্রাইসিস, অনিরাপত্তার জন্য সেগুলো আবার তার  মা এর কাছে দিয়ে দিয়েছে। আপুর বর্তমান হালত খুবই খারাপ। স্বামী দীর্ঘদিন যাবৎ বেকার ছিলো, কাজ বাজ করার চেষ্টা করতোনা। এখন রুকইয়াহ সেন্টারে কাজ করতে গিয়ে ৩-৪মাস হবে পরকীয়ায় জড়িয়ে গেছে। এই সংসারে ২-৪হাজার টাকার মতো দেয়।রেগুলার দেয়না।


আপুর ২টা বাচ্চা আছে ৬ ও ৭ বছরের। ওদেরকে বাসায় একা রেখে তালা মেরে বাহিরে কিছু স্টুডেন্ট দের কুরআন পড়িয়ে ৪-৫হাজার টাকা পায়, যা দিয়ে বাসাবাড়া দিয়ে চলে কষ্ট করে।

আপুর বাবাবাড়ি, শ্বশুরবাড়ি কেউ সাপোর্টিভ না। সেভাবে কেউ ই খোজখবর রাখেনা৷ একা শহরে স্ট্রাগল করতেছে।
এখন এই বোন বলতেছে সে যদি তার মা এর কাছে ওই স্বর্ণ গুলো চায় তাহলে তার মা তাকে দিবেনা। কারণ যেহেতু আপুর এখন আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ, তার মা ভাববে এখন স্বর্ণ দিলে সে বিক্রি করে ফেলবে। এজন্য দিবেনা৷ বলবে এই স্বর্ণ তোর না, এগুলো আমার।এখন আপুর শারীরিক, মানসিক, আর্থিক হালত অনেক খারাপ।

এই স্বর্ণ গুলো তার কাছে নেই, সে এটা এখন পাবেওনা, ব্যবহার ও করতে পারবেনা,বিক্রিও না।কিন্তু তার মা ওসিয়ত করে গেছে, তার মা মারা গেলে এই স্বর্ণগুলো আপুর ই হবে।এখন আমার প্রশ্ন, ওই আপুর ও প্রশ্ন, সে কি এখন যাকাত পাওয়ার যোগ্য আছে?

আমরা ২০-৩০হাজার যাকাতের টাকা দিয়ে তাকে সেলাই মেশিন কিনে দিতে চাই।শুধু প্রাইভেট পড়িয়ে দুই বাচ্চা নিয়ে তার সংসার চলছেনা একেবারেই।

ওই স্বর্ণ, রুপার সম্পদের মালিক কি সে আছে? সে কি যাকাত পেতে পারে?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/44175/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে,

أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ لِيْ مَالاً وَوَلَدًا وَإِنَّ وَالِدِيْ يَحْتَاجُ مَالِيْ قَالَ أَنْتَ وَمَالُكَ لِوَالِدِكَ إِنَّ أَوْلَادَكُمْ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِكُمْ، فَكُلُوْا مِنْ كَسْبِ أَوْلَادِكُمْ،

“এক লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার সম্পদ ও সন্তান আছে। আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী।
তিনি বললেন, “তুমি ও তোমার সম্পদ উভয়ই তোমার পিতার। তোমাদের সন্তান তোমাদের জন্য সর্বোত্তম উপার্জন। সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্তানের উপার্জন থেকে খাও।” [আবু দাউদ হা/৩৫৩০; ইবনে মাজাহ, হা/২২৯২, সনদ সহিহ]

নাবালেগ বাচ্চাকে যে হাদিয়া/উপহার আত্মীয় স্বজনদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়,তার দ্বারা নির্দিষ্ট করে তাকে হাদিয়া দেয়া উদ্দেশ্য হয়না,বরং মা বাবাকেই দেয়া উদ্দেশ্য হয়।
সুতরাং সেটির মালিক সন্তান নয়,বরং মা বাবাই তার মালিক।
সে যা চাই,তারা সেটা করতে পারবে।
অবশ্য যদি কেহ নির্দিষ্ট ভাবে সন্তানকেই কিছু দেয়,তাহলে সন্তানই এর মালিক হবে।
(বেহেশতি যেওর ৫/৪৭)

(০১) যেই জিনিস নাবালেগ এর মালিকানায় দেয়া হবে,সেটিকে সেই বাচ্চার কাজেই লাগানো উচিত। পিতা মাতা সেটি ব্যবহার করতে পারবেনা।
পাত্র ইত্যাদি যাহা বাসা বাড়ির কাজে ব্যবহার করা যায়,সেটিকে বাসা বাড়ির কাজে ব্যবহার করা যাবে।

(০২) 
যেই হাদিয়া সময় চলে যাওয়ার কারনে খারাপ হয়ে যায়,এবং সেটি ঐ সময়ে সন্তান ব্যবহার করতে পারেনা।
তাহলে সেটিকে বিক্রয় করে বাচ্চাকে মালিক বানিয়ে দিতে হবে।

(০৩) পিতা মাতাও সেই বস্তুর মূল্য আদায় করে মালিক হতে পারবে।

قال فی الدر: یبیع الأب لأن لہ ولایة التصرف لا الأم ولا بقیة أقاربہ ولا القاضی اجماعاً عرض ابنہ  الکبیر الغائب لا الحاضر إجماعاً لا عقارہ فیبیع عقار صغیر ومجنون۔ (الدر مع الرد: 5/367)
সারমর্মঃ
বাবা সেটি বিক্রয় করতে পারবে,কেননা তার সন্তানের সম্পদে হস্তক্ষেপ এর অধিকার রয়েছে।
তবে মায়ের নয়।    

قال فی الشامی: وحاصلہ أن المنقول مما یخشی ہلاکہ فللأب بیعہ حفظا لہ (5/367
সারমর্মঃ
যে সমস্ত জিনিস পঁচে যাওয়া বা ধ্বংস হওয়ার ভয় রয়েছে,সেগুলো সেগুলো বিক্রয় করতে পারবে,হেফাজতের জন্য। 

★তবে উল্লেখিত মাসয়ালায় কিছু ইসলামী স্কলারদের মতবিরোধ রয়েছে।

তাদের মতানুসারী গন এই মত অনুযায়ী আমল করতে পারবেন।     
তারা ঢালাও ভাবে উক্ত সম্পদে পিতার ব্যবহার বৈধ বলেন।
তারা বলেন যে ছোট বাচ্চারা আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্নজন থেকে যেসকল অর্থ ও উপহার-সামগ্রী পায় পিতা যদি আর্থিক অস্বচ্ছলতার দরুন সেগুলো ব্যবহার বা খরচ করতে চায় তাহলে তার জন্য যতটুুক প্রয়োজন ততটুকু নেয়া জায়েজ আছে। তবে প্রয়োজন না হলে বা প্রয়োজন অতিরিক্ত না নেয়াই ভালো। কেননা এসব উপহারের প্রতি শিশুদের মন লেগে থাকে।
হ্যাঁ, প্রয়োজনবোধে পিতা যদি তা ব্যবহার করেও তবে পরবর্তীতে সামর্থ্য হলে তাকে তা ফেরত দেয়ার চেষ্টা করবে। আর মা তা নিতে পারবে কি না তা দ্বিমত পূর্ণ।

মা নিতে পারে কি না সে ব্যাপারে দ্বিমত থাকলেও, অধিক বিশুদ্ধ মতে পিতা-মাতা এ ক্ষেত্রে সমান। অর্থাৎ মাও তার অভাব মোচন পরিমাণ সন্তানের সম্পদ গ্রহণ করতে পারে। তবে বাবা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় মা সন্তানের অর্থ নেয়ার ব্যাপারে তার নিকট অনুমতি নিবে। কারণ বাবাই হল, পরিবারের প্রধান অভিভাবক।

قال جابر بن عبد الله رضي الله عنه : ” يَأْخُذُ الْأَبُ وَالْأُمُّ مِنْ مَالِ وَلَدِهِمَا بِغَيْرِ إذْنِهِ ، وَلَا يَأْخُذُ الِابْنُ وَالِابْنَةُ مِنْ مَالِ أَبَوَيْهِمَا بِغَيْرِ إذْنِهِمَا ” رواه ابن حزم في “المحلى” (6/ 385) ، وصححه.
জাবের রা. বলেন, “বাবা ও মা তাদের সন্তানের সম্পদ তার অনুমতি ছাড়াই নিতে পারে। কিন্তু ছেলে বা মেয়ে পিতামাতার সম্পদ তাদের অনুমতি ছাড়া নিতে পারবে না।” [আল মুহাল্লা ৬/৩৪৫]

শিশু জন্মের পর গিফট হিসেবে তার জন্য প্রাপ্ত স্বর্ণ,টাকা,কাপড় ইত্যাদি শিশুর জন্য ব্যবহার করা যাবে। ঐ বাচ্চার জন্য উহা হতে খরচ করা যাবে। শিশু বড় হওয়ার পর হাদিয়া হিসেবে পাওয়া স্বর্ণ রুপা গুলি তার হাতে অর্পন করতে হবে।

বাচ্চার জন্য ব্যবহার করা যাবে না এমন কাপড়-চোপড় বা ঐরকম জিনিস গুলো ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিতে হবে।
এক্ষেত্রে পিতা মাতা চাইলে তারা সেই বস্তুর মূল্য আদায় করে মালিক হতে পারবে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে সেই গহনাগুলোর মালিক আপনার পরিচিত সেই বোন।

এক্ষেত্রে গহনাগুলোর মূল্য হিসেব করলে যেহেতু নেসাব পরিমাণ সম্পদে পৌঁছে, তাই তার জন্য যাকাত গ্রহণ করা বৈধ হবে না।

সে যাকাত গ্রহনের উপযুক্ত নয়। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...