আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
92 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ৷
আমার একটা সমাধান প্রয়োজন অতি দ্রুত। দয়া করে সাহায্য করুন।

আমার জাওজ গ্রাজুয়েশন শেষ করেছেন।এখন চাকরি খুজতেছেন। আমাদের বিয়ে হয়েছে কিছু মাস হচ্ছে। জাওজ ছাত্র অবস্থায়, আয় ছাড়াই নিজেকে হেফাজতের জন্য বিয়ে করেছেন পরিবারের সম্মতি ছিল বিদায়। বিয়ের সময় কথা ছিল আমি বিয়ের পর বাবার বাড়ি থাকব জাওজের হালাল রিজিক হলে শশুড় বাড়ি থাকব। কিন্তু বিয়ের পর শশুর যেতে দেননি, বললেন ঘরের বউ ঘরে থাকবে বাবার বাড়ি কেন থাকবে।  বিয়ের পর নিজের দ্বায়িত্ববোধ থেকে জাওজ ছোটখাটো একটা ব্যাবসা দিতে চেয়েছিলেন, আমার শশুরের কাজ থেকে ২০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন, আর আমি আমার মোহরানার টাকা থেকে কিছু টাকা জাওজকে দিলাম ব্যাবসার জন্য। শশুর টাকা দিবে বলে আর দেয়নি। ২,৩ মাস পর আবার টাকা চাইলে বলেন আগে পড়ালেখা শেষ করো। এখন কিছু করতে হবেনা। এখন কিছু করতে গেলে পড়ালেখা হবে না ঠিক মতো পরিক্ষাও ভালো হবে না। খরচাপাতি আব্বুর থেকে নাও যা লাগে। এখন এসব ব্যাবসার চিন্তা বাদ দিয়ে পড়ালেখায় মন দাও। জাওজ  ১ মাস পর ব্যাবসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বদলালেন বাবা যেহেতু টাকা দিচ্ছেন না কিছু করার নেই। আবার বাবার থেকে জাওজের ল্যাপটপের কিছু প্রয়োজনে ১২ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। উনি এবারও দিবেন বলে দেয়নি। এরপর আরেকটু কম চাইলেন ৮ হাজার টাকা চাইলেন, তখনো দিবেন বলে দেননি। হাত খরচও ২শ টাকা চাইলে ১০০ টাকা ১০০ চাইলে ৫০,৭০ টাকা এমন দেন। বিষয়গুলো জাওজের গায়রতে লাগে এবং জাওজ তার বাবার প্রতি খুব রাগান্বিত হন। এবং খরচ নেওয়া সম্পুর্ন বন্ধ করে দেন।
আমাকে আমার বড় ভাই প্রতি মাসে কিছু টাকা দেন, সেগুলো দিয়ে জাওজ হাত খরচ চালান। বড় অংকের টাকার প্রয়োজন হয়েছিল কয়েকবার, জাওজ উনার বাবার থেকে নিতে রাজি না। তাই আমি আমার মোহরানার টাকা থেকে জাওজকে দেই আর কিছু টাকা আমার বাবার থেকে এনে দেই। আমার শশুড়ের সাথে জাওজের আকিদাগত পার্থক্য থাকায়, জাওজকে শশুড় বেশি উশকানি মূলক কথাবার্তা বলে আকিদা, তোমাদের হাদিস, ওহাবি ইত্যাদি বলে। যার কারনে জাওজের মাথা গরম হয়ে যায়। সেজন্য জাওজ সবার সাথেই কম কথা বলেন। প্রয়োজন ছাড়া কথা বলেন না। বাবার সাথে কথা বলেনই না তেমন, বাবা নিজ থেকে কিছু না বললে।

এই যে একজন বাবা তার সন্তান নিজ থেকে দায়িত্ব নিতে গিয়েও বাধা দিলেন। বললেন আমার থেকে হাত খরচ, সব খরচ নাও, আগে পড়া শেষ করো এরপর ব্যাবসা যা ইচ্ছে করো। কিন্তু যখন টাকার প্রয়োজন হচ্ছে দিবে বলে দিচ্ছেন না। এটা কতটা যুক্তিযুক্ত.? উনি ছেলের হক নষ্ট করছেন না.?
বাবার থেকে ছেলে ২০ হাজার টাকা ব্যাবসার জন্য পাওয়ার হক নেই.?আমার শশুরের প্রচুর অর্থ ঋন আছে। উনি সেগুলো পরিশোধ নিয়ে একটুও চিন্তিত না। জাওজ বলেন উনি যদি আমাকে আমার হক থেকে বঞ্চিত করে। আমাকে ব্যাবসার জন্য ২০ হাজার টাকাই না দেয়। ব্যাবসা করতে না দিয়ে হাত খরচ দিবে বলে সেটাও এখন না দেয়। তাহলে উনার ঋন আমি ছেলে কেন শোধ করবো। আমার হক তো উনি দেয়নি তাহলে আমি কেন শোধ করবো। এটার সমাধান কি.?

 আর বাবা ছেলের আকিদা, আমলগত পার্থক্যের কারনে বাবা হক পন্থীদের কটাক্ষ করেন। যার কারনে সব মিলিয়ে ছেলে বাবার সাথে কথা বলেন না তেমন। এটা কি ঠিক আছে.? বা করনীয় কি.??

দয়া করে বিষয়গুলোর একটু সমাধান দিন। খুব সমস্যা আছি দয়া করে উত্তর দিবেন। জাযাকাল্লাহু খইরন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান হলো বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত ছেলে সন্তানের ভরনপোষণ পিতার উপর ওয়াজিব।

আর মেয়ে সন্তানকে বিবাহ দেওয়ার আগ পর্যন্ত তার ভরনপোষণ পিতার উপর ওয়াজিব। 

কিন্তু ছেলে সন্তান বালেগ হওয়ার পরেও যদি কেহ অসুস্থতা,পাগল, ইলমে দ্বীন শিক্ষায় লিপ্ত থাকা ইত্যাদি কারনে যদি সম্পদ উপার্জন না করতে পারে,তাহলেও তার ভরনপোষণ দেওয়াও পিতার উপর ওয়াজিব বা জরুরি। 
(নাজমুল ফাতওয়া ৫/২১৫) 

ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী তে আছে  

لما فی الھندیۃ(۵۶۳/۱):طلبة العلم إذا كانوا عاجزين عن الكسب لا يهتدون إليه لا تسقط نفقتهم عن آبائهم إذا كانوا مشتغلين بالعلوم الشرعية لا بالخلافيات الركيكة وهذيان الفلاسفة ولهم رشد وإلا لا تجب كذا في الوجيز للكردري ونفقة الإناث واجبة مطلقا على الآباء ما لم يتزوجن إذا لم يكن لهن مال كذا في الخلاصة ولا يجب على الأب نفقة الذكور الكبار إلا أن الولد يكون عاجزا عن الكسب لزمانة أو مرض ومن يقدر على العمل لكن لا يحسن العمل فهو بمنزلة العاجز كذا في فتاوى قاضي خان

যার সারমর্ম হলো তালেবে ইলেম যখন শতীয়তের জ্ঞান অর্জনে লিপ্ত থাকে,সে যদি সম্পদ উপার্জন না করতে পারে,তাহলে তার ভরনপোষণ দেওয়া পিতার উপর ওয়াজিব। 
,,, বালেগ সন্তানের ভরনপোষণ পিতার উপর ওয়াজিব নয়, কিন্তু সে যদি অসুস্থতা, কাজ করতে অক্ষম ইত্যাদি কারনে  সম্পদ উপার্জন না করতে পারে,তাহলে তার ভরনপোষণ দেওয়া পিতার উপর জরুরী। 

باب وُجُوبِ النَّفَقَةِ عَلَى الأَهْلِ وَالْعِيَالِ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ مَا تَرَكَ غِنًى، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ ". تَقُولُ الْمَرْأَةُ إِمَّا أَنْ تُطْعِمَنِي وَإِمَّا أَنْ تُطَلِّقَنِي. وَيَقُولُ الْعَبْدُ أَطْعِمْنِي وَاسْتَعْمِلْنِي. وَيَقُولُ الاِبْنُ أَطْعِمْنِي، إِلَى مَنْ تَدَعُنِي فَقَالُوا يَا أَبَا هُرَيْرَةَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَ لاَ هَذَا مِنْ كِيسِ أَبِي هُرَيْرَةَ.
পরিবার-পরিজনের উপর ব্যয় করা ওয়াজিব
৪৯৬৪। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম সাদাকা হল যা দান করার পরেও মানুষ অমুখাপেক্ষী থাকে। উপরের হাত নীচের হাতের চাইতে শ্রেষ্ঠ। যাদের ভরন-পোষণ তোমার যিম্মায় তাদের আগে দাও। (কেননা) স্ত্রী বলবে, হয় আমাকে খাবার দাও, নতুবা তালাক দাও। গোলাম বলবে, খাবার দাও এবং কাজ করাও। ছেলে বলবে, আমাকে খাবার দাও, আমাকে তুমি কার কাছে রেখে যাচ্ছ? লোকেরা জিজ্ঞাসা করলঃ হে আবূ হুরায়রা আপনি কি এ হাদীস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ এটি আবূ হুরায়রা জামবিলের নয় (বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে)।
(বুখারী ৪৯৬৪)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্বামীর ব্যবসার জন্য টাকা দেওয়া, তার হাত খরচের টাকা দেওয়া, কোন কিছুই আপনার শ্বশুরের উপর শরীয়ত কর্তৃক আবশ্যক নয়।

তদুপরি তিনি যেহেতু দেওয়ার ওয়াদা করেছিলেন, তাই ওয়াদা পালন করা তার জন্য উচিত ছিল, অন্যথায় তার ওয়াদা ভঙ্গের গুনাহ হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...