আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
55 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (14 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ,

আমার ছোটবেলায় বাবা মারা যায়,এরপরে আমার বড় ভাই  আর কাকা যাবতীয় ভরনপোষণের দায়িত্ব নেন।আমার ভাই যতটুকু দেন তার দ্বিগুণ আমার কাকা দিয়ে থাকে।তো আলহামদুলিল্লাহ আমার হাতখরচের অনেক টাকা জমা থেকে যায়।সেই জমা টাকা থেকেই আমি ইচ্ছামত দান-সদাকাহ করে থাকি,আমার মায়ের কোনো ইনকাম সোর্স নেই যে কারনে তাকেও বেশ কিছু টাকা হাদিয়া দেয়া হয়।এমনও হয়েছে কখনো কখনো পুরা মাসের হাত খরচের টাকাও ভালো কাজে ব্যয় করে দিয়েছি।এতে আমার কাকার পূর্ন সমর্থন আছে,তার সাথে ফ্রি হওয়ায় এসব অনুমতি নেয়া আছে।কিন্তু আমার ভাইয়ের থেকে অনুমতি নেয়া হয়নি।এখন প্রশ্ন হলো ভাইয়ের অনুমতি ছাড়াই এতোদিন এভাবে  ব্যয় করা হয়েছে তার জন্য কি আমি গুনাহগার হবো?

এখন কিছুদিন হলো ভাই একটা ইয়াতিম বাচ্চার দায়িত্ব নিয়েছেন।সেজন্য আমাকে বাইরে কোথাও দান -সদাকাহ  করার জন্য টোটালি নিষেধ করে দিয়েছেন,বলেছেন বাইরে যতটুকু ব্যয় করবো ততটুকু যেন ভাইর কাছে দেই যাতে সে ওই ইয়াতিম বাচ্চাটার পিছনে ব্যয় করতে পারে।এখন আমি যদি নিয়ত করি যে কাকার দেয়া জমাকৃত টাকা থেকে বাইরে অন্য সব জায়গায় দান-সদাকাহ করবো আর ভাইয়ের দেয়া জমাকৃত টাকা থেকে ইয়াতিম বাচ্চাটার জন্য যতটুকু পারি ব্যয় করবো। তাহলে কি বিষয়টা শুদ্ধ হবে?

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো কাহারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যাতিত ব্যবহার করা জায়েজ হবেনা। 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا ﴿۲۹﴾ 
হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ এবং নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
(সুরা নিসা ২৯)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
عَنْ أَبِىْ حُرَّةَ الرَّقَّاشِىِّ عَنْ عَمِّه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَلَا لَا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ وَالدَّارَقُطْنِىِّ فِى الْمُجْتَبٰى

আবূ হুররাহ্ আর্ রক্কাশী (রহঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! কারো ওপর জুলুম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনোতুষ্টি ছাড়া কারো জন্য হালাল নয়।
আহমাদ ২০৬৯৫, শু‘আবুল ঈমান ৫১০৫, ইরওয়া ১৪৫৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৬২।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি কাকার দেয়া জমাকৃত টাকা থেকে বাইরে অন্য সব জায়গায় দান-সদাকাহ করেন, আর ভাইয়ের দেয়া জমাকৃত টাকা থেকে ইয়াতিম বাচ্চাটার জন্য যতটুকু পারেন ব্যয় করেন, তাহলে বিষয়টা শুদ্ধ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...