আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম।
১.আমি সরকারি চাকরিজীবী পছন্দ করি না।কারণ তাদের অনেক হারাম কাজ বাধ্যতামূলক করতেই হয়।২১শে ফেব্রুয়ারিতে তাদের শহীদ মিনারে যাওয়া বাধ্যতামূলক। আরও অনেক বিষয় আছে যেটা তাকওয়া পরিপন্থী। এখন আমার বাসায় সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া বিয়ে দিবে না।যেহেতু তারা ইসলাম প্রাকটিস করে না তাদের কাছে দ্বীন ম্যাটার করে না।তাদের কাছে নামায রোযাই দ্বীন।মিউজিক, ননমাহরাম না মানা এগুলো তাদের কিছু না।আমি স্ট্রিক্টলি দ্বীন পালনের চেষ্টা করি। যদিও আমার তেমন উল্লেখযোগ্য আমল নেই তবে আমি হারাম থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি সর্বদাই।যেহেতু আমি বেদ্বীন ফ্যামিলিতেই বিলং করছি,আমি জানি যে এখানে দ্বীন পালন কত কষ্টের।সবাই হারাম কাজ করছে কিন্তু কাউকে কিছু বলেও লাভ হচ্ছে না।হালাল হারাম নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝামেলা এটা আরও বেশি কষ্টের।দুনিয়াটা আমার জন্য পরীক্ষা। কিন্তু আমি জেনেশুনে বেদ্বীন কাউকে বিয়ে করতে চাই না।বাসায় অনেক অশান্তি হবে এটা নিয়ে।অনেক সাফারও করতে হবে।তাও আমি চাই না ছাড়া ছাড়া দ্বীন পালন করে এমন কাউকে বিয়ে করতে। এখন যদি আমি বিয়েই না করি তাহলে কি গুনাহ হবে? আমি আসলে চাচ্ছিই না বিয়ের কথা উঠুক বাসায়,ঝামেলা হোক।আমি বলব যে পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করব।পড়াশোনা শেষ হলে জব করলে তখন আর কেউ বিয়ের জন্য ফোর্স করতে পারবে না।

২.যেহেতু বিয়ে হবে না।তাই যদি আমি শুধু মাত্র প্রয়োজনে নন মাহরাম কারোর সাথে কথা বলি তাহলে গুনাহ হবে?(দু'আ করবেন যেন কোন ননমাহরাম এর সাথে ইন্ট্যার‍্যাকশন ছাড়াই যেন আল্লাহ তায়ালা আমাকে উত্তম রিযিক দান করেন)।
৩.আমার মা বলেন যে বিয়ে যেখানে লেখা আছে সেখানেই হবে।যেমন করেই হোক হবে।আল্লাহ তায়ালা তো আমাদের চেষ্টা করতে বলেছেন।চেষ্টা না করলেও কি দ্বীনদার কাউকে  আল্লাহ তায়ালা জীবনসঙ্গী হিসেবে পাঠিয়ে দিবেন?আমার পক্ষ থেকে আমি আর চেষ্টা করব না।চেষ্টা করলে অপবাদ শুনতে হবে।এসব আমি ফেইস করতে চাই না কখনও।
৪.বাবা যদি না থাকে।অন্য মাহরাহমরা যদি সফর সঙ্গী না হয়,সেক্ষেত্রে সফর পরিমাণ দূরত্ব কিভাবে যাতায়াত করব?একা যাতায়াত করলে গুনাহ হবে?(দুই মামা প্রবাসী,চাচারা অন্যের ঝামেলা টানতে চায় না।নানীর ভাইয়েরা ইন্ডিয়ান।নানার ভাইয়েরা অসুস্থ)।
৫.আমার ইলম অনুযায়ী পরিচিতদের তাজউইদ শেখাই। মোটা হরফ উচ্চারণ করতে পারে না সবাই।ছদ,ছিন,ছা----জীম,যাল,যা,য্ব----দাল,দ্বদ---তা,ত্ব---হা,হা---ক্বফ,কাফ---আলিফ,আইন,ইয়া যে কাছাকাছি হরফ আছে তার উচ্চারণ এক হয়ে যায়।এক্ষেত্রে কিভাবে পড়াবো?প্রাকটিস করলেও পারেনা সবাই।

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ الطَّوِيلُ أَنَّه“ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُوْلُ جَاءَ ثَلاَثَةُ رَهْطٍ إِلٰى بُيُوْتِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُوْنَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أُخْبِرُوْا كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوْهَا فَقَالُوْا وَأَيْنَ نَحْنُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَدْ غُفِرَ لَه“ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه„ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَحَدُهُمْ أَمَّا أَنَا فَإِنِّي أُصَلِّي اللَّيْلَ أَبَدًا وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَصُوْمُ الدَّهْرَ وَلاَ أُفْطِرُ وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلاَ أَتَزَوَّجُ أَبَدًا فَجَاءَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِمْ فَقَالَ أَنْتُمْ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا أَمَا وَاللهِ إِنِّي لأخْشَاكُمْ للهِ÷ وَأَتْقَاكُمْ لَه“ لَكِنِّي أَصُوْمُ وَأُفْطِرُ وَأُصَلِّي وَأَرْقُدُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي.

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন জনের একটি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ‘ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের বাড়িতে আসল। যখন তাঁদেরকে এ সম্পর্কে জানানো হলো, তখন তারা ‘ইবাদাতের পরিমাণ কম মনে করল এবং বলল, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমাদের তুলনা হতে পারে না। কারণ, তাঁর আগের ও পরের সকল গুনাহ্ ক্ষমা ক’রে দেয়া হয়েছে। এমন সময় তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, আমি সারা জীবন রাতভর সালাত আদায় করতে থাকব। অপর একজন বলল, আমি সব সময় সওম পালন করব এবং কক্ষনো বাদ দিব না।
অপরজন বলল, আমি নারী সংসর্গ ত্যাগ করব, কখনও বিয়ে করব না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এলেন এবং বললেন, ‘‘তোমরা কি ঐ সব লোক যারা এমন এমন কথাবার্তা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশিঅনুগত; অথচ আমি সওম পালন করি, আবার তা থেকে বিরতও থাকি। সালাত আদায় করি এবং নিদ্রা যাই ও মেয়েদেরকে বিয়েও করি। সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি বিরাগ পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়। [মুসলিম ১৬/১, হাঃ ১৪০১, আহমাদ ১৩৫৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৩)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
বিয়ে না করা কোন সমাধান নয়। বিবাহ করার দরুন আপনার ঈমান পূর্ণতা পাবে।  বিবাহ অর্ধেক দ্বীন। 

সুতরাং বিবাহ এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না,এটা রাসুলের সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ।

এজন্য দ্বীনদার পাত্রের সাথে বিবাহের জন্য দোয়া ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ থাকবে

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «الْمَرْأَةُ إِذَا صَلَّتْ خَمْسَهَا وَصَامَتْ شَهْرَهَا وَأَحْصَنَتْ فَرْجَهَا وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا فَلْتَدْخُلْ مِنْ أَىِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মহিলা যদি পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করে, রমাযানের সিয়াম পালন করে, গুপ্তাঙ্গের হিফাযাত করে, স্বামীর একান্ত অনুগত হয়। তার জন্য জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশের সুযোগ থাকবে।
(মিশকাতুল মাসাবিহ ৩২৫৪)

(০২)
ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে পর্দার আড়াল হতে প্রয়োজনীয় কথা বলা যাবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ 
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

 হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও [ইহুদী খৃষ্টান)। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় পাও তবে বিনম্র হয়ে কথা বলনা, যাতে যাদের মাঝে পৌরষত্ব আছে তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বরং তোমরা স্বাভাবিক কথা বল। এবং তোমরা অবস্থান কর স্বীয় বসবাসের গৃহে। {সূরা আহযাব-৩২}

★পরপুরুষের (গায়রে মাহরামের) সঙ্গে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর কঠোর রাখবে, সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

হযরত আয়েশা (রা) এর নিকট মাসয়ালা বা হাদিসের প্রয়োজনে অন্যান্য সাহাবীগণ আসলে, তিনি মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলতেন যেন কারো অন্তর ব্যাধিগ্রস্থ না হয়। (তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৪৬)

নারীদের জন্য গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলতে গিয়ে কর্কশ ভাষায় কথা বলা সবচেয়ে ভালো। 
সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

তবে এক্ষেত্রে কর্কশ ভাষায় কথা বলা সমস্যাকর বা বিরক্তিকর মনে হলে বা এভাবে কথা বলতে না পারলে সেক্ষেত্রে মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলবেন।

(০৩)
চেষ্টা না করলেও দ্বীনদার কাউকে  আল্লাহ তায়ালা জীবনসঙ্গী হিসেবে পাঠিয়ে দিবেন কিনা তাহা নির্ভর করছে আপনার তাকদীরের উপর।

যদি আপনার তাকদিরে লেখা থাকে যে চেষ্টা না করলেও আপনি দ্বীনদার পাত্র পাবেন, তাহলে পেতেও পারেন।

তবে বসে না থেকে চেষ্টা করার নির্দেশ শরীয়ত আপনাকে আপনার পরিবারকে প্রদান করে।

(০৪)
দ্রুত বিবাহ করতে হবে।

এক্ষেত্রে স্বামী আপনার মাহরাম পুরুষ হিসেবে সফরসঙ্গি হবে। পরবর্তীতে ছেলে সন্তান হলে ছেলে সন্তান যখন প্রাপ্তবয়স্ক হবে তখন সে আপনার সফরসঙ্গি হবে।

(০৫)
প্রাকটিস ও দোয়া চালিয়ে যাবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...