আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
61 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (2 points)
১/আমার কাছে ৩ ভরি স্বর্ণ ১ বছর যাবৎ আছে আর ১০০০০ টাকা ৬ মাস যাবৎ।

এক্ষেত্রে কি আমার যাকাত আসবে?

২/হজ্জের জন্য জমানো টাকায় কি যাকাত আসে?

৩/কারো যদি অনেক জামাকাপড় থাকে ওগুলো কি যাকাত/কুরবানীর সময় হিসাব করতে হবে

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
যাকাত আদায় আবশ্যক হবার জন্য নেসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর ব্যক্তির কাছে থাকা আবশ্যক।  আপনার কাছে বছরান্তে নেসাব পরিমাণ টাকা বিদ্যমান না থাকলে আপনার উপর এখন আর যাকাত আবশ্যক হবেনা। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا زَكَاةَ فِي مَالٍ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ»

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বছর অতিক্রান্ত না হলে কোন মালের উপর যাকাত আবশ্যক হয় না। [সুনানে ইবনে মাজাহ-১/১২৮ হাদীস নং-১৭৯২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৫৭৩, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৬৩১]

★শরীয়তের বিধান হলো,বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকলে যাকাত আদায় করতে হবে। মাঝে নিসাব কমে যাওয়া ধর্তব্য নয়। অবশ্য বছরের মাঝে সম্পূর্ণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে ঐ সময় থেকে নতুন করে বছরের হিসাব আরম্ভ হবে এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত আদায় করতে হবে। 
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক  হাদীস ৭০৪২,৭০৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০২)

কারো যদি বছরের শুরুতে এবং বছরের শেষে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে বছরের মাঝে যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে, সেক্ষেত্রে বছরের মাঝে নেছাব পরিমাণ সম্পদ না থাকাটা তার যাকাত ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী হবে না, বরং এক্ষেত্রে বছরের শুরুতে এবং বছরের শেষে নেসাব পরিমান সম্পদ থাকাটাই যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যেদিন উক্ত স্বর্ণের মালিক হয়েছিলেন, সেদিন যদি আপনার মালিকানায় প্রয়োজন অতিরিক্ত কোন টাকা পয়সা না থাকে, কোন রুপাও না থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি সেদিন নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হননি।

এমতবস্থায় পরবর্তীতে যেদিন আপনার মালিকানায় প্রয়োজন অতিরিক্ত টাকা হয়েছে, সেদিন হয়তে আপনি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

ওই দিন হতে বছর পূর্ণ হলে আপনার উপর যাকাত ফরজ হবে।

বছর পূর্ণ হলে স্বর্ণের পাশাপাশি টাকারও যাকাত দিতে হবে।

আপনি উক্ত স্বর্ণের বর্তমান (যাকাত প্রদানের দিনের) বাজার মুল্য ধরে আপনার মালিকানায় থাকা টাকার সাথে যোগ করবেন।
এরপর পুরোটার শতকরা আড়াই পার্সেন্ট তথা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত হিসেবে প্রদান করবেন।

(০২)
হ্যাঁ, যাকাত আসবে।

(০৩)
কারো যদি অনেক জামাকাপড় থাকে,সেক্ষেত্রে ৩ জোড়া থেকে অতিরিক্ত কাপড় গুলি কুরবানীর নেসাবের মধ্যে গণনা করতে হবে।

উল্লেখ্য, যাকাত শুধুমাত্র স্বর্ণ, রূপা,  ব্যবসায়ী পণ্য, টাকা পয়সা ব্যতীত অন্য কোন কিছুর উপর আবশ্যক হয় না, তাই জামাকাপড় প্রয়োজন অতিরিক্ত হলেও এটি যাকাতের নেছাবের মধ্যে গণ্য হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...