আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
52 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (25 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারোকাতুহ। পাত্র-পাত্রী দ্বীনদার। কিন্তু পাত্র পড়াশোনার জন্য বিদেশে গেছেন। এর মাঝেই মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসে। পাত্র সেমিস্টার ব্রেকে জুন জুলাইয়ে দেশে আসবেন তখন পাত্রপাত্রীর উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হবে ইন শা আল্লাহ।

পাত্রপাত্রীর পরিবার প্র্যাকটিসিং মুসলিম না। যার দরুন পাত্রপাত্রী শারিয়াহ মোতাবেক একবার মাহরামের উপস্থিতিতে উভয়ের সাথে কথা বলেছে এরপর আর কথা হয়নি। উভয় পক্ষ পছন্দের পর পাত্রপক্ষ পাত্রীর বাসায় হাদিয়া দিবে এই উপলক্ষে ২৫ নিয়ে আসার প্রস্তাব রাখেন আর এতে মেয়ের বাবা কোনো ধরনের আপত্তি জানান নি বরং চুপ ছিলেন। মেয়ের বাবা মা চুপ থাকেন যেহেতু মেয়ে বিয়ে দিতে হবে আর পাত্র ও তাদের পছন্দ মতো।
শুধু তাই না, পাত্রপক্ষ নামে বলতেসে এটা engagement না হাদিয়া দিবে। কিন্তু মেয়ের থেকে আংটি, জুতার মাপ নিয়েছে। শাড়ির ব্লাউস পেটিকোটের মাপ নিতে চেয়েছিলেন মেয়ে গায়রতের কথা বলে দেন‌নি। তাদের প্ল্যান হলো ছেলে পক্ষ আসবে এইসব নিয়ে ডালাতে করে সাজিয়ে। তারপর মেয়েকে শাড়ি জুতা পড়তে হবে কারণ মুরুব্বি মহিলারা এভাবে মেয়েকে দেখতে চাচ্ছে এজন্য । তারপর ছেলের মা মেয়েকে আংটি পড়ায় দিবে। আবার মেয়ের পক্ষ থেকে ছেলেকে ঘড়ি দিবে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি রোমান আর হিন্দুদের আশির্বাদের অংশ বলে মেয়ে দাবি করছে তাই মেয়ে ওই দিন ছেলেপক্ষ থেকে আনা কোনো গিফট বা আংটি পড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এমন পড়ার জন্য জোরাজুরি করলে মেয়ে মহিলা সবার সামনেই না করে দিবে। মেয়ের পরিবার এটা মানতেসে না। বলতেসে এভাবে ঐদিন বললে বেয়াদবি হবে। এদিকে ছেলের সাথেও মেয়েপক্ষ থেকে কেউ এই বিষয়ে কথা বলছে না। বলবেও না। কারণ তাদের ভয় যদি কিছু থেকে কিছু হয়ে যায়।

ছেলের ফুপি বলসে ছেলে এইটার বিরুদ্ধে কিন্তু মুরুব্বিদের কথার বাইরে আপাতত কাজ করবে না, ছেলের গার্ডিয়ান ছেলেকে বলছে "তাদের সমাজ আছে এটা মেয়ে পক্ষকে দেখাতে হবে, তুমি যেহেতু দেশে নাই তাই বাড়াবাড়ি করবা না" এমনটা জানতে পেরেছি।
১. এখন এই মুহূর্তে মেয়ের কি করা উচিৎ? মেয়ে বিজাতির সংস্কৃতি অনুসরণ করবে না বলে দিসে।
২.আসলেই কি এই প্রক্রিয়াটি বিজাতির সংস্কৃতি? একটু বুঝিয়ে বলবেন কারণ উত্তর মেয়ে পক্ষের গার্ডিয়ানকেও দেখানো হবে।

৩.মেয়ের কি উচিত হবে সেই দিন শাড়ি, জুতা এসব accept না করা?
৪. মেয়ে কি ছেলের সাথে এই বিষয়ে বিস্তারিত মাহরামকে উপস্থিত রেখে ছেলের সাথে কথা বলতে পারবে? এটা কি ইসলাম অনুমোদন দেয়?

৫. যেহেতু ২৫ জন আসবে এটা ফাইনাল হয়ে গেছে তাই ২৫ জন আসা বাদ দেওয়া যাবে না। তাহলে ছেলে পক্ষের গিফট আদান প্রদান যদি বন্ধ করা যায় ঐদিনের জন্য তাহলে কি অনুষ্ঠানটা জায়েজ হবে?

1 Answer

0 votes
by (764,220 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/117467/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
শরীয়তের পরিভাষায় এঙ্গেজমেন্ট বলতে পুরুষ কর্তৃক কোনো নারীকে বিবাহ করতে চাওয়া বুঝায়। 

এক্ষেত্রে আংটি বা চেইন বিনিময় করার বিষয়টিও সমাজে প্রচলিত রয়েছে,এটি সামাজিক রীতি মাত্র। বিবাহের পূর্বে এরূপ কোন লেনদেনের প্রমাণ শরী‘আতে পাওয়া যায় না। অতএব এগুলি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

ইসলামে কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো প্রথা কিংবা রীতিনীতি নেই। এঙ্গেজমেন্টের নামে আমাদের সমাজে প্রচলিত আংটি বদলের যেই রেওয়াজ আছে তা সম্পূর্ণ শরীয়তবিরোধী। মূলত এঙ্গেজমেন্টের সাথে আংটি বদলের কোনো সম্পর্ক নেই।

অনেকে মনে করেন, বিবাহের পূর্বে পাত্র-পাত্রীর মাঝে আংটি বদল করলে উভয়ের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। এটি একটি সামাজিক কুসংস্কার ও অজ্ঞতা বৈ কিছুই নয়। ইসলামী শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই।

বিবাহপূর্ব পাত্র কর্তৃক পাত্রীকে আংটি পরিয়ে দেওয়ার এই প্রথাটি মূলত ইহুদি-খৃষ্টানদের থেকে এসেছে। এই প্রথার সাথে মুসলমানদের কোনো সম্পর্ক নেই। আর নবীজি সা. বলেছেন, যে কোনো জাতিকে অনুসরণ করবে, আখিরাতে সে ওই জাতির অন্তর্ভুক্ত হবে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّه رَضِىَ اللهُ عَنْهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلَا بِالنَّصَارٰى فَإِنَّ تَسْلِيمَ الْيَهُودِ الْإِشَارَةُ بِالْأَصَابِعِ وَتَسْلِيمَ النَّصَارَى الْإِشَارَةُ بِالْأَكُفِّ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ

আমর ইবনু শু‘আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর পিতামহ হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ছাড়া অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তোমরা ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য করো না। কেননা ইয়াহূদীরা অঙ্গুলির ইশারায় সালাম দেয়, আর খ্রিষ্টানরা হাতের তালু দ্বারা সালাম করে।

(হাদীসটির হুকুম হাসান : তিরমিযী ২৬৯৫, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২১৯৪, আল জামি‘উস্ সগীর ৯৫৬৫, সহীহুল জামি‘ ৫৪৩৪, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৭৩৮০, ইরওয়া ১২৭০, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭২৩।)
,
 قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ " 
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তরভুক্ত (হয়ে যাবে)।
(হাদিস টির হুকুম হাসান : আবূ দাঊদ ৪০৩১, মুসনাদে আহমাদে এরূপ শব্দে হাদীসটি নেই; আল জামি‘উস্ সগীর ১১০৯৪, সহীহুল জামি‘ ৬১৪৯, ইরওয়া ২৬৯১।

সমাজে প্রচলিত এঙ্গেজমেন্ট তথা পাত্র কর্তৃক পাত্রীকে আংটি পরানোর অনুষ্ঠানে সাধারণত ছেলে মেয়েটিকে নিজ হাতে আংটি পরিয়ে দেয়; অথচ মেয়েটি এখনো তার স্ত্রী হয়নি।

বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত মেয়েটি ছেলেটির জন্য গাইরে মাহরাম, অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে পর্দার বিধান শতভাগ বর্তাবে। আর আংটি পরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ছেলে-মেয়ে উভয়েই পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হচ্ছে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
এনগেজমেন্ট ব্যাপারটা ইসলামে কোনো ভাবেই জায়েজ নেই।

এভাবে বিয়ে যদি ঠিক হয়ে যায়, বিয়ের আগের কয়দিন ওই মেয়ের সাথে কথা বলা দেখা করা বাহিরে বের হওয়া সম্পূর্ণ হারাম।

সে এখনো তার বিবাহিতা স্ত্রী হয়নি,সে এখনো গায়রে মাহরাম রয়েছে,তাই গায়রে মাহরামের মতোই তার সাথে পর্দার বিধান হবে।

বিবাহের ক্ষেত্রে করনীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ- 

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
এক্ষেত্রে মেয়ে যে মতের উপর আছে, সেটিই সঠিক। এই মতের উপরে থাকারই পরামর্শ তার প্রতি থাকবে।

(০২)
বিষয়টি বিস্তারিত উপরে উল্লেখ রয়েছে।

(০৩)
আনুষ্ঠানিকতা ব্যতীত বিয়ের আগে যেরকম স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাত্র পাত্রীকে কাপড়চোপড় দিয়ে থাকে, এমনিভাবে যদি প্রশ্নে উল্লেখিত আসবাবপত্র পাত্র যদি কোনো মহিলা/মেয়ের মাহরাম পুরুষ এর মাধ্যমে পাত্রীকে হাদিয়া দেয়,তাহলে পাত্রি তাহা গ্রহণ করতে পারবে। 

(০৪)
ইসলাম এর অনুমতি দেয় না।

এক্ষেত্রে নিজের মাহরামের মাধ্যমে ছেলেকে বুঝানো যেতে পারে। অথবা লিখিতভাবে (মেসেজে বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে) ছেলেকে বুঝানো যেতে পারে।

(০৫)
সেদিনই যদি ইজাব কবুল হয়ে যায়, তাহলে এর বৈধতা আসবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...