আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
97 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (49 points)
edited by
আমি সম্প্রতি একজনের কাছ থেকে শুনেছি যে, কোরআন শরীফে পৃথিবীর সকল বিষয় এমনকি আধুনিক মেশিন যেমন বিমান, গাড়ি ইত্যাদি কীভাবে তৈরি করতে হয় এসবও উল্লেখ আছে, তবে সেগুলো সরাসরি নয়; বরং গবেষণা করে বের করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, একজন মানুষের জন্মতারিখ পর্যন্ত কোরআনে রয়েছে, সেটিও গবেষণার মাধ্যমে জানা সম্ভব।
এই কথা শুনে আমার কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। কারণ আমি আগে কখনো এমন শুনিনি, এবং কোরআনের অনুবাদ পড়েও এ ধরনের বিষয় সরাসরি পাইনি।
পরে আমি একজন আলেমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও "কোরআনে সব কিছু আছে " কথাটির সাথে একমত পোষণ করেন।
এতে আমার মনে কিছু সংশয় সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে "সব কিছু আছে" কথাটির সঠিক অর্থ কী, তা নিয়ে।
 প্রশ্নসমূহ
১) " কোরআনে সব কিছু আছে "; এই কথাটির সঠিক ব্যাখ্যা কী?
এটি কি হেদায়াত ও দ্বীনের মূল বিষয়গুলোর জন্য সীমাবদ্ধ, নাকি দুনিয়ার সব প্রযুক্তিগত বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত?
২) কোরআনে কি সত্যিই সকল মেশিন (যেমন বিমান, গাড়ি ইত্যাদি) তৈরির পদ্ধতি গোপন বা ইঙ্গিত আকারে উল্লেখ আছে?
৩) কোনো ব্যক্তির জন্মতারিখ কোরআনে আছে এবং গবেষণা করে তা বের করা যাবে, এ ধরনের বক্তব্য কি সহীহ ও গ্রহণযোগ্য?
৪) "কোরআনে সব বিষয়ে ইঙ্গিত (principle) দেওয়া আছে, কিন্তু সরাসরি বিস্তারিত দেওয়া নেই" -এটিই কি আহলুস সুন্নাহর সঠিক আকীদা?
৫) "কোরআন থেকে সকল প্রযুক্তি,সব বৈজ্ঞানিক জিনিস, জন্মতারিখ সব বের করা যাবে " এটা শোনার পরে  মনে সন্দেহ বা প্রশ্ন আসলে- এতে কি আমার ঈমান চলে যাবে?
 অতিরিক্ত প্রশ্ন (লুঙ্গি প্রসঙ্গ)
আমাদের সমাজে লুঙ্গিকে অনেক সময় সাধারণ বা নিম্নমানের পোশাক হিসেবে দেখা হয়। কেউ লুঙ্গি পরে ভালো কোনো অনুষ্ঠানে গেলে অনেকে হাসাহাসি বা তাচ্ছিল্য করে।
শোনা যায়, লুঙ্গি পরা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
৬) যদি কেউ লুঙ্গি পরার কারণে কাউকে উপহাস বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, তাহলে কি সে ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِي كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا عَلَيْهِم مِّنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيدًا عَلَىٰ هَـٰؤُلَاءِ ۚ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ
সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।(সূরা নাহল-৮৯)


সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে তাবারিতে উল্লেখ রয়েছে যে,
( وَنـزلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ ) يقول: نـزل عليك يا محمد هذا القرآن بيانا لكلّ ما بالناس إليه الحاجة من معرفة الحلال والحرام والثواب والعقاب (وَهُدًى) من الضلال (وَرَحْمَةً) لمن صدّق به،
কুরআনে যে আল্লাহ তা'আলা تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ তথা 'কুরআন প্রত্যেক জিনিষের সুস্পষ্ট বর্ণনা' দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কুরআনে হালাল হারাম এবং সওয়ার ও শাস্তির পরিপূর্ণ বর্ণনা লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাছাড়া এতে হেদায়েত ও রহমতের সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। 

হযরত আলী রাযি বলেন,
قَالَ " كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ نَبَأُ مَا كَانَ قَبْلَكُمْ وَخَبَرُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ هُوَ الْفَصْلُ لَيْسَ بِالْهَزْلِ مَنْ تَرَكَهُ مِنْ جَبَّارٍ قَصَمَهُ اللَّهُ وَمَنِ ابْتَغَى الْهُدَى فِي غَيْرِهِ أَضَلَّهُ اللَّهُ وَهُوَ حَبْلُ اللَّهِ الْمَتِينُ وَهُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ وَهُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ هُوَ الَّذِي لاَ تَزِيغُ بِهِ الأَهْوَاءُ وَلاَ تَلْتَبِسُ بِهِ الأَلْسِنَةُ وَلاَ يَشْبَعُ مِنْهُ الْعُلَمَاءُ وَلاَ يَخْلَقُ عَلَى كَثْرَةِ الرَّدِّ وَلاَ تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ هُوَ الَّذِي لَمْ تَنْتَهِ الْجِنُّ إِذْ سَمِعَتْهُ حَتَّى قَالُوا (إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا * يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ ) مَنْ قَالَ بِهِ صَدَقَ وَمَنْ عَمِلَ بِهِ أُجِرَ وَمَنْ حَكَمَ بِهِ عَدَلَ وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ "
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কিতাবঃ তাতে আছে তোমাদেও পূর্ববর্তীদেও সংবাদ এবং পরবর্তীদের খবর। আর তোমাদের জন্য ফয়সালা-বিধান। এ হল (সত্য ও মিথ্যার) পার্থক্যকারী। এ নিরর্থক নয়। যে ব্যক্তি অহংকার বশে তা পরিত্যাগ করবে আল্লাহ্ তা’আলা তার গর্দান ভেঙ্গে দিবেন। একে বাদ দিয়ে যে ব্যক্তি হেদায়াত তালাশ করবে তাকে আল্লাহ্ তা’আলা গুমরাহ করে দিবেন।

এ হল আল্লাহ্ তা’আলার সুদৃঢ় রজ্জু। এ হল হিকমত পূর্ণ নসীহত। এই হল সরল সঠিক পথ। এর অনুসরণে মানুষের চিন্তাধারা বক্র হয় না। এতে যবান জড়তার শিকার হয় না। আলিমগণ এর থেকে কখনো পরিতৃপ্ত হয় না। বার বার পাঠেও তা কখনো পুরনো হয় না। এর বিস্বয়ের অন্ত নেই। এটি ঐ গ্রন্থ যা শোনার পর জিনরা এই কথা না বলে থাকতে পারে নি যে, ’’আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি যা সঠিক পথ-নির্দেশ করে। সুতরাং আমরা তাতে ঈমান এনেছি।’’ (জিন্ ৭২ঃ ১-২)

যে ব্যক্তি এর অনুসরণে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এতদানুযায়ী আমল করে সে প্রতিদান প্রাপ্ত হয়, যে ব্যক্তি এতদানুসারে ফায়সালা দেয় সে ইনসাফ-এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে আর যে ব্যক্তি এর দিকে আহবান জানায় সে সিরাতে মুস্তাকীমের হেদায়ত পায়। হে আ’ওয়ার, তোমার প্রতি এই কথাগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর।(তিরমিজী- ২৯০৬)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
কুরআনুর কারীমে প্রত্যেকটি জিনিষের সুস্পষ্ট ব্যখ্যা লিপিবদ্ধ রয়েছে। বাহ্যিকদৃষ্টিতে হালাল হারাম এবং সওয়াব ও শাস্তির বিষয়াবলী উল্লেখ থাকলেও প্রত্যেকটি প্রমাণিত বাস্তব বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যার ফলাফল কুরআনে রয়েছে। অন্যভাবে বললে এভাবে বলা যায় যে, বিজ্ঞানের ঐ সমস্ত থিউরীই সঠিক যেগুলো কুরআনের মূলনীতির সাথে ঐক্যমত্য থাকবে।
যেমন অংক ও গণিতের বইয়ের শেষাংশে লিপিবদ্ধ থাকে, কিন্তু অংকের পদ্ধতি মেইন বইয়ে থাকে না। অংক করার পর ফলাফল যদি বইয়ের শেষাংশের সাথে মিল থাকে, তাহলে ধরে নেওয়া হয় যে, অংকটি সঠিক। ঠিকতেমনি প্রত্যেকটি বিজ্ঞানের ফলাফল বা শেষ সিদ্ধান্ত যদি কুরআনের শেষ মূলনীতির সাথে মিল থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে যে, থিউরিটি সঠিক। নতুবা থিউরি সঠিক নয়।

সুতরাং 
(১) " কোরআনে সব কিছু আছে "
এখানে বাহ্যিকভাবে হেদায়াত ও দ্বীনের মূল বিষয়গুলো হলেও আনুষাঙ্গিক ভাবে প্রযুক্তিগত বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(২) কোরআন বিমান, গাড়ি ইত্যাদির তৈরির পদ্ধতি বর্ণনার জন্য নাযিল হয়নি। তবে কুরআনে প্রযুক্তি ইঙ্গিতাকারে বর্ণনা রয়েছে, যা বিজ্ঞজনরাই বুঝতে পারে।
(৩) ব্যক্তির জন্মতারিখ কোরআনে আছে এমনটা সঠিক নয়। তবে কেউ যদি বের করতে পারে, এবং সঠিকটা বের করে, তাহলে সেটাকে অস্বীকারও করা যাবে না।
(৪) "কুরআন মানুষের হেদায়েতের জন্য এসেছে, এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদা।

(৫) "কোরআন থেকে সকল প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক বের করা যাবে " এটাকে অস্বীকার করা যাবে না।
(৬) যদি কেউ লুঙ্গি পরার কারণে কাউকে উপহাস বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, তাহলে সে ব্যক্তি কাফের হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...