আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
53 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (42 points)
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
১- উস্তাজ সম্মিলিত মুনাজাত এর চেয়ে একা একা দোয়া করা কি ভালো?

২- মেয়েদের টেলিগ্রাম গ্রুপে অডিও কল অন করে সবাই একসাথে দোয়া করা কি জায়েয? একজন আপু জোরে জোরে দুয়া করেন আর বাকিরা হাত তুলেন। ওই আপুই সবার সব সমস্যা নিয়ে দুআ করে থাকেন। এটা কি ঠিক আছে?

৩- উস্তাজ একজন প্রশ্ন করেছেন যে, উনি যখন কষ্টে থাকেন তখন ওনার দুআ করার সময় অনেক কান্না করতে পারেন। কিন্তু এমনিতে দোয়া করতে বসলে অনেক চেষ্টা করে একদম অল্প কান্না আসে। মাঝে মাঝে আসে ও না। এটা কি মুনাফিকি কিনা?

৪- উস্তাজ সম্প্রতি আমি একটা আকিদার বই পড়তে যেয়ে দেখলাম যে ভয়ের ক্ষেত্রেও শিরক রয়েছে। যেমন:- কেউ যদি কোনো মূর্তি,জিন,মৃত মানুষ বা ব্যক্তি ইত্যাদির ক্ষতি করার বা অলৌকিক ক্ষমতার প্রতি ভয় পায় তাহলে এটা শিরক। আমাকে এটা আরেকটু ব্যখ্যা করলে মুনাসিব হতো। তাহলে অনেকে যে জিনের ভয় পায় তবে সেটা কি শিরক হবে?
৪- আমি যদি এমন বিশ্বাস রাখি যে, আল্লহ তা'আলার হুকুম ছাড়া কেউ আমার কোনো প্রকার ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখেনা। আমার উপর কোনো প্রকার কষ্ট বা বিপদ আপতিত হলেও সেটা তাকদিরে লিপিবদ্ধ ছিলো। এটা তো ঠিক আছে তাইনা?

1 Answer

0 votes
by (805,290 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(১)
নামাযের পর সম্মিলিত মুনাজাত সম্পর্কে ফুকাহায়ে কিরামের ভিন্ন রকম পরস্পর বিরোধী মতামত পাওয়া যায়।

অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম প্রচলিত পদ্ধতির মুনাজাতকে বিদ'আত আখ্যায়িত করেছেন।
(আহসানুল ফাতাওয়া , ৩য় খন্ড , পৃঃ ৬৯৮)
অন্যদিকে কিছুসংখ্যক উলামায়ে কিরাম এটাকে মুস্তাহাব বলেছেন।(ইমদাদুল ফাতাওয়া-১/৬৪৫ - ৬৬৬)
সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কথা হল,
যদি অাক্বিদা বিশুদ্ধ থাকে তথা এমন থাকে যে,নামাযের পর প্রচলিত মুনাজাত পদ্ধতি জরুরী কোনো বিষয় নয়,বরং ইচ্ছাধীন,তাহলে মুনাজাত বৈধ বা জায়েয।বিদ'আত ও নয় আবার মুস্তাহাব ও নয় বরং জায়েয তথা মুবাহ,করাও যেতে পারে আবার নাও করা যেতে পারে।
এই মুনাজাতের উপর পুরুস্কার-তিরস্কার কিছুই আসবে না।
এজন্য ইমাম সাহেব কর্তৃক মুসাল্লিদেরকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া উচিৎ,যাতে করে তাদের আক্বিদা- বিশ্বাস বিশুদ্ধ থাকে।মাঝেমধ্যে সম্মিলিত মুনাজাত পরিত্যাগ করাও উচিৎ,যাতে করে জনসাধারণের মনে এ ধারণা বদ্ধমূল হয় যে,প্রচলিত পদ্ধতির মুনাজাত (বিধান হিসেবে)ফরয বা ওয়াজিব নয়।
বিশেষকরে উলামায়ে কেরামের জন্য মাঝেমধ্যে পরিত্যাগ করা উচিৎ এবং জরুরী। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/472

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সম্মিলিত মুনাজাতে শরীক হওয়াই উচিত।

(২) এটাও করা যাবে। সমস্যা নেই।
(৩) না, মুনাফিকি হবে না।
(৪) জিন,মৃত মানুষকে ভয় করা শিরিক হবে না। তবে আল্লাহর হুকুম না হলে কোনো ক্ষতি হবে না। আল্লাহর কুদরতের সামনে এগুলো তুচ্ছ মনে না করা তাদেরকে সর্বেসর্বা মনে করা শিরিক।
(৫) 
আল্লহ তা'আলার হুকুম ছাড়া কেউ আমার কোনো প্রকার ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখেনা। আমার উপর কোনো প্রকার কষ্ট বা বিপদ আপতিত হলেও সেটা তাকদিরে লিপিবদ্ধ ছিলো। এমনটা মনে করা সঠিক আছে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...