আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
83 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (14 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ।
এক বোনের তরফ থেকে প্রশ্ন করছি।
"আমার ছোটবেলা থেকে পিসিওএস। গত ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়ে, অষুধ খেয়ে খেয়েও আমার এইটা সাড়েনি। ইদানিং আমার চেহারায় ছেলেদের মতো দাড়িগোঁফও গজায়ে যাচ্ছিল তাই আমি নতুন ডাক্তারের কাছে গেছিলাম। অষুধ দিয়েছে। সাথে একজন পুষ্টিবিদ দেখিয়েছে যে আমার খাওয়াদাওয়াতে অনেক বাধানিষেধ দিয়েছে, সাথে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দিয়েছে। এগুলো খেয়ে আমি অনেক ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।
কিন্তু, সাদাভাত না খাওয়াসহ নানা নিষেধের কারনে পরিবারের সবাই এইটা নিয়ে বিরক্ত। আমার মা এইগুলা পছন্দনকরেননা। ভাবছেন এগুলো করে আমি আরো আমার শরীর নষ্ট করছি।
শুধু এইটাই না, আমার রুক্বইয়া জনিত সমস্যাও আছে।  সারারাত আমি ঘুমাতে পারিনা কষ্ট পাই, দিনের বেলা অসুস্থ থাকি, রুক্বইয়াও করেছি। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই আমি অসুস্থ, ইনফেকশান, একের পর এক রোগ, পিরিয়ডের প্রব্লেম! বাড়িতে সবসময় অশান্তি। আমি সুস্থই থাকিনা, কিন্তু যেগুলো করলে সুস্থ থাকি তা করলেও সবাই আমারে বকাবকি করে।

কিন্তু, সবকিছুই তার কাছে পন্ডিতি মনে হয়। সে এই সাহরির সময় আমাকে বলল, আমি পন্ডিতি করে করে শরীর খারাপ করছি! এতো পন্ডিতের অবস্থা অমুকের মতো হয়, অমুকও পন্ডিতি করছিল। যার উদাহরণ দিল, তারও এই সমস্যা, বাচ্চা হয়না। আমি এতো ভয় পাচ্ছি যে, এই সময় আমার মা এই কথা কেন বলল!

তার নিজের থায়রয়েডের সমস্যা হওয়ার পর থেকে সমসময় খিটখিটে থাকে। যাচ্ছেতাই বলে আমাকে। আমার অসুখ নিয়ে, বিছানাগত হয়ে যাওয়া নিয়েও!অথচ, আমি বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই অসুস্থ!অসুখের সাথে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত,  সে নিজেও ক্লান্ত। তাই আরো খিটখিটে হয়ে এসব বলে।
আল্লাহ কি এই বদ্দুয়া কবুল করবে উদতাদ?আমার বুক ফেকে কান্না আসছে, আমার বিয়ের ৪ বছর হয়েছে। বাচ্চা নেই। আমি অসুস্থ। স্বামী দেশে নেই। আম্মু যখন এসব বলে, আমি কাদি আর বলি, আমারে তুমি বদ্দুয়া দিওনা। এখনো কাদছি, কিন্তু সে আমার সাথে কোনো কথাই আর বলছেনা।ভয় এবং যন্ত্রনায় আমার আর সহ্য হচ্ছেনা। আমি কী করব? কেদেকেটে তার পায়ে ধরলেও সে এইসব কথা ফেরত নেয়না!আমার মা আমাকে অনেক ভালোবাসে, কিন্তু সে তো না বুঝেই এসব বলে। সে যা ভাবে তাই বলে। আমার কি এই বদ্দুয়া লাগবে?আমি সত্যিই খুব অসুস্থ। বছরের পর বছর আমি রাতে ২/৩ ঘন্টা করে ঘুমাই। আমি আর সহ্য করতে পারছিনা হুজুর।আল্লাহর প্রপ্তি এই অসুখ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই, আলহামদুলিল্লাহ 'আলা কুল্লি হাল। সবরের সাথে চিকিৎসা করছি। কিন্তু, মানুষের কটুকথা আমি তো আর সহ্য করতে পারিনা! অন্যদের সব বাদ দিলেও মায়ের বদ্দুয়া থেকে আমি কীভাবে বাচব?চিকিৎসা বন্ধ করলে সে আর কিছু বলেনা। মাঝে ২ বছর বন্ধ রেখেছিলাম। কিন্তু এতে আরো খারাপ হয়েছে শরীর।
আমি কী করব?"

1 Answer

0 votes
by (814,680 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
মাতাপিতা অযথা বদদু'আ করলে সেই বদদু'আ কবুল হবে না।
হযরত উম্মে দারদা রাযি বলেন আমি আবুদ্দারদা রাযি কে বলতে শুনেছি
ﻋﻦ ﺃﻡ ﺍﻟﺪﺭﺩﺍﺀ ﻗﺎﻟﺖ ﺳﻤﻌﺖ ﺃﺑﺎ ﺍﻟﺪﺭﺩﺍﺀ ﻳﻘﻮﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﻥ ﺍﻟﻌﺒﺪ ﺇﺫﺍ ﻟﻌﻦ ﺷﻴﺌﺎ ﺻﻌﺪﺕ ﺍﻟﻠﻌﻨﺔ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻓﺘﻐﻠﻖ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺩﻭﻧﻬﺎ ﺛﻢ ﺗﻬﺒﻂ ﺇﻟﻰ ﺍﻷﺭﺽ ﻓﺘﻐﻠﻖ ﺃﺑﻮﺍﺑﻬﺎ ﺩﻭﻧﻬﺎ ﺛﻢ ﺗﺄﺧﺬ ﻳﻤﻴﻨﺎ ﻭﺷﻤﺎﻻ ﻓﺈﺫﺍ ﻟﻢ ﺗﺠﺪ ﻣﺴﺎﻏﺎ ﺭﺟﻌﺖ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺬﻱ ﻟﻌﻦ ﻓﺈﻥ ﻛﺎﻥ ﻟﺬﻟﻚ ﺃﻫﻼ ﻭﺇﻻ ﺭﺟﻌﺖ ﺇﻟﻰ ﻗﺎﺋﻠﻬﺎﺍﻟﻜﺘﺐ » ﺳﻨﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ » ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻷﺩﺏ » ﺑﺎﺏ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻌﻦ
রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোন বান্দা কোন ব্যক্তিকে অভিশাপ দেয়,তখন অভিশাপ আকাশে চলে যায়, আকাশের দরজাগুলো তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়, অতপর তা জমিনের দিকে নেমে আসে, তখন জমিনের দরজাগুলোও তার থেকে বন্ধ করে দয়ো হয়, অতপর তা ডানে বাঁয়ে ঘুরতে থাকে, যখন কোন উপায় না পায়, তখন যাকে অভিসম্পাত করা হয়েছে, সে যদি এর যোগ্য হয় তাহলে তার প্রতি পতিত হয়, অন্যথায় অভিশাপকারীর দিকেই ধাবিত হয়। {সুনানে আবু-দাউদ-৪৯০৫}

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!
বাবা মার বদ দু'আ কে আল্লাহ কবুল করেন ঠিক।তবে অন্যায়ভাবে সন্তানের উপর বদ-দু'আকে আল্লাহ কখনো কবুল করবেন না।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1935

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
অযথা মায়ের বদদোয়া আপনার উপর পতিত হবে না। তথাপি আপনি আপনার মাকে বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলবেন। এবং তার সাথে সদাসর্বদা সুন্দর আচরণ করবেন। নিজের অসুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। যেভাবে চললে আপনার সুবিধা মনে হয়, সেভাবেই আপনি চলবেন। এ ব্যাপারে কারো তিরস্কারের কোনো পরওয়া করবেন না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...