আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ।
এক বোনের তরফ থেকে প্রশ্ন করছি।
"আমার ছোটবেলা থেকে পিসিওএস। গত ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়ে, অষুধ খেয়ে খেয়েও আমার এইটা সাড়েনি। ইদানিং আমার চেহারায় ছেলেদের মতো দাড়িগোঁফও গজায়ে যাচ্ছিল তাই আমি নতুন ডাক্তারের কাছে গেছিলাম। অষুধ দিয়েছে। সাথে একজন পুষ্টিবিদ দেখিয়েছে যে আমার খাওয়াদাওয়াতে অনেক বাধানিষেধ দিয়েছে, সাথে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দিয়েছে। এগুলো খেয়ে আমি অনেক ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।
কিন্তু, সাদাভাত না খাওয়াসহ নানা নিষেধের কারনে পরিবারের সবাই এইটা নিয়ে বিরক্ত। আমার মা এইগুলা পছন্দনকরেননা। ভাবছেন এগুলো করে আমি আরো আমার শরীর নষ্ট করছি।
শুধু এইটাই না, আমার রুক্বইয়া জনিত সমস্যাও আছে। সারারাত আমি ঘুমাতে পারিনা কষ্ট পাই, দিনের বেলা অসুস্থ থাকি, রুক্বইয়াও করেছি। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই আমি অসুস্থ, ইনফেকশান, একের পর এক রোগ, পিরিয়ডের প্রব্লেম! বাড়িতে সবসময় অশান্তি। আমি সুস্থই থাকিনা, কিন্তু যেগুলো করলে সুস্থ থাকি তা করলেও সবাই আমারে বকাবকি করে।
কিন্তু, সবকিছুই তার কাছে পন্ডিতি মনে হয়। সে এই সাহরির সময় আমাকে বলল, আমি পন্ডিতি করে করে শরীর খারাপ করছি! এতো পন্ডিতের অবস্থা অমুকের মতো হয়, অমুকও পন্ডিতি করছিল। যার উদাহরণ দিল, তারও এই সমস্যা, বাচ্চা হয়না। আমি এতো ভয় পাচ্ছি যে, এই সময় আমার মা এই কথা কেন বলল!
তার নিজের থায়রয়েডের সমস্যা হওয়ার পর থেকে সমসময় খিটখিটে থাকে। যাচ্ছেতাই বলে আমাকে। আমার অসুখ নিয়ে, বিছানাগত হয়ে যাওয়া নিয়েও!অথচ, আমি বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই অসুস্থ!অসুখের সাথে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত, সে নিজেও ক্লান্ত। তাই আরো খিটখিটে হয়ে এসব বলে।
আল্লাহ কি এই বদ্দুয়া কবুল করবে উদতাদ?আমার বুক ফেকে কান্না আসছে, আমার বিয়ের ৪ বছর হয়েছে। বাচ্চা নেই। আমি অসুস্থ। স্বামী দেশে নেই। আম্মু যখন এসব বলে, আমি কাদি আর বলি, আমারে তুমি বদ্দুয়া দিওনা। এখনো কাদছি, কিন্তু সে আমার সাথে কোনো কথাই আর বলছেনা।ভয় এবং যন্ত্রনায় আমার আর সহ্য হচ্ছেনা। আমি কী করব? কেদেকেটে তার পায়ে ধরলেও সে এইসব কথা ফেরত নেয়না!আমার মা আমাকে অনেক ভালোবাসে, কিন্তু সে তো না বুঝেই এসব বলে। সে যা ভাবে তাই বলে। আমার কি এই বদ্দুয়া লাগবে?আমি সত্যিই খুব অসুস্থ। বছরের পর বছর আমি রাতে ২/৩ ঘন্টা করে ঘুমাই। আমি আর সহ্য করতে পারছিনা হুজুর।আল্লাহর প্রপ্তি এই অসুখ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই, আলহামদুলিল্লাহ 'আলা কুল্লি হাল। সবরের সাথে চিকিৎসা করছি। কিন্তু, মানুষের কটুকথা আমি তো আর সহ্য করতে পারিনা! অন্যদের সব বাদ দিলেও মায়ের বদ্দুয়া থেকে আমি কীভাবে বাচব?চিকিৎসা বন্ধ করলে সে আর কিছু বলেনা। মাঝে ২ বছর বন্ধ রেখেছিলাম। কিন্তু এতে আরো খারাপ হয়েছে শরীর।
আমি কী করব?"