আসসালামু আ'লাইকুম।
১)আমার ভাইয়ের ৮ মাস এর বাবু আছে তার ফিতরা আদায় করতে হবে? যেহেতু সে রোযাদার না।
২)একজন স্কলার সম্ভবত মিজানুর রহমান আজহারী উনি এক ওয়াজ এ বলেছিলেন,আল্লাহ যাকে যেমন সম্পদ প্রাচুর্য দিয়েছেন তা তার পোশাক আশাকেও ফুটিয়ে তোলা,এতে আল্লাহর নেয়ামত এর প্রকাশ পায় এরকম কিছু কথা বলেছেন।মানে যে ধনী সে যদি খুবই সাধারণ পোশাক মানে নিম্ন মানের পোশাক পড়ে তাহলে তো আল্লাহর শুকরিয়া আদায় হলো না,আল্লাহর দান এর মর্যাদা রইলোনা, আল্লাহ তাকে তৌফিক দিয়েছেন দামী জামা কাপড় পড়ার অবশ্যই তিনি তা পড়বেন।
এখন আমার প্রশ্ন এই কথা কি ঠিক? আমি শুধু ওনার ওয়াজ এই শুনেছি।
আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন, আমি বোরখা পড়ি মানে পর্দা করি,হিজাব নিকাব হাত পা মোজা সহ, সবসময় একদম প্লেইন কোনো স্টোন কিংবা লেইস এর কাজ ছাড়া, কালো রঙের আর বোরখা গুলো খুবই ঢিলেঢালা বাট দামী। কখনো আমি ভিন্ন কালার পড়িনা।এতে আমাকে খুবই নরমাল লাগে।আলাদা করে নজরে পড়িনা।কোনো ঘরোয়া অনুষ্টান কিংবা কোনো বিয়ের প্রোগ্রাম এও আমি একই ভাবে যাই।যা সেই প্রোগ্রাম গুলোর সাথে মানানসই না।সমাজের ভাষায় যাকে ক্ষ্যেত,অসুন্দর আখ্যা পাবে।এতে অবশ্য আমার ভ্রুক্ষেপ নেই।
আমাকে একজন বলে তুমি কালো পড়ো ঠিকাছে চাইলে তো তুমি একটু কাজ ওয়ালা পড়তে পারো,দেখতে দামী মনে হবে,আরেকটু সুন্দর লাগবে বোরখা।এখন আমার প্রশ্ন আমার তৌফিক অনুযায়ী চাইলে আমি কাজ ওয়ালা বোরখা পড়তেই পারি।এতে আমাকে আহামরি নজরে না আসলেও,অন্তত যে ভালো করে দেখবে মহিলারা আরকি তাদের কাছে মানানসই লাগবে,প্রোগ্রাম এ বা দাওয়াত এ।এই যে আমি পড়ছিন্স এরকম বোরখা তৌফিক থাকা সত্ত্বেও এতে কি আল্লাহর প্রতি অসোন্তোষ প্রকাশ হবে?যেহেতু উনি তৌফিক দেওয়া সত্ত্বেও আমি এভাবে সাধারণ চলছি। আর
৩)আমার কি এরকম সাজসজ্জা ওয়ালা কালো বোরখা পড়া আদো উচিত? এদে আমার পর্দাক্ষুণ্ণ হবেনা?
৪)আমি ঈদের জামা কিনি ৪/৫বছর হয়ে যাচ্ছে।কারণ আমি বোরখা পড়েই সবসময় বের হয়।আমার তোলা যে ৫/৬টা জামা আছে সবই ৬/৭ বছর আগের, দুটো ৩/৪বছর আগের।আমি এখনো এগুলো পরিধান করি যেহেতু জামা গুলো এখনো ভালো আছে।আমার মনে হয় জামা থাকা স্বত্তেও অতিরিক্ত জামা থাকলে সেটার জবাব দিতে হবে আল্লাহর কাছে।আর তাছাড়া আমার পরিবারের অনেক ঋণ অহেতুক শুধু মাত্র নতুন জামা কেনার খুশির জন্য কিনতে চাচ্ছিনা।এই যে আমি কিনছি না।এতে কি আমার কিপ্টেমি হচ্ছে? আল্লাহ কি নাখোশ হবেন?
৫)আমি এবার দশ দিনের ইতেকাফ এ বসি।আমি মোবাইল কাছে রেখেছি টাইম জানার জন্য আর বিকাশ এ সদকার জন্য,আর ইসলামিক কিছু জানার থাকলে তা জানার জন্য।তো আমি একটু রেস্ট নিলে ঘুম না এলে তখন মোবাইল এ বিভিন্ন ইসলামিক পোস্ট পড়ি আর স্কলারদের ভিডিও দেখি।এর মাঝখানে মাঝে কয়েকটা দুনিয়াবী পোস্ট ও চলে আসে আমি পড়ে ফেলি কোনো ভিডিও দেখিনা এতে কি আমার ইতেকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে?
৬)আমার ভাইয়ের বাবু আছে,ভাবী সবসময় আমার সাথে ডিসিশন নেওয়ার ক্ষেত্রে পরামর্শ করেন,যেহেতু আম্মু সম্প্রতি অসুস্থ এতে ভাবী রান্নার দায়িত্ব নিলে বাবু বেশিরভাগ সময় আমার সাথে থাকে,ভাবীও মাঝে মাঝে এসে এটা ওটা জিজ্ঞেস করে,আবার দুই একটা কালকে কি ঘটছে সেটা বলে ফেলে।আমিও দুই একটা উত্তর দেই এতে কি ইতেকাফ ফাসিদ হবে?
৭)আমার আম্মুর রোযার প্রথম ৯ দিন পিরিয়ড ছিলো।এখন আবার ২৭ রমজান এ পিরিয়ড হয় সাথে প্রচুর ব্যথা জ্বর জ্বর ভাব। এখন আম্মুর কি রোযা রাখতে হবে? যেহেতু প্রথম হায়েজ হওয়ার পর মাত্র ৯ দিন গ্যাপ ছিলো। আম্মুর ক্ষেত্রে এখন বিধান কি?
আফওয়ান অনেক গুলো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার জন্য।