আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
75 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
আসসালামু আ'লাইকুম।

১)আমার ভাইয়ের ৮ মাস এর বাবু আছে তার ফিতরা আদায় করতে হবে? যেহেতু সে রোযাদার না।
২)একজন স্কলার সম্ভবত মিজানুর রহমান আজহারী উনি এক ওয়াজ এ বলেছিলেন,আল্লাহ যাকে যেমন সম্পদ প্রাচুর্য দিয়েছেন তা তার পোশাক আশাকেও ফুটিয়ে তোলা,এতে আল্লাহর নেয়ামত এর প্রকাশ পায় এরকম কিছু কথা বলেছেন।মানে যে ধনী সে যদি খুবই সাধারণ পোশাক মানে নিম্ন মানের পোশাক পড়ে তাহলে তো আল্লাহর শুকরিয়া আদায় হলো না,আল্লাহর দান এর মর্যাদা রইলোনা, আল্লাহ তাকে তৌফিক দিয়েছেন দামী জামা কাপড় পড়ার অবশ্যই তিনি তা পড়বেন।
এখন আমার প্রশ্ন এই কথা কি ঠিক? আমি শুধু ওনার ওয়াজ এই শুনেছি।

আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন, আমি বোরখা পড়ি মানে পর্দা করি,হিজাব নিকাব হাত পা মোজা সহ, সবসময় একদম প্লেইন কোনো স্টোন কিংবা লেইস এর কাজ ছাড়া, কালো রঙের আর বোরখা গুলো খুবই ঢিলেঢালা বাট দামী। কখনো আমি ভিন্ন কালার পড়িনা।এতে আমাকে খুবই নরমাল লাগে।আলাদা করে নজরে পড়িনা।কোনো ঘরোয়া অনুষ্টান কিংবা কোনো বিয়ের প্রোগ্রাম এও আমি একই ভাবে যাই।যা সেই প্রোগ্রাম গুলোর সাথে মানানসই না।সমাজের ভাষায় যাকে ক্ষ্যেত,অসুন্দর আখ্যা পাবে।এতে অবশ্য আমার ভ্রুক্ষেপ নেই।

 আমাকে একজন বলে তুমি কালো পড়ো ঠিকাছে চাইলে তো তুমি একটু কাজ ওয়ালা পড়তে পারো,দেখতে দামী মনে হবে,আরেকটু সুন্দর লাগবে বোরখা।এখন আমার প্রশ্ন আমার তৌফিক অনুযায়ী চাইলে আমি কাজ ওয়ালা বোরখা পড়তেই পারি।এতে আমাকে আহামরি নজরে না আসলেও,অন্তত যে ভালো করে দেখবে মহিলারা আরকি তাদের কাছে মানানসই লাগবে,প্রোগ্রাম এ বা দাওয়াত এ।এই যে আমি পড়ছিন্স এরকম বোরখা তৌফিক থাকা সত্ত্বেও এতে কি আল্লাহর প্রতি অসোন্তোষ প্রকাশ হবে?যেহেতু উনি তৌফিক দেওয়া সত্ত্বেও আমি এভাবে সাধারণ চলছি। আর
৩)আমার কি এরকম সাজসজ্জা ওয়ালা কালো বোরখা পড়া আদো উচিত? এদে আমার পর্দাক্ষুণ্ণ হবেনা?

৪)আমি ঈদের জামা কিনি ৪/৫বছর হয়ে যাচ্ছে।কারণ আমি বোরখা পড়েই সবসময় বের হয়।আমার তোলা যে ৫/৬টা জামা আছে সবই ৬/৭ বছর আগের, দুটো ৩/৪বছর আগের।আমি এখনো এগুলো পরিধান করি যেহেতু জামা গুলো এখনো ভালো আছে।আমার মনে হয় জামা থাকা স্বত্তেও অতিরিক্ত জামা থাকলে সেটার জবাব দিতে হবে আল্লাহর কাছে।আর তাছাড়া আমার পরিবারের অনেক ঋণ অহেতুক শুধু মাত্র নতুন জামা কেনার খুশির জন্য কিনতে চাচ্ছিনা।এই যে আমি কিনছি না।এতে কি আমার কিপ্টেমি হচ্ছে? আল্লাহ কি নাখোশ হবেন?
৫)আমি এবার দশ দিনের ইতেকাফ এ বসি।আমি মোবাইল কাছে রেখেছি টাইম জানার জন্য আর বিকাশ এ সদকার জন্য,আর ইসলামিক কিছু জানার থাকলে তা জানার জন্য।তো আমি একটু রেস্ট নিলে ঘুম না এলে তখন মোবাইল এ বিভিন্ন ইসলামিক পোস্ট পড়ি আর স্কলারদের ভিডিও দেখি।এর মাঝখানে মাঝে কয়েকটা দুনিয়াবী পোস্ট ও চলে আসে আমি পড়ে ফেলি  কোনো ভিডিও দেখিনা এতে কি আমার ইতেকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে?

৬)আমার ভাইয়ের বাবু আছে,ভাবী সবসময় আমার সাথে ডিসিশন নেওয়ার ক্ষেত্রে পরামর্শ করেন,যেহেতু আম্মু সম্প্রতি অসুস্থ এতে ভাবী রান্নার দায়িত্ব নিলে বাবু বেশিরভাগ সময় আমার সাথে থাকে,ভাবীও মাঝে মাঝে এসে এটা ওটা জিজ্ঞেস করে,আবার দুই একটা কালকে কি ঘটছে সেটা বলে ফেলে।আমিও দুই একটা উত্তর দেই এতে কি ইতেকাফ ফাসিদ হবে?

৭)আমার আম্মুর রোযার প্রথম ৯ দিন পিরিয়ড ছিলো।এখন আবার ২৭ রমজান এ পিরিয়ড হয় সাথে প্রচুর ব্যথা জ্বর জ্বর ভাব। এখন আম্মুর কি রোযা রাখতে হবে? যেহেতু প্রথম হায়েজ হওয়ার পর মাত্র ৯ দিন গ্যাপ ছিলো। আম্মুর ক্ষেত্রে এখন বিধান কি?


আফওয়ান অনেক গুলো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার জন্য।

1 Answer

0 votes
by (812,460 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১) আপনার ভাইয়ের ৮ মাসের বাবুর ফিতরা আদায় করতে হবে। বাবার উপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। 

(২) আল্লাহ যাকে যেমন সম্পদ প্রাচুর্য দিয়েছেন তা তার পোশাক আশাকেও ফুটিয়ে তোলাও উচিত যাতেকরে আল্লাহর নিয়ামত তাতে প্রকাশ পায়। 

তৌফিক থাকা সত্ত্বেও এরকম পরিধান করলে কোনো সমস্যা হবে না।

(৩)সাজসজ্জা ওয়ালা কালো বোরখা পরিধান না করাই উচিত। বরং সাধাসিধা বোরখা পরিধান করা উচিত।

(৪)প্রশ্নের বিবরণমতে কিপ্টেমি হবে না। 

(৫)প্রশ্নের বিবরণমতে মুবাইল দেখার কারনে  ইতেকাফ তো ফাসিদ হবে না। তবে মুবাইলকে দূরে রাখাই উচিত।

(৬)আপনি যদি ইতিকাফ স্থল থেকে বের না হয়ে কথা বলে ফেলেন, তাহলে এজন্য আপনার ইতিকাফ ফাসিদ হবে না। 

(৭)পূর্বের হায়েয হওয়ার ৯ দিন পর যেহেতু আবার রক্তস্রাব এসেছে, তাই এটা ইস্তেহাযা। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...