আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
61 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। আমার স্বামী একদিন রাগে বলেছিল তুমার মাকে বল আরেকটা বিয়ে দিতে তুমাকে।মানে রাগে।আমাকে আগে স্বামী নিয়ত জিজ্ঞেস না করতে বলেছিল আর রেগে গিয়েছিল দেখে আমি সেবার এভাবে বলার পর ও নিয়ত জিজ্ঞেস করি নি।আপনি আর ওলি উল্লাহ হুজুর আগে বলেছিলেন মানে এসব বলার ও আগে নিয়ত জিজ্ঞেস না করতে।কিন্তু সেবার বলার পর আমি রাগে গিয়েছিল বা পরিস্থিতি অন্য রকম সেটা না বলে জিজ্ঞেস করেছিলাম তখন ওলি উল্লাহ হুজুর বলেছিল নিয়ত জিজ্ঞেস করতে হবে।আবার আরেকবার আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি সব কিছু বিস্তারিত বলে তখন আপনি বলেছিলেন নিয়ত না করলে গুণাহ হবে না এমন বলেছিলেন মনে হয়।এটা নিয়ে আবার চিন্তা আসতেছে আমি নিয়ত জিজ্ঞেস করি নি।এতে কি কোন গুণাহ বা কোন তালাক হয়?প্রশ্ন পুরোপুরি একদম লাইন বাই লাইন এমন নাও হতে পারে কিন্তু মূলকথা এমন ছিল হয়ত।

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِن تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِن تَسْأَلُوا عَنْهَا حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ
হে মুমিণগন, এমন কথাবার্তা জিজ্ঞেস করো না, যা তোমাদের কাছে পরিব্যক্ত হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। যদি কোরআন অবতরণকালে তোমরা এসব বিষয় জিজ্ঞেস কর, তবে তা তোমাদের জন্যে প্রকাশ করা হবে। অতীত বিষয় আল্লাহ ক্ষমা করেছেন আল্লাহ ক্ষমাশীল, সহনশীল। (সূরায়ে মায়েদা-১০১-১০২)

قَدْ سَأَلَهَا قَوْمٌ مِّن قَبْلِكُمْ ثُمَّ أَصْبَحُوا بِهَا كَافِرِينَ
এরূপ কথা বার্তা তোমাদের পুর্বে এক সম্প্রদায় জিজ্ঞেস করেছিল। এর পর তারা এসব বিষয়ে অবিশ্বাসী হয়ে গেল।(সূরায়ে মায়েদা-১০১-১০২)

হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : ما نهيتكم عنه ، فاجتنبوه ، وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم ، فإنما أهلك الذين من قبلكم كثرة مسائلهم واختلافهم على أنبيائهم . رواه البخاري ومسلم .
আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি যে,তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে যে সমস্ত জিনিষ থেকে নিষেধ করেছি, সে সমস্ত জিনিষ থেকে বিরত থাকো,এবং যে সমস্ত জিনিষের আদেশ করেছি, যথাসম্ভব সেগুলো পালন করার চেষ্টা করো। তোমাদের পূর্ববর্তীগণ তাদের অধিক প্রশ্ন এবং মতপার্থক্যর কারণেই ধংস হয়েছে।[সহীহ বুখারীঃ ৭২৮৮, সহীহ মুসলিম: ১৩৩৭] এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1379

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
ওয়াসওয়াসা মূলত ইলম কম থাকার কারণে তৈরী হয়। বিশেষত তালাক ও পবিত্রতা এবং হালাল হারাম বিষয়ে মৌলিক ধারণা না থাকার দরুণ ওয়াসওয়াসা তৈরী হয়। ওয়াসওয়াসা দূর করার সবচেয়ে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য ও ফলফসু মাধ্যমে হল, সরাসরি কারো কাছ থেকে উক্ত বিষয়ে বিশদ ধারণা গ্রহণ করা। তাহলে ওয়াসওয়াসা কিছুটা হলেও দূর হবে। প্রশ্নের বিবরণমতে উক্ত প্রশ্নটাই ওয়াসওয়াসা জনিত প্রশ্ন। এবং এর সমাধান হল, স্থানীয় পর্যায়ে কারো কাছ থেকে উক্ত বিষয়ে জেনে নেওয়া।

ওয়াসওয়াসা রোগী যে কি না পাগলের মত উদ্ভ্রান্ত, যার জীবনের চতুর্দিক অন্ধকারাচ্ছন্ন, সে সর্বদাই সবকিছু নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অবাস্তব ও অতিরিক্ত চিন্তা করে, তার উপর অত্যাবশ্যকীয় ওয়াসওয়াসা কোর্সকে সম্পন্ন করা। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/3318


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

অতীতে কে কি বলেছি, সেটা মূখ্য বিষয় নয়। বরং বর্তমানে বলতেছি যে, আপনি এই বিষয়ের চিন্তাকে পরিহার করুন। স্বামীকে একবার জিজ্ঞাসা করবেন তার নিয়ত কি ছিলো। সে কিছু না বললে আর কখনই তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
তবু আপনি বলার পর আমি জিজ্ঞেস করছিলাম এভাবে কোনদিন আমাকে ছেড়ে দিতে চাইছ? সে বলে না।তারপর বলি সেই নিয়তে কিছু বলছ? সে বলে না।

এখন কি করব আমি হুজুর?  প্রায় সময় রাগে বলে ফেলে।সবসময় তহ আমি পারব না জিজ্ঞেস করতে সে রেগে যায়। আমার খুব ভয় লাগে এসব নিয়ে।ভবিষ্যতে বললে আর কোনদিন জিজ্ঞেস না করলে কি কোন সমস্যা হবে?আগে সে খুব বাজে রিয়েক্ট করেছিল আমার স্বামী সে বলেছিল তার নাকি মনে হয় আমি তালাক চায়, আরেকবার তহ গালিও দিয়েছিল।তাই পরে বললে আর জিজ্ঞেস না করলে কি কোন সমস্যা হবে? 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...