ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
গর্ভাবস্থায় যেভাবে মহিলাদের জন্য সম্ভব, সেভাবেই নামায পড়বে।পা কিছুটা ছড়িয়ে সিজদাহ সিজদা দেওয়া যদি আপনার সম্ভবপর হয়,তাহলে সেভাবেই দিয়ে দিবেন। যদি কষ্টকর হয়, তাহলে কিয়াম রুকু করে বসে ইশারাতেই সিজদা দিতে পারবেন অথবা সম্পূর্ণ নামায বসে ইশারাতে পড়তে পারবেন।
لما الفتاوی الهندیة :
"وإن عجز عن القيام و الركوع والسجود وقدر على القعود يصلي قاعدا بإيماء، ويجعل السجود أخفض من الركوع."(كتاب الصلاة، فصل في صلاة المريض، 136/1، ط: رشيديه)
(২) সহজ (নরমাল) ডেলিভারির জন্য কুরআন তিলাওয়াত করাই সর্বাধিক বেশী উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।
(৩) অনাগত সন্তান যেন দ্বীনদার হয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণকর হয়, এ জন্য বাবা-মা হিসেবে আপনাদের জন্য করণীয় হল, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত দৈনিক কুরআন তিলাওয়াত করবেন। গুরুত্ব সহকারে নামায পড়বেন। এবং নেককার লোকদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখবেন।
(৪) মেসওয়াকের কোনো অংশ যদি অসাবধানতাবশত পেটে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। কাযা আসবে কাফফারা আসবে না।
(৫) তারাবির নামাজে দেখা যায় কেউ কেউ বসে থাকে, তারপর যখন ক্বারি সাহেব রুকু/সিজদায় যাওয়ার কাছাকাছি, তখন দাঁড়িয়ে নামাজে শরিক হয়। এভাবে নামাজ আদায় করলে নামাজের গুণগত মান বাকী থাকে না। এমনটা করলে সওয়াবে অবশ্যই কমতি চলে আসবে।
(৬) তারাবির নামাজ শেষে যে বিতরের নামাজ জামাতে আদায় করা হয়, তা সুন্নাহ সম্মত।
(৭) একজন অমুসলিম (হিন্দু) ভাই ইসলাম গ্রহণের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন (আলহামদুলিল্লাহ)। তিনি নিজের কাছে একটি কুরআন রাখতে চান। আপাতত কুরআনের বাংলা অনুবাদ দিয়ে দিবেন। তারপর মুসলমান হওয়ার পর পবিত্র হয়ে উনি আরবী কুরআন পড়তে পারবেন।
(৮) যিনি আল্লাহ তাআলার একত্ব সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পেরেছেন (আলহামদুলিল্লাহ)। এখন তাকে ধীরে ধীরে ইসলামের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার উচিত চেষ্টাপ্রচেষ্টা অভ্যাহত রাখা। তাকে বই পুস্তক উপহার দেয়া। এবং বিশিষ্ট দাঈদের সংস্পর্শে নিয়ে যাওয়া।
(৯) তাকে প্রথমে কালিমা পড়ে মুসলিম হতে হবে, তারপর তাকে কুরআন শিক্ষা দিতে পারবেন।
(১০) ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো বোঝার জন্য তাকে মুফতি জুবায়ের সাহেব দাঃ বাঃ এর লিখিত বইগুলো দিতে পারেন। কোনটা কোনটা দিতে পারবেন, সেজন্য IOM এর অফিসে যোগাযোগ করবেন।
(১১) তিনি ইসলাম গ্রহণ করতে চান, তাহলে কোর্টে উকিলের মাধ্যমে প্রথমে ধর্মান্তরিত হওয়ার কাগজপত্র তৈরী করবেন। তারপর মসজিদের ইমাম সাহেবের দ্বারা কালিমা পড়িয়ে নিবেন।