আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
68 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (19 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আমি প্রায় চার বছর আগে বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রীর বর্তমান বয়স ১৭ বছর। সে শিক্ষাগত দিক থেকে একেবারেই অজ্ঞ না জেনারেল শিক্ষা আছে, না আরবি শিক্ষা; অর্থাৎ সে সম্পূর্ণ নিরক্ষর।
আলহামদুলিল্লাহ, আমি যথাসাধ্য আল্লাহর দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করি। বিয়ের প্রথম তিন বছর আমাদের সংসার মোটামুটি ভালোই চলেছে। কিন্তু গত এক বছর ধরে আমার স্ত্রী আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। সে আমার কথা শোনে না, আমার সাথে তুই-তুকারি করে, উচ্চস্বরে কথা বলে এবং প্রায় প্রতিদিনই তর্ক বা ঝগড়া করে (সে সব সময় আমার সাথে মুখে মুখে তর্ক করে )
আমি সাধারণত সবকিছু ধৈর্য ধরে সহ্য করি এবং তাকে বুঝানোর চেষ্টা করি। তবে মাঝে মাঝে অসহ্য লাগলে আমি হালকা শাসন করি (প্রহার করি)। এছাড়াও, সে অনেক সময় ছোট বিষয়কে বড় করে তুলে ধরে।
আজ সকালে ঝগড়ার সময় আমি তাকে বলি আমার সাথে বেশি ঝগড়া করলে তোমার শরীরে আঘাত করব।
এতে সে বলে ,আমার শরীরে আঘাত করলে আমি একেবারে চলে যাব। তখন আমি বলি যাও! এরপর সে বলে
আমি ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাব। আমি আবার বলি যাও!

এই কথাগুলো আমি স্বাভাবিক কথোপকথনের মধ্যে বলেছি, আমার মনে তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত ছিল না।

প্রশ্ন:
উপরোক্ত কথাবার্তার মাধ্যমে কি আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হয়েছে? এই পরিস্থিতিতে আমার জন্য কোন নসিহত বা করণীয় কী হবে?

1 Answer

0 votes
by (805,290 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
"(قَوْلُهُ: وَهِيَ حَالَةُ مُذَاكَرَةِ الطَّلَاقِ) أَشَارَ بِهِ إلَى مَا فِي النَّهْرِ مِنْ أَنَّ دَلَالَةَ الْحَالِ تَعُمُّ دَلَالَةَ الْمَقَالِ قَالَ: وَعَلَى هَذَا فَتُفَسَّرُ الْمُذَاكَرَةُ بِسُؤَالِ الطَّلَاقِ أَوْ تَقْدِيمِ الْإِيقَاعِ كَمَا فِي اعْتَدِّي ثَلَاثًا وَقَالَ قَبْلَهُ الْمُذَاكَرَةُ أَنْ تَسْأَلَهُ هِيَ أَوْ أَجْنَبِيٌّ الطَّلَاقَ"
( كتاب الطلاق، بَابُ الْكِنَايَاتِ، ٣ / ٢٩٧)
মুযাকারায়ে তালাকের অর্থ হল, স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর নিকট তালাকের আবেদন করা ,অথবা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্বামীর নিকট তালাকের আবেদন এবং তামান্না করা। এই উভয় প্রকারকে 'মুতালাবায়ে তালাক বা মুযাকারায়ে তালাক' নামে অভিহিত করা হয়।তাছাড়া স্বামী যদি ইতিপূর্বে স্ত্রীকে এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকে,তাহলে এদ্বারাও মুযাকারায়ে তালাক প্রমাণিত হবে।এই তৃতীয় প্রকারকে  তাকদীমূল ঈ'কা বলা হয়ে থাকে।(রদ্দুল মুহতার-৩/২৯৭) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1049


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রথম কথা হল, যদি আপনি প্রহার করেন তাহলে স্ত্রী বলেছে, চলে যাবে। এখন যদি আপনি প্রহার না করে থাকেন, তাহলে তো তালাকের কোনো প্রশ্নই আসে না। দ্বিতীয় বিষয় হল, মুযাকারায়ে তালাকের সময় স্বামীর তালাকের নিয়ত না থাকলে দিয়ানাতান তালাক হয় না। 
সুতরাং প্রশ্নের বিবরণমতে কোনে তালাক হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...