আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
70 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (14 points)
1. ইতিকাফরত অবস্থায় কাপড়ে সামান্য নাপাকি লাগলে কি অজুর সময় বাথরুমে সেই অংশটুকু সাবান দিয়ে ধুয়ে আসতে পারব? নাকি নতুন কাপড় পরতে হবে? উল্লেখ্য, আমার ইতিকাফ রুম থেকে বাথরুম একটু দূরে।


2. তারাতারি একটু গায়ে পানি ঢালা যাবে। এই সময়ে কি খুব তারাতারি মাথায় সামান্য একটু শ্যাম্পু দেওয়া যাবে কোনোভাবে ?চুল অনেক তেলতেলে হয়ে আছে।


3. ইতিকাফে খাওয়ার শেষে অজুর উদ্দেশ্যে গিয়ে হাত ধুলে কি ইতিকাফ ভাঙবে?


অথবা রুমে জগে হাত ধুলাম, অজুর সময় পানিটা বাথরুমে ফেলে জগটা হালকা পানি দিয়ে ধুয়ে নিয়ে আসলে কি ইতিকাফ ভাঙবে?


4. মেয়েদের না ঘরের মসজিদ ছাড়া ইতিকাফ হয় না। তাহলে আইওএমে কেরানীগঞ্জ গিয়ে যে বোনেরা ইতিকাফ করে?


5. আমি যদি কজিনদের ঈদের সালামি সওয়াবের নিয়ত এ দিই তাহলে কি সওয়াব হবে? নাকি ওই টাকা দান করে দিবো। চাচা-চাচীর হাতে টাকা দেয়াটা সুন্দর দেখায় না, তাই ছোটদের দিতে চাইছি। ওরাও এতে খুশি হলো। উল্লেখ্য তাদের অবস্থা আহমরি ভালো না। চলে যায় সংসার মোটামুটি এমন।


6. যদি কোনো কজিনের অবস্থা ভালো থাকে তাও কি সওয়াবের নিয়ত এ সালামি দেওয়া যাবে?


7. ছোট কজিনদের বা বড় যে কেউ হোক, তাদের খুশির জন্য কিছু কিনে দিলে কি সওয়াব হয়? যদিও তাদের সামর্থ্য থাকে? যেমন এবার ঈদে গিয়ে মেহেদি কিনে দিলাম। সওয়াব হবে কি? বা ওদের ঘুরতে নিয়ে গেলাম ঈদের দিন। এতে কি আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হবেন?


8. ঘুরতে নেওয়ার সময় অনেক কজিন বেপর্দা যায়, তাদের নিয়ে যাওয়া কি উচিত হবে? বা সেখানে স্পটে গিয়ে তারা ছবি তুললে এতে কি আমার গুনাহ হবে? নাকি আমার উচিত ওদের ফোর্স করে হিজাব পরিয়ে নিয়ে যাওয়া। ফোর্স করলে পরবে, যেহেতু তারা ছোট, কিন্তু তাদের খুশি কমে যাবে।


9. মাঝে মাঝে আতিথেয়দের বাসায় বেরাতে গেলে যা কিছু নিয়ে যাই এতে কি সওয়াব হয়? কারণ কেউ আমাদের বাসায় আসে না, তাই আমি যেতে চাই না, সওয়াব না হলে। টাকাও গেল, সওয়াবও হলো না। তাহলে আর যাবই না। উল্লেখ্য গেলে তারা অনেক আপ্যায়ন করে।


10. বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে উপহার পাঠানো হয়—খাবারদাবার, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি। এগুলো কোনো ঘুষের মধ্যে পড়ে না। এমনকি বাবা কারো উপকার করার পর খুশি হয়ে কেউ কিছু দিলে তাও নেন না—এগুলো ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি। আমরা জানি ব্যাংকগুলো সুদের ওপর চলে। তাহলে এই উপহারগুলো যখন বাসায় আসে, সেই খাবারদাবার কি আমি খেতে পারব?

1 Answer

0 votes
by (808,290 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১) ইতিকাফরত অবস্থায় কাপড়ে সামান্য নাপাকি লাগলে নতুন কাপড় পরতে হবে। হ্যা, যদি অন্য কোনো কাপড় না থাকে, তাহলে ঐ ব্যক্তির জন্য কাপড় ধৌত করার নিমিত্তে মসজিদের বাহিরে যাওয়ার অনুমোদন থাকবে।

(২) তারাতারি একটু গায়ে পানি ঢালা যাবে। এই সময়ে মাথায় সাবান বা শ্যাম্পু দেওয়া যাবে না। 

(৩) ইতিকাফে খাওয়ার শেষে অজুর উদ্দেশ্যে গিয়ে হাত ধৌত করলে ইতিকাফ ফাসিদ হবে না।

অথবা রুমে জগে হাত ধৌত করার পর অজুর সময় পানি বাথরুমে ফেলে জগটা হালকা পানি দিয়ে ধৌত করা যাবে। এভাবে ইতিকাফ ফাসিদ হবে না।

(৪) মেয়েরা ঘরের মসজিদেই ইতিকাফ করবে। মসজিদে ইতিকাফের জন্য যাবে না। যদি কোথাও শুধুমাত্র নারীরাই ইতিকাফ করেন, তাহলে মাস'আলা মাসাঈল শিক্ষার নিয়তে সেখানে ইতিকাফ করার রুখসত থাকবে। অবশ্যই পর্দা পুশিদার সম্পূর্ণ এহতেমাম থাকতে হবে।

(৫) কজিনদেরকে ঈদের সালামি সওয়াবের নিয়তে দিলে অবশ্যই সওয়াব পাওয়া যাবে। তাদের অবস্থা তেমন উন্নত না হলে তাদেরকে যাকাত ফিতরা দেওয়া যাবে। তবে তারা নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হলে তখন কিন্তু দেওয়া যাবে না।

(৬) যদি কোনো কজিনের অবস্থা ভালো থাকে তাহলে সওয়াবের নিয়তে নফল দান সদকাহ সালামি হিসেবে দেওয়া যাবে। তবে যাকাত ফিতরা দেওয়া যাবে না।

(৭) ছোট কজিনদের বা বড় নফল দান সদকাহ করা যাবে যদিও তারা সামর্থ্যবান হোক না কেন। তবে সামর্থ্যবান হলে যাকাত ফিতরা দেওয়া যাবে না।

(৮) ঘুরতে নেওয়ার সময় যে সকল কজিন বেপর্দা যায়, তাদের নিয়ে যাওয়া উচিত হবে না। এবং জায়েযও হবে না। সেখানে স্পটে গিয়ে তারা ছবি তুললে এতে করে আপনিও দায়বদ্ধ থাকবেন।যদিও গোনাহ তাদেরই হবে। আপনার উচিত ওদেরকে ফোর্স করে হিজাব পরিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাদের খুশি কমে যাক, তারপরও হেজাব পরিয়ে নিয়ে যাবেন। ধীরে ধীরে তারা অভ্যস্ত হয়ে যাবে।


(৯) আত্মীয়দের বাসায় বেড়াতে গেলে যদি কিছু নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে এতে সওয়াব পাওয়া যাবে। 

(১০) আপনার বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যেই উপহার পাঠানো হয়,বা  খাবারদাবার, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি পাঠানো, সেগুলো গ্রহণ করা যাবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...