আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
101 views
in সালাত(Prayer) by (5 points)
আস-সালামুয়ালাইকুম
১.কেউ যদি শেষ রাতে বিতর পড়ার জন্য রেখে দেয় কিন্তু ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না পারে, ঘুম থেকে উঠে দেখে সুবহে সাদিক হয়ে গেছে তাহলে তখন ঐ বিতর সলাত কাযার নিয়ত না করে এমনি বিতরের নিয়ত করে ৩ রাকাত আদায় করে এরপর ফজর সলাত আদায় করে তাহলে কি তার বিতর এবং ফজর সলাত আদায় হয়ে যাবে?? যদি আদায় না হয়ে থাকে তাহলে এখন কি করবে??


২.কেনো বৃদ্ধা যদি ঈদের সলাতে তাকবীর মুখস্থ করতে না পারে তাহলে সে কীভাবে সালাত আদায় করবে??
একজন বৃদ্ধা তাকবীর পুরোটা মুখস্থ করতে পারতেছিল না আর সময় ও চলে যাচ্ছিল সেই জন্য আমি বলেছিলাম এতটুকুই পড়ুন

اَللهُ أًكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لاَ إِِلٰهَ إِلاَّ اللهُ
وَاللهُ أَكْبَرْ، اَللهُ أَكْبَرْ

কারণ উনি এতটুকুই বলতে পারতিছিল। উনার সলাত কি শুদ্ধ হয়েছে??

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
যে ব্যক্তি বিতরের নামাজের পরেও কোন নফল আদায় করবে অথবা শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করবে, তার জন্য উচিত সে বিতর নামাজকে সব নামাজের শেষে আদায় করবে।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا ".

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত করবে। (মুসলিম ৬/২০, হাঃ ৭৫১ আহমাদ ৪৭১০, ৫৭৯৮) (বুখারী ৯৯৮.আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪৪)

مُسَدَّدٌ قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ مَا تَرَى فِي صَلاَةِ اللَّيْلِ قَالَ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ الصُّبْحَ صَلَّى وَاحِدَةً فَأَوْتَرَتْ لَهُ مَا صَلَّى وَإِنَّهُ كَانَ يَقُولُ اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ وِتْرًا فَإِنَّ النَّبِيَّ أَمَرَ بِهِ.

ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করলেন, তখন তিনি মিম্বারে ছিলেন- আপনি রাতের সালাত কীভাবে আদায় করতে বলেন? তিনি বলেনঃ দু’রাক‘আত দু’রাক‘আত করে আদায় করবে। যখন তোমাদের কারো ভোর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তখন সে আরো এক রাক‘আত আদায় করে নিবে। আর এটি তার পূর্ববর্তী সালাতকে বিত্র করে দেবে। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলতেনঃ তোমরা বিতরকে রাতের শেষ সালাত হিসেবে আদায় কর। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী ৪৭২.৪৭৩, ৯৯০, ৯৯৩, ৯৯৫, ১১৩৭; মুসলিম ৬/২০, হাঃ ৭৪৯, ৭৫৩, আহমাদ ৬০১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৮)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে তার বিতর এবং ফজর সলাত আদায় হয়ে যাবে।
পুনরায় আদায় করতে হবেনা।

(০২)
শরীয়তের বিধান হলো মহিলাদের উপর জামা'আত জরুরি নয়,এই কারনে জুম'আ এবং ঈদের নামাজ তাদের উপর ওয়াজিব নয়।

যেহেতু জুম'আর স্থলাভিষিক্ত জোহরের নামাজ,তাই তারা জুম'আর দিন বাসায় জোহরের নামাজ আদায় করবে।
তব ঈদের নামাজের যেহেতু কোনো স্থলাভিষিক্ত নেই,তাই ঈদের নামাজের পরিবর্তে তাদের উপর কোনো নামাজ নেই। 
,
★সুতরাং মহিলারা ঈদের নামাজ পড়বেনা।
(কিতাবুন নাওয়াজেল ৫/১৯৯)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
عن نافع عن ابن عمر: أنہ کان لا یخرج نساء ’ في العیدین، وفي روایۃ عن ہشام بن عروۃ عن أبیہ: أنہ کان لا یدع امرأۃ تخرج إلی فطر و لا أضحی۔ (المصنف لابن أبي شیبۃ ۴؍۲۳۴ المجلس العلمي، تاتارخانیۃ ۲؍۲۰۸ رقم: ۳۴۱۸)
সারমর্মঃ
হযরত ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত,ঈদের নামাজে মহিলারা বের হবেনা।

বিস্তারিত জানুনঃ  
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
হানাফি মাযহাব মতে মহিলাদের উপর ঈদের নামাজ নেই।
যেহেতু তাদের উপর ঈদের নামাজই নেই,তাই নিয়ম কানুনের প্রশ্নই উঠেনা।  
,
তবে এক্ষেত্রে কিছু ইসলামী স্কলারদের মতবিরোধ আছে।
সুতরাং তাদের মতানুসারী গন সেই মত অনুযায়ী আমল করতে পারবেন।             

★ প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে বৃদ্ধা নারীর সলাত শুদ্ধ হয়েছে।

ঈদের সালাতে উক্ত তাকবির না বলার দরুন নামাজের কোন ত্রুটি হয় না।
এটি নামাজের অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...