আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
70 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (23 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহ
১) ময়মনসিংহ সদরে শশুর বাড়ি আর গাজীপুর বাপের বাড়ি হলে কসর নামাজ পড়তে হবে?  ৪-৫ দিন থাকার সম্ভাবনা
২) কসর নামাজ পরতে হলে ৪ রাকাআত নামাজের নিয়ত কিভাবে করবো?
৩) বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কিভাবে নিয়ত করবো?
৪) হুরমতে মুসাহারাত নিয়ে
স্পর্শের ফলে মনে বাজে চিন্তা আসলে কিন্তু উত্তেজনা না আসলে হুরমত হয় কি?

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান হলো ওয়াতনে আসলী (স্থায়ী নিবাস) তে এক দিনের জন্য গেলেও পুরো নামাজ পড়তে হবে।
    
ব্যক্তি নিজের স্থায়ী নিবাসে গেলে কখনো মুসাফির হয়না। স্থায়ী নিবাস বলে এমন স্থানকে-“যেখানে ব্যক্তির বসবাসের জন্য স্থায়ী গৃহ থাকে, স্ত্রী সন্তান নিয়ে যেখানে সর্বদার জন্য থাকার নিবাস হয়”।

শরীয়তের বিধান হলো কোন স্থানে গিয়ে সেখানে যদি কমপক্ষে পনের দিন থাকার নিয়ত না করে, তাহলেও কসর পড়তে হবে। বেশি দিন থাকার নিয়ত করলে কসর করতে পারবে না।

৭৮ কিলোমিটার হল সফরের দূরত্ব। এর কম নয়। সুতরাং কেউ যদি ৭৮ কিলোমিটার দূরত্বের সফরের নিয়তে বের হয় কেবল সেই ব্যক্তি কসর পড়তে পার। এরচে’কম দূরত্বের সফরের জন্য কসর পড়া জায়েজ নয়।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

সেক্ষেত্রে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ কসর করতে হবে। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে,

وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ

‘আর যখন তোমরা যমীনে সফর করবে, তখন তোমাদের নামাজ কসর করাতে কোনো দোষ নেই।’ [সূরা নিসা, আয়াত: ১০১]

হাদিস শরীফে এসেছে,

عِيسَى بْنُ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ فِى طَرِيقٍ – قَالَ – فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ فَرَأَى نَاسًا قِيَامًا فَقَالَ مَا يَصْنَعُ هَؤُلاَءِ قُلْتُ يُسَبِّحُونَ. قَالَ لَوْ كُنْتُ مُسَبِّحًا أَتْمَمْتُ صَلاَتِى يَا ابْنَ أَخِى إِنِّى صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ – ﷺ – فِى السَّفَرِ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ أَبَا بَكْرٍ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ عُمَرَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَصَحِبْتُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَقَدْ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِى رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

ইবনে উমর রাযি. বলেন, নিশ্চয় আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সাথে সফর করেছি, তিনি মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। আমি আবু বকর রাযি. এর সাথেও সফর করেছি, তিনিও আমরণ সফরে ২ রাকাতই পড়েছেন। আমি উমর রাযি. এর সাথেও সফর করেছি তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। আমি  উসমান রাযি. এর সাথেও সফর করেছি, তিনিও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। আর আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমি তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ এর মাঝে রেখেছি উত্তম আদর্শ। (মুসলিম ১৬১১)

ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
يَا أَهْلَ مَكَّةَ ، لا تَقْصُرُوا الصَّلاةَ فِي أَدْنَى مِنْ أَرْبَعَةِ بُرُدٍ
হে মক্কাবাসী! চার বারীদের কমে কসর করবে না। (দারা কুতনী ১/৩৮৭)

ইমাম বুখারি রহ. বলেন,
 وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ، وَابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، يَقْصُرَانِ، وَيُفْطِرَانِ فِي أَرْبَعَةِ بُرُدٍ وَهِيَ سِتَّةَ عَشَرَ فَرْسَخًا

ইবনে উমর রাযি এবং  ইবনে আব্বাস রাযি চার বারীদ সফরের সময় কসর পড়া এবং রোযা ভাঙ্গার কথা বলেছেন। আর সেটি হল, ১৬ ফরসখ। (সহিহ বুখারি, নামায কসর করা অধ্যায়)

★সেই হিসেবে সফরের দূরত্ব দাঁড়াচ্ছে ৪৮ মাইল।

আরো জানুনঃ 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
আপনার স্থায়ী বাসা কোনটা?

আপনি যদি স্থায়ী ভাবে শ্বশুর বাড়ি ময়মনসিংহ তেই স্বামী ও সন্তানাদি নিয়ে আজীবন থাকার নিয়ত করেন,নিজের বাবার বাসায় সন্তানাদি নিয়ে আজীবন থাকার নিয়ত না করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে শ্বশুর বাড়ি ময়মনসিংহ তেই থাকার নিয়ত করেন, সেক্ষেত্রে প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে বাবার বাসা গাজীপুরে এসে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে কসরের নামাজ আদায় করবেন।

তবে ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি থাকার নিয়ত করলে সে ক্ষেত্রে আপনি বাবার বাসায় কসরের নামাজ আদায় করতে পারবেন না বরং সেক্ষেত্রে আপনাকে পূর্ণ নামাজই আদায় করতে হবে।

আর যদি আপনি শ্বশুর বাড়ি ময়মনসিংহকে স্থায়ী বাসা হিসেবে গণ্য না করেন বরং নিজের বাবার বাসাকেই স্থায়ী বাসা হিসেবে গণ্য করেন, নিজের বাবার বাসা গাজীপুরেই স্বামী সন্তানাদি নিয়ে আজীবন থাকার নিয়ত করেন, সেক্ষেত্রে আপনার স্থায়ী বাসা আপনার বাবার বাসা।

আর কোন ব্যক্তি নিজের আসল বাড়িতে আসলে সে মুসাফির হয় না, তাই এমতাবস্থায় আপনি নিজের বাবার বাসায় আসলে মুসাফির হবেননা। বাবার বাসায় আপনি কসরের নামাজ আদায় করতে পারবেন না।

এমতাবস্থায় আপনাকে সর্বক্ষেত্রে বাবার বাসায় পূর্ণ নামাজই আদায় করতে হব।

فى رد المحتار- (الوطن الاصلى يبطل بمثله) ( قوله إذا لم يبق له بالأول أهل ) أي وإن بقي له فيه عقار قال في النهر : ولو نقل أهله ومتاعه وله دور في البلد لا تبقى وطنا له وقيل تبقى كذا في المحيط وغيره (رد المحتار-كتاب الصلاة، باب صلاة المسافر، مطلب في الوطن الأصلي ووطن الإقامة-2/614)
সারমর্মঃ ওয়াতনে আসলিতে যদি স্থায়ী আর না থাকার নিয়ত করে,এবং  পরিবার সামানা যদি সেখানে আর না থাকে,তাহলে সেটা আর ওয়াতনে আসলি থাকবেনা। 
অন্যথায় সেটা ওয়াতনে আসলি হিসেবেই থাকবে।   

আরো জানুনঃ

(০২)
আপনি এভাবে নিয়ত করবেন
"আমি জোহরের কসর আদায় করছি।"
অথবা "আমি জোহরের ২ রাকাত কসর আদায় করছি"
অথবা "আমি জোহরের কসর ২ রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করছি"

(০৩)
নিয়ত মানে ইচ্ছা, সংকল্প করা।

আপনি বাসা হতে বের হয়ে বাবার বাসায় মূলত কয়দিনের জন্য যাচ্ছেন! সেই ব্যপারে কি সংকল্প করেছেন,সেটিই এখানে উদ্দেশ্য। 

আলাদা ভাবে অন্য কোনো নিয়তের জরুরত নেই।

(০৪)
না,এক্ষেত্রে হুরমত সাব্যস্ত হয়না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (23 points)
স্বামী, সন্তান নিয়ে ময়মনসিংহ আমার স।থায়ী বসবাস। গাজীপুর মায়ের বাড়ি মাঝে মধ্যে ঘুরতে যাওয়ার জন্য 

ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর যাবো বেড়াতে ৪-৫ দিনের জন্য 
by (766,140 points)
সেক্ষেত্রে প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে বাবার বাসা গাজীপুরে এসে কসরের নামাজ আদায় করবেন।
by (23 points)
প্রত্যেক নামাজে কসর কথাটা উল্লেখ করতে হবে নিয়তে?? ফজর আর মাগরিব নামাজ তো সম্পূর্ণ পড়তে হবে তখন নিয়ত কিভাবে করবো? 
by (766,140 points)
প্রত্যেক নামাজে কসর কথাটা অন্তরে বদ্ধমূল রাখবেন। 

ফজর আর মাগরিব নামাজ যেহেতু সম্পূর্ণ পড়তে হয়,তাই সেক্ষেত্রে কসর কথাটা উল্লেখ করবেননা,অন্যান্য সময়ের ন্যায় সাভাবিকভাবে তখন নিয়ত করবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 72 views
...