আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
159 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (51 points)
edited by
১.আমার নানি প্রায় তার গ্রামের আত্নীয়দের বলেন ঢাকায় ঘুরতে আসতে উনারা যেন এসে থেকে যায়।কিন্তু বর্তমানে আমাদের ঘরের সংকট চলছে।কোন মেহমান আসলে তাদের রাখার মতো পরিস্থিতি নেই এবং আমি নিজে পর্দা করি তারা আসলে হয়তো সাথে এমন পুরুষ মানুষ আসতে পারে যাদের সামনে আমার পর্দা করা ফরজ।তো আজকের ঘটনা নানি তার বোনের মেয়েকে বলছিলো উনারা যেন ঢাকায় আসে ঘুরে যায়।নানি তার বোনের মেয়ের সাথে কথা শেষ করার পর নানিকে বললাম যে তিনি যে এমন করে উনাদের ঢাকায় আসতে বলে তারা আসলে থাকতে দিব কোথায়।আমাদের খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই কিন্তু থাকার জায়গা তো নেই এবং আমি তাকে এটা স্বাভাবিক ভাবেই বলার চেষ্টা করেছি।আমি একথা বলার পর নানু বলেছে যে মামার বাসায় তাদের নিয়ে রাখবে কিন্তু সে নিজে তাদের সাথে থাকবেনা তাদের রেখে চলে আসবে।তো আমি নানুকে আমার কথার মাধ্যমে এটা বুঝিয়েছি  তুমি থাকবে না তাদের রেখে চলে আসবে এটা তো স্বাভাবিক হয়না এবং এটা কেমন দেখায়।

 (উল্লেখ্য নানি মেহমান মামার বাসায় রেখে চলে আসবে কারণ মামামামির সাথে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে।আমার মেঝ মামাতো  ভাইকে পড়াপানি বা পড়া তেল দিয়েছে এমন কিছু কথা শুনেছি এবং আমার বড় মামাতো ভাই তার নামে অভিযোগও করেছে আমার খালামনির কাছে।পূর্বে আমিও নিজের কানে শুনেছি কোন জটআলির কাছে তিনি গিয়েছিলেন একাধিকবার এবং সেখানে গিয়ে যে তিনি কি করেছে তা আল্লাহ ভালো জানে)

আমি নানিকে ঐসব কথা বলেছি তাই নানি মনে কষ্ট পেয়েছে হয়তো আমার সাথে রাগ করেছে।তো আমার মা আমাকে আবার জিজ্ঞেস করেছে নানু এমন করছে কি আমার কারণে তখন আমি আম্মুকে বিষয়টি বলি এবং সাথে এটাও বলি নানি এই সামান্য বিষয়ে এমন রাগ করলে কিভাবে কি হবে।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমার কথার মাধ্যমে নানি যে কষ্ট পেলো এতে করে  আমি কি নানির হক নষ্ট করেছি? আম্মুর কাছে যখন বললাম নানি সামান্য বিষয়ে রাগ করলে কিভাবে কি হবে তখন কি নানির গীবত করা হয়েছে?
২.আমার ভাইকে আমি বলছিলাম ঘরের কথা বাইরে যেন না বলে।তখন আমি ওকে বলেছিলাম যে আমাকে নিয়ে অনেক মানুষ হিংসা করতো। এ কথা বলার সময় পাশে আমার নানি ও আম্মু বসা ছিলো এবং তারা জানতো যে কোন  মানুষ গুলো আমাকে নিয়ে  হিংসা করতো।এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে নানি ও আম্মু তো জানে আমি কাদের উদ্দেশ্য করে হিংসার কথা বলেছি এর মধ্যেমে  গীবত হয়েছে কিনা ঐ ব্যক্তিদের নামে?

৩.তার আরেকটা স্বভাব আমাদের ঘরের কথা আমার খালামনির কাছে খালামনির বাসায় কথা আমাদের এখানে মামার বাসার কথা আমাদের এখানে এসে বলে এক কথায় কথা লাগানোর স্বভাব আরকি।তার এই স্বভাব নিয়ে যদি তাকে কিছু বুঝিয়ে বলতে চাই তাহলে সে যে কি করবে আল্লাহ জানে।তার এই স্বভাবের জন্য আমাদের কারণীয় কি?


৪.আমার ভায়ের সয়স ১৭+। নানি আমার এই ভায়ের সামনে ব্লাউজ পেটিকোট পরে দাড়িয়ে থাকে এবং শাড়ি পরে।তিনি যে ভুল করছে অন্যায় করছে এগুলো নিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলতে গেলেও রাগ করে কষ্ট পায় নাহলে উল্টাপাল্টা কথা বলে।আমারা এখন কি করতে পারি এসব বিষয়ে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ  

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [٤٩:١٢] 

মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। {সূরা হুজুরাত-১২}

عَنْ أَبِي سَعْدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا “، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا؟ قَالَ: ” إِنَّ الرَّجُلَ لَيَزْنِي فَيَتُوبُ فَيَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ “وَفِي رِوَايَةِ حَمْزَةَ ” فَيَتُوبُ فَيَغْفِرُ لَهُ، وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَغْفِرَهَا لَهُ صَاحِبُهُ  

হযরত আবু সাঈস এবং জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ গীবত করা ব্যভিচার করার চেয়েও জঘন্য। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গীবত করা ব্যভিচারের চেয়ে জঘন্য হয় কি করে? রাসূল সাঃ বললেনঃ নিশ্চয় ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তওবা করে থাকে, ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিন্তু গীবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যতক্ষণ না যার গীবত করেছে সে তাকে ক্ষমা করে। {শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬৩১৫, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫৯০}

ছয়টি কারণে গীবত করা জায়েজ আছে। 

 الأول: التظلم. يجوز للمظلوم أن يتظلم إلى السلطان والقاضي وغيرهما ممن له ولاية أو له قدرة على إنصافه من ظالمه، فيذكر أن فلانا ظلمني وفعل بي كذا وأخذ لي كذا ونحو ذلك. 

(এক) জালিমের জুলুম থেকে বাঁচতে বিচারকের নিকট জালিমের বিরুদ্ধে নালিশ/গিবত করা বৈধ।যেমন মজলুম ব্যক্তি বিচারকের নিকট গিয়ে বলল,অমুক ব্যক্তি আমার উপর জুলুম-নির্যাতন করেছে।এবং আমার সাথে সে এমন এমন ব্যবহার করেছে।আমার অমুক অমুক জিনিষ সে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

 الثاني: الاستعانة على تغيير المنكر ورد العاصي إلى الصواب. وبيانه أن يقول لمن يرجو قدرته على إزالة المنكر: فلان يعمل كذا فازجره عنه ونحو ذلك، ويكون مقصوده إزالة المنكر، فإن لم يقصد ذلك كان حراما. 

(দুই) মন্দকে পরিবর্তন করতে এবং গোনাহগারকে নেকির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে কারো গীবত করা।যেমন এমন কারো কাছে গিয়ে গিবত করা,যে ব্যক্তি ঐ মন্দকাজ সম্পাদনকারীকে ধমক দিতে পারে, ইত্যাদি ইত্যাদি।শর্ত এই যে, মন্দকে বিদূরিত করার উদ্দেশ্যই থাকতে হবে।উদ্দেশ্য যদি অন্য কিছু হয় তখন কিন্তু গীবত করা জায়েয হবে না বরং হারাম হবে।

বিস্তারিত জানুনঃ   

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
আপনার মা যেনো আপনার নানিকে সংশোধন এর চেষ্টা করতে পারে,এই নিয়তে  বলা জায়েজ হবে।
এতে গুনাহ হবেনা।

(০২)
বিষয়টি যদি এমনই হয় যাহা প্রশ্নে উল্লেখ রয়েছে,তাহলে গীবত হবে। 

(০৩)
শরীয়তের বিধান বুঝানো দরকার।

(০৪)
তাকে বুঝানো অব্যাহত রাখতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (51 points)
নানি যে আমার কথার মাধ্যমে কষ্ট পেয়েছে এতে করে আমার কোন গুনাহ হবে কিনা এই বিষয়টি যদি বলা হতো তাহলে আমার জন্য সহজ হতো। 
by (770,460 points)
আপনি যদি এক্ষেত্রে আপনার নানির সাথে জোর আওয়াজে কথা না বলে থাকেন, বেয়াদবি না করে থাকেন, বরং স্বাভাবিক আওয়াজেই বিষয়টি বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে এতে আপনার গুনাহ হবে না।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...