আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
90 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।
 আমার বাবা এবং আমার বড় বাবা উভয়ই আমার দাদি এবং আমার ফুপির কথা অন্ধের মত বিশ্বাস করে।তারা কোনো কিছু মিথ্যা বললেও তারা তাই বিশ্বাস করে ।কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়া। আমার বড় আম্মুর উপর এত এত অত্যাচার করে যা কোনো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়।এমন কোনো দিন নেই যেদিন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় না। সকাল সন্ধ্যা সবসময়।এমন কি ঈদ এর দিন সকালে এবং সন্ধ্যা তেও বাদ যায় নি । আমার দাদি এখনো সংসারের সব দায়িত্ব নিয়ে রাখছেন ।তিনি চাল ,ডাল ,মসলা সব বের করে দেন তারপর আমার বড় আম্মু রান্না করে । আবার প্রয়োজনের চেয়ে কম চাল রান্না করতে দেয় ‌। এক্ষেত্রে বড় আম্মু প্রায় সময়ই না খেয়ে থাকে । আমার দাদি ও কম খান। তবে সবসময় আমার বড় আম্মুর খাওয়া নিয়ে খোটা দেন। এর আগে একবার এমন হয়েছে যে আমার বড়ো আম্মুর খিদে পেয়েছিল আমার দাদির আগেই তিনি একটু ভাত খেয়ে নিয়েছিলেন।তখন আমার দাদি আমার বড়ো আম্মুকে অনেক মেরেছে।আর আমার ফুপি ইন্ধন দিয়েছে।এর আমার ফুঁপির কথায় বড়ো আম্মুকে তালাক দিতে চেয়েছিলো । কিন্তু আমার দাদুর জন্য পারে নি ।দাদু মারা যাওয়ার পর তাদের অত্যাচার এর মাত্রা বেড়ে গেছে।আমার বড় আম্মুর নামে আমার ফুপি আর আমার দাদি বড় বাবার কাছে মিথ্যা মিথ্যা বলে ।আর আমার বড় বাবাও ওনাকে মারে । খুউব খারাপ ব্যবহার করে।বলে যে তোর বাপের বাড়ি থেকে কি পাঠাইসে।যা চলে যা। আমার দাদি বলে পরের মেয়ে কোনোদিন আপন হয় না ।বলে এই বউ গেলে আবার আসবে।আমার বড় আম্মুর বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো না। এর আগে উনি ওখানে গিয়ে দেড় বছর ছিলেন। কিন্তু আবার চলে আসছে । তাদের বিয়ের প্রায় ২৮ বছর চলছে আমরা দাদু বাড়িতে গেলেই বড়ো আম্মুর কান্না করে বলে ঐ বাড়িতে কুকুরের যে দাম আছে ওনার তাও নাই। মাঝে মাঝে এত কষ্ট সহ্য করতে না পেরে উনি নামাজ পড়া বাদ দিয়ে দেন। আল্লাহর উপর বিশ্বাস করতে পারে না । আমার বাবার কাছে ফয়সালা চেয়েও কোনো কাজ হয় নি । তাদের বোঝালে বুঝতে চায় না । বুঝিয়ে বলতে গেলে পুরো কথা না শুনে চলে যায়।
প্রশ্ন ১ : আমার বড় আম্মু যে তার বাবার বাড়ি গিয়ে দেড় বছর ছিলেন ওনাদের কি তালাক হয়ে গেছে?
প্রশ্ন ২ : এমন কোনো আমল আছে কি যাতে করে বড়ো আম্মুর প্রতি সবাই একটু সহনশীল হয় ।ওনাকে একটু সম্মান করে ।ওনাকে ভালোবাসে।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ্ তা‘আলা যালিমদের জন্য জাহান্নামে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। যা তাকে গ্রহণ করতেই হবে।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِيْنَ نَارًا، أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا، وَإِنْ يَّسْتَغِيْثُوْا يُغَاثُوْا بِمَاءٍ كَالْـمُهْلِ يَشْوِيْ الْوُجُوْهَ، بِئْسَ الشَّرَابُ، وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا»
‘‘আমি যালিমদের জন্য জাহান্নাম প্রস্ত্তত রেখেছি। যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। তারা পানি চাইলে তাদেরকে দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানি। যা তাদের মুখমণ্ডল পুড়িয়ে দিবে। এটা কতই না নিকৃষ্ট পানীয় এবং সে জাহান্নাম কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়’’। (কাহ্ফ : ২৯)

আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেন:
«وَسَيَعْلَمُ الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَّنْقَلِبُوْنَ»
’’অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানবে কোথায় তাদের গন্তব্যস্থল!’’ (শু‘আরা’ : ২২৭)

আবূ যর গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
يَا عِبَادِيْ! إِنِّيْ حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِيْ وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلَا تَظَالَـمُوْا.
‘‘হে আমার বান্দাহ্রা! নিশ্চয়ই আমি আমার উপর যুলুম হারাম করে দিয়েছি অতএব তোমাদের উপরও তা হারাম। সুতরাং তোমরা পরস্পর যুলুম করো না’’। (মুসলিম ২৫৭৭)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনার দাদু এবং ফুফু মিলে আপনার বড় আম্মুর সাথে যা করছেন,এর শাস্তি অবশ্যই তাদেরকে ভোগ করতে হবে। দুনিয়াতেও ভোগ করতে হবে এবং আখিরাতেও ভোগ করতে হবে। 

(১) আমার বড় আম্মু যে তার বাবার বাড়ি গিয়ে দেড় বছর ছিলেন, এজন্য তাদের বৈবাহিক জীবনে কোনো সমস্যা হবে না। তালাক হবে না।
(২) আপনার বড় আম্মুকে তাহাজ্জুদের নামায পড়ার জন্য বলবেন। আল্লাহ উনাকে সাহায্য করুক। আমীন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...