আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
58 views
in সালাত(Prayer) by (3 points)
দু'আ নিয়ে আমার কিছু প্রশ্ন:
(১) লাইলাতুল কদর এর দিন আগামী এক বছরের ভাগ্যে নির্ধারণ হয় জানি। তো এই রাতে আল্লাহর কাছে এভাবে দুয়া করা যাবে যে আল্লাহ এই এক বছরে আমি এই এই জিনিসগুলো চাই। আগামী এক বছরের মধ্যেই আমাকে এগুলো দিও।
(২) কদরের রাত ছাড়া অন্য সময়ে কি এভাবে সময় নির্দিষ্ট করে দুয়া করা যাবে যে আল্লাহ আমাকে এই মাসের মধ্যে এটা দিও। আমাকে দিতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা না বলে শুধু নিজের চাওয়াটা টুকু অনুরোধ সহকারে পেশ করা যাবে যে আল্লাহ এই মাসের মধ্যে বা এই সময়ের মধ্যে দাও।
(৩) যদি কল্যাণের হয় তাহলেই দিও। না হয় দিও না। প্রতিটি দুয়াতেই কি এভাবে চাইতে হবে? যদি প্রতি দুয়াতেই এভাবে চাই যে আল্লাহ কল্যান হলে দিও না হয় দিও না। তাহলে তো কিছুদিন পর আমি আর দুয়াই করতে পারবো না। অর্থাৎ কোনো দুয়ার উত্তর যদি দেরিতে আসে। তাহলে তো কিছুদিন দুয়া করে ভাববো হয়তো কল্যানের না তাই আল্লাহ দিচ্ছেনা। এভাবে করে দুয়া করাই বন্ধ করে দিব।  নাকি আমি যা যা চাই তা আল্লাহর কাছে চেয়ে ফেলবো এই আশা নিয়ে যে আল্লাহ আমাকে যা দিবে সেটাই কল্যাণ, আমি চেয়ে চেয়ে পাগল হয়ে গেলেও যদি জিনিসটা অকল্যাণকর হয় তাহলে আল্লাহ দিবেন না।
(৪) সব দুয়ায় খইর আর আফিয়াতের সাথে মিলিয়ে দাও। এভাবে বলা উচিত? একজন জানালেন যে আফিয়াত না উল্লেখ করলে নাকি আমি যা চাইবো সেটার বিপরীত কিছু ঘটতে পারে। যেমন আমি চাইলাম আল্লাহ আমাকে সন্তান দাও। এখন আফিয়াত বলিনি তাই এমন সন্তান হলো যে খুবই বদ। বা এমন জিনিস আসলো যেটা আমার জন্য পরীক্ষা। এটা কি আসলেই আমার একটা শব্দ উচ্চারণ না করার কারণে এমন ঘটে? অথচ কুরআনের দুয়াগুলো একদম এক কথায় সব চাওয়া পেশ করা হয়েছে।
(৫) আমরা জানি দুয়া তাকদিরকে পরিবর্তন করে। কিন্তু তাকদির তো পূর্বনির্ধারিত। তাহলে এই বিষয়টি কীভাবে ঘটে?

1 Answer

0 votes
by (763,650 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/9692/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে।
وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ
শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ
এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ
এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।


আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ :  مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ‘ইবাদত করে, তার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমাযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে।(সহীহ বোখারী-১৯০১,সহীহ মুসলিম-৭৫৯, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৭৭)

হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত
عن ﻋﺎﺋﺸﺔ رضي الله عنها ﻗﺎﻟﺖ: ﻗﻠﺖ: ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ، ﺃﺭﺃﻳﺖ ﺇﻥ ﻋﻠﻤﺖُ ﺃﻱُّ ﻟﻴﻠﺔٍ ﻟﻴﻠﺔُ اﻟﻘﺪْﺭِ، ﻣﺎ ﺃﻗﻮﻝ ﻓﻴﻬﺎ؟ ﻗﺎﻝ: (ﻗﻮﻟﻲ: اﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧﻚ ﻋﻔﻮٌّ ﺗﺤﺐ اﻟﻌﻔﻮَ ﻓﺎﻋﻒُ ﻋﻨﻲ)
তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বললাম,যদি আমি লাইলাতুল কদরকে পাই তাহলে কি দু'আ করবো? রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,তুমি পড়বে,
''আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি ইয়া কারীম" (সুনানে তিরমিযি-৮০২৫)

এ সমস্ত আয়াত ও হাদীস প্রমাণ করে যে,লাইলাতুল কদর দু'আ কবুল হওয়ার উত্তম মুহুর্ত।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
মূলত তাকদিরে তো সবকিছুই পূর্ব হতেই লেখা রয়েছে কিন্তু এ রাত্রে আগামী এক বছরের অনেক বিষয় ফেরেশতাদের জানিয়ে দেওয়া হয় বা তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যেমন রিজিক জীবন মৃত্যু বিভিন্ন ঘটনা ইত্যাদি।

অনেক ইসলামী স্কলার কোন বলেন এই রাত্রে নতুন করে ভাগ্য লেখা হয় না বরং আল্লাহর কাছে আগে থেকেই থাকা সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের নির্দেশ শুধুমাত্র এ রাতে দেওয়া হয়।

★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি এভাবে দোয়া করতে পারবেন।

(০২)
হ্যাঁ, এভাবে দোয়া করতে পারবেন।

(০৩)
হ্যাঁ, এভাবে দোয়া করা যাবে।

(০৪)
এভাবে বলা যাবে।

(০৫)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
হযরত সালমান ফারসি রাযি থেকে বর্ণিত,

سَلْمَانَ رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَرُدُّ القَضَاءَ إِلَّا الدُّعَاءُ، وَلَا يَزِيدُ فِي العُمْرِ إِلَّا البِرُّ

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,তাকদীরকে দু'আ ব্যতীত অন্যকিছু বদলাতে পারে না।আর নেকী ব্যতীত অন্যকিছু হায়াতকে বৃদ্ধি করবে না।(সুনানু তিরমিযি-২১৩৯)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
উলামায়ে কেরাম তাকদীরকে দু’ভাগে ভাগ করেন। ১. তাকদীরে মুবরাম ২. তাকদীরে মাআল্লাক।

তাকদীরে মুবরাম হল, যা কখনোই পরিবর্তন হয় না। অনাদী থেকে আল্লাহর কাছে যা লিপিবদ্ধ আছে তাই সংঘটিত হবে।

আর তাকদীরে মুআল্লাক হল, যা ফেরেশেতাদের খাতায় লিখা থাকে। 

এই প্রকারের তাকদীর দোয়া বা বিভিন্ন কর্মের মাধ্যমে পরিবর্তন হতে পারে। 

কুরআন হাদিসে তাকদীর পরিবর্তনের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে, তা এই প্রকার তাকদীরের ব্যাপারেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...