আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
52 views
in কুরবানী (Slaughtering) by (35 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
কুরবানির সময় তো আমরা জানি আল্লাহর কাছে নিজের বা পরিবারের বা কাছের মানুষের নামে কুরবানির নিয়ত করতে হবে।
সেই হিসাবে কি রাসূল সা. এর নামে কুরবানি দেওয়া যাবে?
নিজের নামে একটা দেওয়া হবে, এর পরে আরেকটা খাসি কি রাসূলের সা. নামে দেওয়া যাবে?
আরেকটা প্রশ্ন মারা গেছেন এমন পিতামাতার নামে কি কুরবানি দেওয়া যাবে?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
হযরত হানাশ রাহ বলেন,
عن حنش، قال: رأيت عليا يضحي بكبشين فقلت له: ما هذا؟ فقال: «إن رسول الله صلى الله عليه وسلم أوصاني أن أضحي عنه فأنا أضحي عنه»

আমি হযরত আলী রাযি কে দু'টি কুরবানি করতে দেখলাম। আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম।এটা কি? তিনি উত্তরে বললেন,রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাকে উনার পক্ষ্য থেকে কুরবানি করার ওসিয়ত করে গেছেন।(সুনানু আবি-দাউদ-২৭৯০)

https://ifatwa.info/22613/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
নিজের ওয়াজিব কুরবানি আদায় করার পর মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করা যাবে। কেননা কুরবানি এক প্রকার সদকাহ। আর মৃত ব্যক্তির নামে যেমন সাদাকাহ করা যায় তেমনি তার পক্ষ হতে কুরবানিও দেয়া যায়।সে তার সওয়াব পাবে। যেমন হাদিসে আসে:-

عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ. أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا، وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ، فَهَلْ لَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ "

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আমার জননীর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, আমার বিশ্বাস তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) কথা বলতে সক্ষম হলে কিছু সাদাকা করে যেতেন। এখন আমি তাঁর পক্ষ হতে সাদাকা করলে তিনি এ সাওয়াব পাবেন কি? তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হাঁ (অবশ্যই পাবে)।(সহীহ বুখারী- ১৩৮৮)

، عَنْ عَائِشَةَ، وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ سَمِينَيْنِ أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ فَذَبَحَ أَحَدَهُمَا عَنْ أُمَّتِهِ لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ بِالتَّوْحِيدِ وَشَهِدَ لَهُ بِالْبَلاَغِ وَذَبَحَ الآخَرَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَعَنْ آلِ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ .

আয়েশা (রাঃ) ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর ইচ্ছা করলে দু’টি মোটাতাজা, মাংসল, শিংযুক্ত, ধুসর বর্ণের ও ছিন্নমুষ্ক মেষ ক্রয় করতেন। অতঃপর এর একটি নিজ উম্মাতের যারা আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং তাঁর নবুয়াতের সাক্ষ্য দেয় তাদের পক্ষ থেকে এবং অপরটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে কোরবানী করতেন।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২২)

তবে মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে।

لو ضحى عن ميت وارثه بأمره ألزمه بالتصدق بها وعدم الأكل منها(رد المحتار3/352)

যদি মৃত ব্যক্তি ওয়ারিশ তার ওসিয়ত পালনার্থে কুরবানী করে, তাহলে তা সদকা করা আবশ্যক,এবং ওয়ারিশরা এর গোস্ত খেতে পারবে না (রদ্দুল মুহতার-৩/৩৫২)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে রাসূল সা. এর নামে কুরবানি দেওয়া যাবে।

নিজের নামে একটা খাশি দেওয়ার পর আরেকটা খাসি রাসূল সা. এর নামে দেওয়া যাবে।

মৃত পিতামাতার নামেও কুরবানি দেওয়া যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...