আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
54 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (10 points)
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

উস্তাজ একটা প্রশ্ন ছিল:

আমার পরিচিত একজনের মেয়েকে এক জায়গায় বিয়ে দেয়। বিয়ের ১৪ দিন পর মেয়ে তার পূর্ব প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়।তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই সে সেই ছেলেকে বিয়ে করে নিছে। পালিয়ে গিয়ে সে যে বিয়ে করছে বিয়েটা কী সহিহ হয়ছে?
উল্লেখ্য: পালিয়ে যাওয়ার দিনই তার স্বামীকে ডিভোর্স দেয়।সে ঐ (পালিয়ে যাওয়া ছেলে) ছেলেকে বিয়ে করার পর ডিভোর্স লেটার স্বামীর কাছে পৌছে।তার স্বামী তাকে ডিভোর্স দিছে কিনা জানা নেই তবে তার স্বামীও দ্বিতীয় বিয়ে করে নিছে।

আমরা তো জানি বিবাহিত মেয়েদের ২য় বিয়ের ক্ষেত্রে ৩ মাস ইদ্দত পালন করতে হয়।যদি বিয়ে সহিহ না হয়ে থাকে তাহলে এই বিয়েটা সহিহ করার উপায় কী?

এমতাবস্থায় মেয়ের অভিভাবকদের করনীয় কী? পাত্র দেখার আগে মেয়েকে বার বার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তার পছন্দের কেউ আছে কিনা ,সে বার বার অস্বীকার গিয়েছিল। মেয়ের অভিভাবক নিজেও সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলো পাশাপাশি মেয়ে যাদের সাথে ফ্রি তাদের মাধ্যমেও জিজ্ঞেস করেছিলো।মেয়ে সবসময়ই অস্বীকার গিয়েছিল। বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করার পর ঐ ছেলে(,যার সাথে সম্পর্ক ছিল) মেয়ের বাবাকে ফোন দেয়। ছেলের আর্থিক অবস্থা, সামাজিক সম্মান,শিক্ষাগত যোগ্যতা সবকিছুই মেয়ের থেকে কম । ছেলের পরিবারের সদস্যদের চরিত্র গত সমস্যা ছিল।সব মিলিয়ে তারা ঐ ছেলের কাছে মেয়েকে বিয়ে দেয় নি। বরং মেয়েকে বুঝিয়ে অভিভাবকের পছন্দের ছেলের কাছেই বিয়ে দেয়।মেয়ে বিয়ের দিনো হাসি-খুশি ছিলো।তাকে বোঝানোর পর সে ঐ ছেলের (পালিয়ে যাওয়া ছেলে) ব্যাপারে কারো সাথে কোনো কথা বলেনি। অভিভাবকের পছন্দের ছেলেকে সে বিয়ে করবে না এমন কিছুও বলে নি।

جزاك الله خيرا فى الدنيا و الاخرة

~অভিবাবকের পক্ষ থেকে

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَّ الۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ۚ کِتٰبَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ ۚ وَ اُحِلَّ لَکُمۡ مَّا وَرَآءَ ذٰلِکُمۡ اَنۡ تَبۡتَغُوۡا بِاَمۡوَالِکُمۡ مُّحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ ؕ فَمَا اسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِہٖ مِنۡہُنَّ فَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ فَرِیۡضَۃً ؕ وَ لَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ فِیۡمَا تَرٰضَیۡتُمۡ بِہٖ مِنۡۢ بَعۡدِ الۡفَرِیۡضَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ﴿۲۴﴾ 

আর নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া সব সধবা (অন্যের বিবাহিতা স্ত্রী) তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তোমাদের জন্য এগুলো আল্লাহর বিধান। উল্লেখিত নারীগণ ছাড়া অন্য নারীকে অর্থব্যয়ে বিয়ে করতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হল, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমর সম্ভোগ করেছ তাদের নির্ধারিত মাহর অর্পণ করবে। মাহর নির্ধারণের পর কোন বিষয়ে পস্পর রাযী হলে তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
(সুরা নিসা ২৪)

فتاوی ہندیہ   :
"لا يجوز للرجل أن يتزوج زوجة غيره وكذلك المعتدة."
(کتاب النکاح ،القسم السادس المحرمات اللتی یتعلق بہا حق الغیر،ج:۱،ص:۲۸۰،دارالفکر)
সারমর্মঃ-
কোনো পুরুষের জন্য অন্যের বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করা জায়েজ নেই,অনুরুপ ভাবে ইদ্দতপালন রত কোনো স্ত্রীকে বিবাহ করা জায়েজ নেই।

★স-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত মেয়েটি প্রথম স্বামী হতে তালাক না নিয়েই অন্যত্রে বিবাহ বসেছিল। পরবর্তীতে সে তার স্বামীকে তালাক দিয়েছে। স্বামীকে তালাক দিলে তালাক পতিত হয় না, বরং স্ত্রী যদি স্বামী কর্তৃক তালাকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে সেই তালাকের ক্ষমতা বলে সে যদি নিজেকে নিজে তালাক দেয়, তবেই তালাক পতিত হয়। অন্যথায় তালাক পতিত হয় না।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত মেয়েটির জন্য ১ম স্বামী থেকে তালাক না নিয়ে এভাবে ২য় স্বামীর সাথে বিবাহ বসা শুদ্ধ হয়নি। 

এক্ষেত্রে তাদের যেনার সংসার হচ্ছে।
,
তার জন্য করনীয় দ্রুত ২য় স্বামীর সংসার থেকে চলে এসে ১ম স্বামীর কাছে ফিরিয়ে যাওয়া।

যদি ১ম স্বামীর সাথে সংসার না করতে চায়,সেক্ষেত্রে তালাক চাইবে,তালাক চাওয়ার পরেও না দিলে আদালত বা কাজি সাহেবের স্বরনাপন্ন হয়ে খোলা তালাক দিয়ে ইদ্দত পালন করবে।

ইদ্দতকাল শেষ হয়ে গেলে সেই ২য় স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বসতে পারবে,অথবা অন্যত্রে বিবাহ বসতে পারবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...