আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ।
এক বোনের প্রশ্ন
একটা জরুরী বিষয়ে আপনার পরামর্শ চায়।আশাকরি উত্তম পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন।
পাত্র আমার বায়োডাটা ক্রয় করেছিল। এরপর ইমেইলে ওনার বিষয়ে বিস্তারিত জেনেছি যতটুকু সম্ভব।ওনি আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। মাস্টার্স কমপ্লিট। ওনি কোনো উপার্জনের সাথে জড়িত নন বর্তমানে।ওনার মা অসুস্থ তাই মায়ের দেখাশোনা করার জন্য চাকরির কোনো প্রিপারেশন নিতে পারছেন না।আর আলিয়া মাদ্রাসার পরিবেশ এবং জেনারেল লাইনের পরিবেশ সেইম।ফ্রি মিক্সিং ।এসব কারনে ওনি মাদ্রাসা শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাননা।নন মাহরাম স্টুডেন্টস পড়াতে হবে তাই।ওনি এখন নিবন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হালাল হারাম মেনে চলেন।ওনার এক চাচা ব্যাংকে চাকরি করেন বলে ওনার খাবার তিনি গ্রহণ করেন না।কোনো বিয়েতে গানবাজনা, যৌতুক দেওয়া নেওয়া হলে বাড়িতে এসে খাবার দিয়ে গেলেও নাকি খান না।ননমাহরামদের দেখে ওনার স্ত্রীকে সঠিক ভাবে পর্দা করে চলবেন বলেছেন।বিয়ের কোনো অনুষ্ঠান করবেন না এবং মেয়েপক্ষকেও কোনো অনুষ্ঠান করতে দিবেন না বলছেন। তো এই হচ্ছে পাত্রের মোটামুটি বর্ননা।
এখন কথা হচ্ছে আমি সাতদিন সময় চেয়েছিলাম ইস্তেখারা করে ওনাকে জানাবো।তো গতকাল আমি ওনাকে জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার আগে ওনিই আমাকে ইমেইল করে জানান যে একবোন নাকি ওনাকে নক দিয়েছেন। ওনি যেরকম ঠিক সেরকম ভাবে শুধু ওনাকেই চান।খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম দিন চললেই হবে।এভাবেই নাকি ওই বোন ওনাকে বলেছেন।তো আমি আমার চেয়ে ওই বোনকেই বেশি ওনার জন্য কল্যাণকর মনে করে ওনাকে না করে দিয়েছিলাম।ওনিও সেটা মেনে নিয়েছিলেন বলে ভেবেছিলাম।কিন্তু আজ সকালে ওনি আরেকটা ইমেইল করেছেন। ইমেইলটা আমি হুবহু আপনার সাথে শেয়ার করছি উস্তাদ।
"আসসালামু আলাইকুম,
নিজের আত্মসম্মানে অনেক বাঁধছে তারপরও আত্নসম্মান কুরবানি দিয়ে এই আশায় লিখছিযে হয়তো আমার রব এর মাধ্যমে ভালো কিছু করবেন অথবা এখান থেকে চিরতরে মুক্ত করবেন!আমি শক্তই ছিলাম উত্তর পাবার পর আমার রবের উপরই সব কিছু ছেড়ে দিলাম, নিজেকে দৃড় রাখার চেষ্টা করলাম কিন্তু ক্রমশই নিজেকে দুর্বল অনুভব হতে লাগলো, হৃদয় থেকে কিছু একটা বের হয়ে গেছে মনে হচ্ছে! অবশেষে হৃদয় আকাশে জমা হওয়া মেঘ গুলো থেকে ভারি বর্ষন আটকানো গেলোনা,এতো আটকানোর চেষ্টা করছি তাও বুকচেপে চেপে কান্না আসছে, সারারাত বালিশ ভিজলো, আমার রব আমাকে ডাকছেন ভেবে জায়নামাজে দাঁড়ালাম কিন্তু না! শুধু হেচকি দিয়ে দিয়ে কান্না আসছে, কেরাতিই পড়তে পারছিনা ঠিকমত, শুধু কান্নাই করলাম দাঁড়িয়ে রুকু সিজদায়! অবশেষে জায়নামাজও ভিজলো! নামধরেতো আর কাওকে বলতে পারলামনা শুধু বললাম পবিত্রভাবে কাউকে ভালবাসতে দিন পবিত্রভাবে কারো ভালবাসা গ্রহন করতে দিন ইয়া রাব্বুল আলামিন! একটু শান্ত হয়ে আবিষ্কার করলাম কেন কলিজাটা ছিড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে! আপনার কোন পেশা নেই, এটা কোন সমস্যা না! এই বাক্যটিই এতদিন ধরে পবিত্র ভালবাসার আকাঙ্খাই থাকা এই হৃদয়টিতে আশার আলো জেলেছিলো কিন্তু হঠাৎ তা নিভে জাবার কারনেই এত চাপাকষ্ট! শয়তান, নফস দুনিয়া এবং নারির ফিতনার সাথে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি ফিতনার সমুদ্র থেকে টেনে তুলতে তুলতে কেন হাত ছেড়ে দিচ্ছেন। আপনিওতো তেমনভাবে কিছুই চাননি,চাওয়া পাওয়াগুলো এত কাছাকাছি থেকেও কেন ফিরিয়ে দিচ্ছেন! এই দুনিয়াতো ক্ষনস্থায়ী দ্বিনশেষে আমার রবের কাছেই ফিরে যাবো, কেউতো পারফেক্ট না,এই সীমাবদ্ধতাগুলোকে একপাশে রেখে পথ চলুননা জান্নাত পর্যন্ত! আমার খুব ইচ্ছে তিনার কোলে মাথা রেখে কুরআন তেলাওয়াত করার,একসাথে প্রতিযোগিতা করে হাফেজ হওয়ার, কুরআন হাদিসের ছাত্র হবার! অনুরোধ করছি আরেকবার ভেবে দেখার, সবকিছু ভুলে গিয়ে শুধু দ্বীনদারিতার প্রতি সদয় হবার! আমি ইমামতি করিনা, এখন মানুষ ইমামকে টাকার দাস মনে করে তাই! আল্লাহ চাইলে ২৬ সালের মাঝে মাদ্রাসার শিক্ষক হয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ! শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ভালবাসুননা যৌগ্যতাগুলি একদিকে রেখে! কিভাবে বুঝাবো আপনাকে আমার অনুভূতি, কেউ আমাকে চাইছে তাকে পরিবার চাইছেনা,আমি কাউকে চাইছি তিনি চাচ্ছেন না! পরিস্থিতির যাতাকলে আর কত পৃষ্ট হবো! হে আমার রব আর পারছিনা! ইচ্ছে করছে কোন পাহাড় কোন বনে গিয়ে আকাশ বাতাস ভারি করে চিৎকার দিতে! চাইছিলাম গুছিয়ে লিখতে কিন্তু চোখজোড়া রিতিমত বৃষ্টি ঝরাচ্ছে তাই সম্ভবহলোনা!
কথাগুলো বলতে না পারলে ভেতরে চাপাকষ্ট থেকে যেত আজীবন! তাই বলে ফেললাম! আমার রবের
উপরই ভরসা করি কিন্তু শেষবারের মত অনুরোধ করছি আরেকবার ভেবে দেখেন প্লিজএরপর আপনার যা সিন্ধান্ত তাই চুড়ান্ত! "
১.উস্তাদ আমি এখন কি করবো বুঝতে পারছিনা। আমি ইস্তেখারা করে কিছুই বুঝতে পারিনি।যদিও ওনাকে আমি ইস্তেখারার রেজাল্ট নেগেটিভ জানিয়েছি।ওই বোন ওনাকে প্রপোজাল দিয়েছিল তাই আমি নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্যই সেটা বলেছি।কিন্তু আসলেই আমি ইস্তেখারা করে কিছুই বুঝতে পারছিনা।
২.আর ওনার ব্যাপারে আমার হৃদয়ে কোনো ফিলিংস ফীল করছিনা।এ থেকে আমি কি ডিসিশন নিব কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনা।আমি এমনিতেই একজন ওভার থিঙ্কার মানুষ।এই পরিস্থিতি আমাকে খুবই কষ্ট দিচ্ছে। কোনো সিদ্ধান্তে পৌছতে পারছিনা।আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে যাচ্ছি সর্বদা।
৩.ওনাকে না করার মতো বিষয় যদি জানতে চান তাহলে বলবো,আমি একজন ভালো দ্বীনদ্বার আলেম,দেখতে খুবই সুদর্শন, খুব ধনী নয় মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির হলেই চলবে ইংশাআল্লহ এমন জীবনসঙ্গী চেয়ে সর্বদা আল্লাহর কাছে দুয়া করেছি।তো যিনি আমাকে চাচ্ছেন ওনার দ্বীনদ্বারীতার ব্যাপারে আমি সন্তুষ্ট কিন্তু আমি ওনার ছবি দেখেছি ।দেখে আমার পছন্দ হয়নি।মূলত এটা একটা কারন ।যখন ওনার দ্বীনদ্বারীতা দেখছি তখন ইচ্ছে করছে হ্যাঁ বলি।আর যখন ছবি দেখছি তখন মনে হচ্ছে আল্লাহর কাছে ওনার চেয়ে বেটার কাউকে চেয়ে দুয়া করতে থাকি।আল্লাহ তো বান্দার সব চাওয়া পূরন করেন।আরেকটা কারন হচ্ছে ওনার অসুস্থ মা।আমার পক্ষে সংসার, বাচ্চাকাচ্চা,অসুস্থ রোগী এসব কিছু সামলানো অনেক কষ্টকর হয়ে যাবে।তাই আরো ইচ্ছা করছেনা।আর তাছাড়া পাত্রের ওজন ৮০ কেজি যা ওনার ৫'৩" হাইটের তুলনায় অনেক বেশি।ওনার মায়ের ডায়াবেটিস রোগ আছে।তাই পাত্রের যেহেতু ওজন বেশি তাই ওনার মায়ের ডায়াবেটিস থাকার কারনে ওনারও ডায়াবেটিস হওয়ার চান্স আছে।যদিও এটা আল্লাহর ইখতিয়ারে।তো এই হচ্ছে আমার মনের অবস্থা।একবার মনে হচ্ছে যদি ভবিষ্যতে গিয়ে ওনার মতো দ্বীনদ্বার কাউকে যদি না পায়।আবার ভাবছি আমি আমার দুয়াতেই অটল থাকি,আমি যেমন জীবনসঙ্গী চায় ওরকমটাই আল্লাহর কাছে চাইতে থাকি, অপেক্ষা করি।আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখি আমার বয়স ২৪ বছর। এতোসব ভেবে আমি নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌচ্ছাতে পারছিনা উস্তাদ। অনুগ্রহপূর্বক আমাকে আপনার মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করুন আমি কি সিদ্ধান্ত নিব!
৪. গতকাল রাতে আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি,কেউ একজন বলছেন যে তুমি দ্বীনদ্বারীতাকে প্রাধান্য দিচ্ছোনা এটা ঠিক করছোনা তুমি।হুবহু বাক্য মনে নেয় কিন্তু এটাই বলেছেন।এটা কি আমার ওভার থিঙ্কিংয়ের জন্য নাকি এর কোনো অর্থ আছে।
৫. আমি না করার পর ওনার এভাবে কান্না করা আমার একদমই পছন্দ হয়নি।খুবই বিরক্ত হয়েছি। আমি একটু শক্ত হৃদয়ের মানুষ বলতে পারেন।এই শক্ত হৃদয়ের কারনেই ছেলেদের সকল ফিতনা থেকে নিজেকে সর্বদা বাচিয়ে রাখতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। তো যায় হোক আমি জানতে চাচ্ছি একজন মেয়ে না বলার পর কোনো মুমিন বান্দার এভাবে কান্না করা জায়েজ কিনা?ওনার প্রতি আমার কোনো ফিলিংস না থাকলেও ওনি যে একজন ভালো দ্বীনদ্বার মানুষ এটা মানতে আমি বাধ্য।কিন্তু এভাবে একটা মেয়ের জন্য কান্না করবে কেন?এটা আমার একদমই পছন্দ হয়নি।
৬. আরেকটা বিষয় আমার কোনো জিনিস অপছন্দ হলে সেটাকে আমি জোরপূর্বক পছন্দ করতে পারিনা।চেষ্টা করেও পারিনা।তো যেহেতু ওনার প্রতি আমার কোনোই ভালোলাগা কাজ করছেনা তাই বিয়ের পর যদি ওনাকে মেনে নিতে না পারি?যদিও বিয়ের পর নাকি আল্লাহ কর্তৃক একটা মহব্বতের বন্ধন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তৈরী হয়ে যায়।আমার ক্ষেত্রে যদি এমনটা না হয়।হাজারো চিন্তা মাথায় আসছে।খুবই কনফিউশনের মধ্যে আছি উস্তাদ। আপনার মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করুন।