আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
29 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
১। আইয়ামে বীজের রোজার সাথে কি শাওয়াল মাসের ৬ টা রোজার নিয়ত করা যাবে?

২। রমজানের কাযা রোজার সাথে কি আইয়ামে বীজের রোজার নিয়ত করা যাবে একসাথে?

৪। এখন সেহরির সময় শেষ হয় ৪.৪০ এ মানে ৪.৪১ থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু৷ আজকে আমার একটু দেরি হয়েছিল তাই তাড়াহুড়া করে খাওয়া শেষ করে দেখি ৪.৪১ বাজে৷ তবে আজান শোনা যায় নি কোনো। রোজা কি হবে?

৫। খোলাফায়ে রাশেদিনদের কতলের ব্যাপারে সহিহ ইতিহাস ও ব্যাখ্যা জানতে চাই৷ কেন এক খলিফা পূর্ববর্তী জনের হত্যার বিচার করে নি,উসমান রা: আসলেই স্বজনপ্রীতি করতেন কিনা ইত্যাদি৷ এক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য উৎসের সন্ধান দিলে ভালো হতো কেননা শয়তান ওসওয়াসা দিচ্ছে আর সাহাবাদের মিয়ারে হক্ব এবং নির্দোষ ভাবা ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৬। আমি আলিম কোর্স ২৫১৪ ব্যাচের ছাত্র। বগুড়া জেলার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত আছি। অত্র এলাকায় দাওয়াতি কাজের সাথে সহকারি যুক্ত হতে চাই যেন শিখতে পারি এবং দান করেও সাহায্য করতে চাই যেন ব্যক্তিগত জিম্মাদারি থেকে মুক্ত হতে পারি। যোগাযোগের উপায় পেলে ভালো হয়।

1 Answer

0 votes
by (763,200 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
শরীয়তের বিধান হলো একই দিনে একাধিক নফল রোযার নিয়ত করা যাবে।
এতে সবকটিরই ছওয়াব পাওয়া যাবে,ইনশাআল্লাহ। 
,
তবে নফল রোযার সাথে ফরজ রোযার নিয়ত করা যাবেনা।

ফরজ রোজা কাযা হলে তা পরবর্তীতে আদায় করে নেয়াও ফরজ। কারণ পবিত্র কুরআনে কাযা রোযা রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

شَہۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡہِ الۡقُرۡاٰنُ ہُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡہُدٰی وَ الۡفُرۡقَانِ ۚ فَمَنۡ شَہِدَ مِنۡکُمُ الشَّہۡرَ فَلۡیَصُمۡہُ ؕ وَ مَنۡ کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیۡدُ اللّٰہُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَ لَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ ۫ وَ لِتُکۡمِلُوا الۡعِدَّۃَ وَ لِتُکَبِّرُوا اللّٰہَ عَلٰی مَا ہَدٰىکُمۡ وَ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ﴿۱۸۵﴾

রমাদান মাস, এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং হিদায়তের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং তোমাদের জন্য কষ্ট চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন সে জন্য তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

আরো জানুনঃ
https://www.ifatwa.info/17910/

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
আইয়ামে বীজের রোজার সাথে শাওয়াল মাসের ৬ টা রোজার নিয়ত করা যাবে।

(০২)
রমজানের কাযা রোজার সাথে আইয়ামে বীজের রোজার নিয়ত করা যাবেনা। 

(০৪)
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে। সূরা বাকারা,১৮৭


★চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারে সতর্কতামূলক ৩ মিনিট পূর্বে সেহরীর শেষ টাইম লিখে দেয়া থাকে, সুতরাং নিজ ইবাদতকে হেফাজত করার স্বার্থে  সতর্কতামূলক ৩ মিনিট পূর্বেই খাবারদাবার শেষ করা ও উচিৎ ও  জরুরী।তবে যদি সঙ্গত কোনো কারণে দু-তিন মিনিট দেড়ী হয়ে যায়,তাহলেও রোযা হবে।কেননা ৩ মিনিট তো রিজার্ভ রয়েছে।যা প্রয়োজনের মূহুর্তে ব্যবহার করা হবে।কিন্তু ৩ মিনিট থেকে একটি মূহুর্তও আর ক্ষমাযোগ্য হবে না। 


আরো জানুনঃ- 

https://www.ifatwa.info/1959


★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
আপনার জেলার জন্য ইসলামীক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রনীত স্থায়ী ক্যালেন্ডার অনুপাতে আপনার এলাকায় আজকে সাহরীর শেষ টাইম কত?

আপনার এলাকায় সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার ২/৩ মিনিট এর মধ্যেই যদি আপনি খাবার খেয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে রোযা হয়ে যাবে।

আর যদি আপনার জেলার জন্য ইসলামীক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রনীত স্থায়ী ক্যালেন্ডার অনুপাতে আপনার এলাকায় আজকে সাহরীর শেষ টাইম অতিবাহিত হওয়ার ৩ মিনিট পর খাবার খেয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে রোযা হবেনা।

এ রোযা পরবর্তীতে কাজা আদায় করতে হবে।

(০৫)
এক্ষেত্রে খিলাফতে রাশেদাহ,তারিখে মিল্লাত,খেলাফতে বনি উমায়্যাহ,আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ বই গুলি পড়তে পারেন।

(০৬)
মাওলানা মতিউর রহমান সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনঃ-
+8801795022081
+8801886855332


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...