আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
135 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম, আমি প্রায় দুই বছর ধরে একটি মেয়ের সাথে রিলেশনে আছি | আমাদের মানসিক অবস্থা এমনটাই যে আমরা কেউ কাউকে ছাড়া কোন কিছু ভাবতে পারি না । আমাদের মধ্যে কোন প্রকার শারীরিক সম্পর্ক হয়নি|
আমি বর্তমানে বাংলাদেশ এর অন্যতম একটি স্বনামধন্য সরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ালেখা করছি। মেয়েটি অন্য একটা সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখা করছে। আমি টিউশনি করে আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো ইনকাম করছি |
গত চার মাস আগে এই রিলেশন হারাম হয়ে যাচ্ছে এবং আমার নিজের যেহেতু ইনকাম করে তার ভরণপোষণ করার ক্ষমতা আছে এই জন্য  আমাদের বিয়ের বিষয়ে বাসায় জানাই দুইজনেই | দুইজনের পরিবারই সব খোঁজ খবর নেয় একে অপরের পরিবারের এবং বংশের | এবং সব বিবেচনা করে আমাদের জানায়, আমাদের 2 জনকেই বিয়ে দিবে | কিন্তু এখন বিয়ে দিলে মেয়ের খরচ চালানোর জন্য আমার পড়ালেখার ক্ষতি হতে পারে এবং বিয়ের পর বউকে দেওয়ার মতন স্বর্ণ এখন বানানো হয় নাই এই জন্য আমার আব্বু আর অপেক্ষা করতে বলে | মেয়ের ফ্যামিলি কেও আমার আব্বুরা বুঝায় বলে যে আমার সামনে একটা ভালো ভবিষ্যৎ আছে পড়ালেখার মাঝে বিয়ে করলে পড়ার ক্ষতি হতে পারে | এর পর মেয়ের ফ্যামিলি ও মেয়ে কে বিয়ে নিয়ে আপাতত ভাবতে নিষেধ করেছে । এবং তার জন্য ছেলে দেখাও বন্ধ করেছে | আমি আর দেড় বছর পর পড়ালখা শেষ করলে তখন বিয়ে দিবে | ততদিন যেমন আছে এমনই থাকতে বলেছে | আমার আম্মুর সাথে মেয়েটার নিয়মিত কথা হয় | এবং মেয়ের আম্মুও মেয়ের কাছে আমার ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয় | সব ই ঠিক আছে শুধু এখন বিয়ে দিতে রাজি না |
আমাদের কুফুর কথা বলতে গেলে যেহেতু ২ পরিবার রাজি হয়েছে যেহেতু কুফু ঠিক আছে বলে মনে হয়। আবার মেয়ের পরিবার থেকে ৬ মাস আগে একজন Engineer ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা উঠে। তখন ও না করে দেই । আবার আল্লাহ যদি বাঁচাই রাখে দেড় বছর পর আমি নিজে Engineer হয়ে যাব । সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় আমাদের কুফু ঠিক আছে আলহামদুলিল্লাহ |

কিন্তু আমরা এমন থাকলে অনেক গুনাহ হচ্ছে এবং এই অবস্থায় মারা গেলে তওবা করারও সুযোগ পাব না | এইটা ভেবে আমরা নিজেরা কাউকে না জানিয়ে কাজী অফিস এ গিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি | এখন আমার মূলত ৩ তা প্রশ্ন রয়েছে -
১। আমাদের এই বিয়ে কি জায়েজ হবে ?
২। এই বিয়ে যদি জায়েজ হয় তাহলে - আমরা এই বিয়ের কথা পরিবারে কখনও জানাইতে চাই না।  পরবর্তীতে বাবা-মা রা বিয়ে দিলে আবার বিয়ে করতে চায়। এখন এমন পর পর ২ বার একজনকেই বিয়ে করা কি জায়েজ হবে? আর ২ বার এ ২ টা ভিন্ন কাবিনে বিয়ে হলে আমি যেটা সর্বাধিক হবে সেটা পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এইটা কি ঠিক আছে ? নাকি ২ টাই আলাদা আলাদাভাবে পরিশোধ করা লাগবে ?
৩। এই বিয়ে যদি জায়েজ হয় তাহলে- আমরা কিভাবে তওবা করলে গত ২ বছরের করা গুনাহ গুলো মাফ হয়ে যাবে ?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
মাতাপিতার সম্মতি ব্যতীত কখনো কোনো মুসলমান যুবক যুবতীর জন্য কোর্ট মেরেজ করা সমীচীন হবে না,মঙ্গলজনক হবে না।মাতাপিতাকে না জানিয়ে বালিগ ছেলে মেয়ের বিবাহ নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।উনেক উলামায়ে কেরাম অভিভাবকহীন বিয়েকে বাতিল বলে মনে করেন।হানাফি মাযহাব মতে কু'ফু হিসেবে ছেলেটি যদি মেয়ের সমকক্ষ বা বেশী মর্যাদার অধীকারী হয়, কেবল তখনই বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।নতুবা মেয়ের অভিভাবকের অনুমতির উপর বিয়ে মওকুফ থাকবে।

লক্ষণীয় যে,
হানাফি ফিকহের এই মাস'আলার সুযোগ নিয়ে অবৈধ প্রেম ভালবাসাকে গোপন বিয়ের মাধ্যমে হালাল করার অপচেষ্টা বর্তমানে চলছে। এত্থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। গোপন বিবাহ দ্বারা কোনো কল্যাণই দৃষ্টিগোচর হয়না। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ এবং জীবিক চাহিদা পূরণের মত ঘৃণ্য কাজই তাতে পরিলক্ষিত হয়। এবং এই ঘৃণ্য ও জগণ্য চাহিদা পূরণই এই অমসৃণ পথে পা বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে।

বিঃদ্রঃ
ছেলে যদি কু'ফু হিসেবে মেয়ের সমকক্ষ হয়,তাহলে বিয়ে হয়ে গেছে। এখন মেয়ের জন্য উচিৎ,মাতাপিতার অবাধ্যতার জন্য তাদের নিকট ক্ষমা চাওয়া,এবং সাথে সাথে ইস্তেগফার করা।মেয়ে তার মাতাপিতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।কেননা মাতাপিতার সন্তুষ্টির মধ্যেই সন্তানের কল্যাণ নিহিত রয়েছে।যেহেতু বিয়ে হয়েই গেছে,তাই স্বামীর সাথে সংসার করার জন্য মেয়ে তার মাতাপিতার পা আকড়িয়ে ধরবে যতক্ষণ না মাতাপিতা এর অনুমতি দিচ্ছে।শতচেষ্টা করার পরও যদি অনুমতি পাওয়া না যায়,তাহলে মৃত্যু অব্দি মাতাপিতাকে সন্তুষ্ট করার ইচ্ছা রেখে মেয়ে স্বামীর সাথে সংসার করতে থাকবে এবং অতীতের কৃত স্বেচ্ছাচারীতার জন্য আফসোস বোধ করে আপনজনদের মধ্যে সবাইকে এ পথে পা না বাড়ানোর প্রতি উৎসাহ দিবে। এ পথে পা বাড়ানোর জন্য নিজ অপদস্থতার কথা আপনজনদের নিকট প্রকাশ করবে।যাতে কেউ এ পিচ্ছিল পথে আর পা না বাড়ায়।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/2730


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

(১) যেহেতু আপনাদের উভয়ের পরিবারের সম্মতি রয়েছে, তাই পারিবারিকভাবে বিয়ের জন্য চেষ্টাপ্রচেষ্টা করবেন। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আপনারা বিয়ে করে নিয়ে মাতাপিতাকে জানিয়ে দিবেন। আল্লাহ আপনাদের কল্যাণ করুক আমীন।

(২) দুইবার বিয়ে করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নাই। বরং প্রথমবারের বিয়ে হবে। পরবর্তীতে কোনো বিয়ে হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না।

(৩) আপনি আল্লাহর কাছে তাওবাহ করেন, আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমা করে দিবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...