ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
মাতাপিতার সম্মতি ব্যতীত কখনো কোনো মুসলমান যুবক যুবতীর জন্য কোর্ট মেরেজ করা সমীচীন হবে না,মঙ্গলজনক হবে না।মাতাপিতাকে না জানিয়ে বালিগ ছেলে মেয়ের বিবাহ নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।উনেক উলামায়ে কেরাম অভিভাবকহীন বিয়েকে বাতিল বলে মনে করেন।হানাফি মাযহাব মতে কু'ফু হিসেবে ছেলেটি যদি মেয়ের সমকক্ষ বা বেশী মর্যাদার অধীকারী হয়, কেবল তখনই বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।নতুবা মেয়ের অভিভাবকের অনুমতির উপর বিয়ে মওকুফ থাকবে।
লক্ষণীয় যে,
হানাফি ফিকহের এই মাস'আলার সুযোগ নিয়ে অবৈধ প্রেম ভালবাসাকে গোপন বিয়ের মাধ্যমে হালাল করার অপচেষ্টা বর্তমানে চলছে। এত্থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। গোপন বিবাহ দ্বারা কোনো কল্যাণই দৃষ্টিগোচর হয়না। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ এবং জীবিক চাহিদা পূরণের মত ঘৃণ্য কাজই তাতে পরিলক্ষিত হয়। এবং এই ঘৃণ্য ও জগণ্য চাহিদা পূরণই এই অমসৃণ পথে পা বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে।
বিঃদ্রঃ
ছেলে যদি কু'ফু হিসেবে মেয়ের সমকক্ষ হয়,তাহলে বিয়ে হয়ে গেছে। এখন মেয়ের জন্য উচিৎ,মাতাপিতার অবাধ্যতার জন্য তাদের নিকট ক্ষমা চাওয়া,এবং সাথে সাথে ইস্তেগফার করা।মেয়ে তার মাতাপিতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।কেননা মাতাপিতার সন্তুষ্টির মধ্যেই সন্তানের কল্যাণ নিহিত রয়েছে।যেহেতু বিয়ে হয়েই গেছে,তাই স্বামীর সাথে সংসার করার জন্য মেয়ে তার মাতাপিতার পা আকড়িয়ে ধরবে যতক্ষণ না মাতাপিতা এর অনুমতি দিচ্ছে।শতচেষ্টা করার পরও যদি অনুমতি পাওয়া না যায়,তাহলে মৃত্যু অব্দি মাতাপিতাকে সন্তুষ্ট করার ইচ্ছা রেখে মেয়ে স্বামীর সাথে সংসার করতে থাকবে এবং অতীতের কৃত স্বেচ্ছাচারীতার জন্য আফসোস বোধ করে আপনজনদের মধ্যে সবাইকে এ পথে পা না বাড়ানোর প্রতি উৎসাহ দিবে। এ পথে পা বাড়ানোর জন্য নিজ অপদস্থতার কথা আপনজনদের নিকট প্রকাশ করবে।যাতে কেউ এ পিচ্ছিল পথে আর পা না বাড়ায়।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/2730
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) যেহেতু আপনাদের উভয়ের পরিবারের সম্মতি রয়েছে, তাই পারিবারিকভাবে বিয়ের জন্য চেষ্টাপ্রচেষ্টা করবেন। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আপনারা বিয়ে করে নিয়ে মাতাপিতাকে জানিয়ে দিবেন। আল্লাহ আপনাদের কল্যাণ করুক আমীন।
(২) দুইবার বিয়ে করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নাই। বরং প্রথমবারের বিয়ে হবে। পরবর্তীতে কোনো বিয়ে হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না।
(৩) আপনি আল্লাহর কাছে তাওবাহ করেন, আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমা করে দিবেন।