আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
60 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (28 points)
আসসালামু আলাইকুম, একজনের বোন আত্মহত্যা করেছিল যখন তার বয়স ৩০ এর নিচে। অবিবাহিতা।
তিনি ওরকম প্র‍্যাক্টিসিং ছিলেন না। একটা  ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ছিলেন।
সে কি ঈমান নিয়ে মারা গেছে নাকি না তা ত জানেনা তারা।
তার ভাইবোনের প্রশ্ন তারা কি করতে পারে তার বোনের জন্য?
তার বোন কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী?

তার জন্য কি ঈসালে সওয়াব পাঠানো যাবে যাতে আযাব না হয় কবরে বা আখিরাতে?

পরবর্তীতে তার ভাইবোনরা প্র‍্যাক্টিসিং হয়ার চেষ্টায় রত। পর্দা,গাইরে মাহরাম,ইত্যাদি।দায়িয়া।
ধারণা করা যায় তার জীন,জাদুর সমস্যা ছিল। তখন ত বুঝেনি কেউ।
ভাইবোন বা বাবা মায়ের জন্য করণীয় কি?
অন্তরে শান্তি পায়না ওই বোনের কথা মনে করলে তারা। আরেক বোন পানিতে ডুবে মারা যায়  ছোট অবস্থায়। সে কি শহীদ? বয়স ৫ এর নিচে ছিল।

আর সব ভাইবোন প্র‍্যাক্টিসিং না। তাই যে বা যারা প্র‍্যাক্টিসিং তারা অনেক চেষ্টা করে ও বুঝাতে পারেনা দ্বীনকে।
হতাশ লাগে যে আবার এই ভাইবোনরা না জাহান্নামী হয়।
কারণ সবাইকে নিয়ে জান্নাতে থাকতে চায়। কিন্তু যে বোন আত্মহত্যা করে ফেললো সে ত জাহান্নামে থাকতে পারে।
বেশি বেশি ঈসালে সওয়াব পাঠানো আর দুয়া করা কি তার কবরের আযাব মাফ করাতে পারে? এটা কি উচিৎ করা?

এটা নি:সন্দেহে গর্হিত কবীরা গুনাহ। কিন্তু করে ফেলসে এখন কি করা যাবে। তার জন্য নিয়মিত ইস্তিগফার আর সালাতুত হাজত পড়লে কি ভাল হবে?
এটা অনেকে আবেগ বলে কিন্তু বোনের প্রতি এ আবেগ কি অস্বাভাবিক?
ওই বোনরা পরোপকারী ছিল। যেসব ভাইবোন বেচে আছে তাদের অনেক যত্ন নিয়েছিল। তাই তাকে তারা ভুলতে পারেনা।
সমাজের আন্টিরা খালি এসে বলে ও জাহান্নামী এইসেই। অনেক কষ্ট দেয়।
দুনিয়ার জীবনটাই পরীক্ষা। রব নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল তার বান্দাদের প্রতি।
আর যারা প্র‍্যাক্টিসিং না আত্মীয় আর বাকিরা তাদের হেদায়েতের জন্য কি করা উচিৎ। সে এত দুয়া করে কেন কবুল হচ্ছেনা। ওরা জাহান্নামের দিকে যাচ্ছে দেখে অন্তরে ব্যথা লাগে।

এ বোনের জন্য দুয়া করতে ভয় লাগে যে, আল্লাহ না নারাজ হোন। এটা কি নেক সুরতে শয়তানের ধোকা?

1 Answer

0 votes
by (807,660 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি যদি ঈমানদার হয়, আর ঈমানের সাথেই যদি মৃত্যুবরণ করে থাকে, তাহলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হতে পারে না। চিরস্থায় জাহান্নামী হবে কেবল কাফের-মুশরিকরা। কোন মুসলমান চিরস্থায়ী জাহান্নামী হতে পারে না। তবে দীর্ঘস্থায়ী জাহান্নামী হতে পারে। এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্যও এটাই। আরবের পরিভাষায় خالدا مخلداশব্দ, যার অনুবাদ করা হয়, “চিরকাল”মূলত এর দ্বারা আরবের লোকেরা কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝিয়ে থাকেন। উক্ত হাদীসেও উদ্দেশ্যও দীর্ঘস্থায়ী হওয়া। চিরস্থায়ী হওয়া নয়। [দ্রষ্টব্য শরহু সহীহিল বুখারী লিইবনে বাত্তাল, উমদাতুল কারী}

এক কথায় আত্মহত্যা করা কবীরা গোনাহ। আর কবীরা গোনাহ তওবা দ্বারা মাফ হয়ে যায়। কিন্তু আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির তওবার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু তওবা না করলেও আল্লাহ তাআলা ইচ্ছে করলেই উক্ত ব্যক্তিকে নিজ রহমতে মাফ করে দিতে পারেন। কিংবা তাকে দীর্ঘস্থায়ী শাস্তি দিতে পারেন। বিস্তারিত জানুন- https://www.ifatwa.info/7592

শুধুমাত্র কাফির বা অমুসলিমের জন্য দু'আ করা নিষেধ। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/901

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেহেতু আত্মহত্যাকারী কাফির নয়, তাই আত্মহত্যাকারীর জন্য দু'আ করা নিষেধ হবে না। বরং দু'আ করা যাবে। এবং জানাযাও পড়া যাবে। এবং ঈসালে সওয়াবও করা যাবে। হ্যা, দ্বীনি বিষয়ে অনুসরণীয় ব্যক্তিবর্গ আত্মহত্যাকারীর জনাযায় শরীক না হওয়াই উচিৎ ও কাম্য। কেননা এতেকরে আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...