আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
72 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (11 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।আমার দুলাভাই ব্যংকে চাকরি করে। তার টাকা দিয়ে আমার বোন যদি কিছু কিনে দেয় তাহলে যদি না নেই তাহলে আমর বোন কষ্ট পাবে হয়তো। এখন আমার করনীয় কি। আর আমি যদি জিনিসটি নিয়ে গরীব দুঃখীদের সেই পরিমান টাকা দান করে দেই তাহলে কি সেই হাদিয়া গ্রহন করা আমার জন্য জায়েজ হবে।আর আমার পক্ষে কষ্টকর হয়ে যাবে সেই টাকা একসাথে দান করতে কিন্তু আমি যদি অল্প অল্প করে এই নিয়তে সওয়াবের আশা ছাড়া দান করি তাহলে কি হবে?  ২.মাহরাম ছাড়া শিক্ষাসফরে যাওয়া কি জায়েজ হবে?   ৩.অজু অবস্থায় নাপাক কাপড় পড়ে  অথবা শরীরে যদি কোনো স্থানে নাপাক লেগে থাকে সেক্ষেত্রে কুরআন  স্পর্শ করা যাবে?

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
ইবাদতে ও দুআ কবুল হওয়ার ব্যাপারে হালাল খাদ্যের অনেক প্রভাব রয়েছে। খাদ্য হালাল না হলে ইবাদত ও দুআ কবুল হওয়ার যোগ্য হয় না। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

« أيها الناس إن الله طيب لا يقبل إلا طيبا وإن الله أمر المؤمنين بما أمر به المرسلين فقال ( يا أيها الرسل كلوا من الطيبات واعملوا صالحا إنى بما تعملون عليم) وقال (يا أيها الذين آمنوا كلوا من طيبات ما رزقناكم) ». ثم ذكر الرجل يطيل السفر أشعث أغبر يمد يديه إلى السماء يا رب يا رب ومطعمه حرام ومشربه حرام وملبسه حرام وغذى بالحرام فأنى يستجاب لذلك ».

তরজামা: হে লোক সকল! আল্লাহ তাআলা হলেন পবিত্র। আর তিনি পবিত্রতা ছাড়া কবুলই করেন না। আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে তাই নির্দেশ দিয়েছেন যা রাসূলগণকে দিয়েছেন।  তিনি বলেছেন “হে রাসূলগণ পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং সৎকাজ করুন। আপনারা যা করেন সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত”। 
(সূরা মুমিনুন-৫২) 

তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন “হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু-সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসাবে দান করেছি। (সূরা বাকারাহ -১৭২)

 রাসুলুল্লাহ সাঃ এক লোকের কথা বললেন যে দীর্ঘ সফর করে আসে। এবং অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে দু‘ হাত তুলে আল্লাহর দরবারে বলতে থাকে, ইয়া পরওয়ারদেগার! ইয়া রব! । কিন্তু যেহেতু সে ব্যক্তির পানাহার সামগ্রী হারাম উপার্জনের, পরিধেয় পোষাক- পরিচ্ছদ হারাম পয়সায় সংগৃহীত, এমতাবস্থায় তার দেয়া কি করে কবুল হতে পারে?।  (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৩৯৩)

হারাম টাকার বিধান হল, তা প্রাথমিকভাবে মূল মালিকের কাছে ফেরত দেয়া।
নতুবা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীবদের মাঝে সদকা করে দেয়া।

 من ملك بملك خبيث ولم يمكنه الرد الى المالك فسبيله التصدق على الفقراء 
معارف السنن، كتاب الطهارة، باب ما جاء لا تقبل صلاة بغير طهور-1/34، 
الفتاوى الشامية، باب البيع الفاسد، مطلب فى من ورث مالا حراما-7/301، كتاب الحظر والإباحة، فصل فى البيع-9/554، بذل المجهود، كتاب الطهارة، باب فرض الوضوء- 1/37)

 যদি কারো নিকট কোনো হারাম মাল থাকে,তাহলে সে ঐ মালকে তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেবে।যদি ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব না হয়,তাহলে গরীবদেরকে সদকাহ করে দেবে।(মা'রিফুস-সুনান১/৩৪) 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার জন্য সেই গিফট নেওয়া জায়েজ নেই।

যদি তাহা নেন তাহলে সাথে সাথে তাহা ফেরত দিবেন অথবা গরিব মিসকিন কে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দিবেন।

যদি সেই বস্তুটি গরিব মিসকীনদেরকে দান না করেন, তাহলে সম পরিমাণ মূল্য গরীব মুসলিমদের মাঝে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দিবেন।

একবারে দান করতে না পারলে সে ক্ষেত্রে আস্তে ধীরে দান করতে পারেন।

তবে সেটির পুরো মূল্য দান করার আগ পর্যন্ত সে বস্তুটি আপনি ব্যবহার করতে পারবেন না।

(০২)
https://ifatwa.info/8063/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
আমোদ-প্রমোদ, বিনোদন ও অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে নোংরা ও অশ্লীল-পরিবেশে ভ্রমণ করা জায়েয নেই। কেননা, মুমিন গুনাহর পরিবেশ থেকে নিজেকে দূরে রাখার ব্যাপারে আদিষ্ট। 

ইসলামী স্কলারগন বলেনঃ 
ভ্রমণ যদি হয় মহৎ কোনো উদ্দেশ্য তাহলে ইসলামে ভ্রমণের অনুমতি আছে; বরং ক্ষেত্র বিশেষ ভ্রমণ একপ্রকার ইবাদতও বটে। যেমন,
১. হজ ও ওমরাহর উদ্দেশ্যে ভ্রমণ। হজের ভ্রমণ হয় হজের মাসগুলোতে আর ওমরাহর ভ্রমণ হতে পারে সারা বছর।

২. ইসলামের দাওয়াত দেয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ। এ উদ্দেশ্যে ভ্রমণ নবী-রাসুলগণ, সাহাবায়ে কেরাম কিংবা নেককারগণ করেছেন। যাদের ভ্রমণ-কাহিনি আজও ইসলামের ইতিহাসের শোভা বৃদ্ধি করে যাচ্ছে এবং মুসলিম উম্মাহর মাঝে প্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে। বরং বলা যায়, এই জাতীয় নেক-ভ্রমণের উসিলাতেই ইসলাম আজ সারা দুনিয়ায় বিস্তৃত।

৩. জিহাদের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ। যেমন, এ মর্মে হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
إِنَّ سِيَاحَةَ أُمَّتِي الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
নিশ্চয় আমার উম্মতের ভ্রমণ হল, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। (আবু দাউদ ২৪৮৬)

৪. ইলম শেখা, শেখানো ও আত্নশুদ্ধির উদ্দেশ্যে ভ্রমণ। বিশেষত এ ভ্রমণের উসিলাতেই আমরা হাদিসের বিশাল ভাণ্ডার পেয়েছি। এমনকি খতিব বাগদাদি রহ. এ শ্রেণীর ভ্রমণ-কাহিনি নিয়ে الرحلة في طلب الحديث (হাদিস অন্বেষণে ভ্রমণ) নামক বিশাল কিতাবও লিখেছেন।

৫. শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ। যেমন, এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ
বলুন, পৃথিবী পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণতি কি হয়েছে। (সূরা নামল ৬৯)

৬. আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি সম্পর্কে যে বিবরণ দিয়েছেন তা অবলোকন করে ঈমান ও আমলকে মজবুত করাএবং দৈহিক ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ। আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ ثُمَّ اللَّهُ يُنشِئُ النَّشْأَةَ الْآخِرَةَ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ, কিভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পুর্নবার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম। (সূরা আনকাবুত ২০)

★এটা কারো অজানা নয় যে, বর্তমানের পর্যটন কেন্দ্রগুলো প্রকাশ্য অশ্লীলতা, অবাধ শরীর প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা, নেশাখোরদের আড্ডাসহ বিভিন্ন নোংরা ও বিব্রতকর পরিবেশ দ্বারা ভরপুর। সুতরাং সন্দেহ নেই, এধরণের পর্যটন কেন্দ্রগুলো কাফেরদের সাদৃশ্যতা, তাদের কথিত চরিত্র ও সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করছে। তাছাড়া নিরাপত্তাহীনতা তো আছেই। সুতরাং এ জাতীয় ভ্রমণ ও পর্যটন মানে নিঃসন্দেহে কাফেরদের অনুসরণ ও টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা (২৬/২২৪)-তে বলা হয়েছে,
إذا كانت هذه السياحة مشتملة على تسهيل وتيسير فعل المعاصي والمنكرات والدعوة إليها : فإنه لا يجوز لمسلم يؤمن بالله واليوم الآخر أن يكون عوناً على معصية الله ومخالفة أمره ، ومن ترك شيئاً لله عوَّضه الله خيراً منه

‘যদি ভ্রমণটি হয় এমন যে, এর কারণে গুনাহ ও নাফরমানি সহজ হয় এবং গুনাহর প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় তাহলে যে মুসলিম আল্লাহ ও আখেরাত দিবসকে বিশ্বাস করে তার জন্য জায়েয নেই, আল্লাহর অবাধ্যতা ও তাঁর হুকুমের বিরোধিতা করার কাজে সহযোগিতা করা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ছেড়ে দিবে আল্লাহ এর পরিবর্তে তাকে এর চাইতে উত্তম জিনিস দান করেন।’

এধরণের ভ্রমণ সম্পর্কে ইমাম আহমদ রহ. জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন,
ما السياحة من الإسلام في شيء ، ولا من فعل النبيين ولا الصالحين
এধরণের ভ্রমণ ইসলামে নেই। নবীগণ কিংবা নেককারগণ এধরণের ভ্রমণ করেন নি। (তালবীসে ইবলীস ৩৪০)
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে শিক্ষাসফরে যাওয়া জায়েজ হবেনা।

(০৩)
এক্ষেত্রে আপনি যদি হায়েজ নেফাস গ্রস্থ না হন বা আপনার উপর যদি ফরজ গোসল আবশ্যক না হয়, সেক্ষেত্রে কুরআন  স্পর্শ করা যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...