আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
43 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, সম্মানিত উস্তাদ


আশা করি আপনি ভালো আছেন এবং ঈমানের সাথে সুস্থ আছেন। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) আপনাকে বরকত দিন, আপনার ইলম বৃদ্ধি করুন এবং আমাদেরকে আপনার জ্ঞান থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দান করুন।


আমি আপনাকে লিখছি যে বিষয়ে, সে টা নিয়ে আমি অনেক বিভ্রান্তি ও দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি আমার দ্বীনি দায়িত্ব সম্পর্কে।


আমি বিভিন্ন আলেমদের কাছ থেকে বিড়াল পোষা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত শুনেছি। কেউ বলেন ইসলামে বিড়াল পোষা জায়েজ, আবার কেউ বলেন ঘরের ভিতরে বিড়াল পোষা অনুমোদিত নয়। এমনকি আমার দেশের একজন সম্মানিত আলেম বলেছেন যে, ঘরে বিড়াল রাখা জায়েজ নয় এবং তাদের খাবার ও যত্নের পেছনে খরচ করাও অনুমোদিত নাও হতে পারে। এই বিষয়গুলো আমাকে গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে, কারণ আমি চাই আমার কাজগুলো শরীয়াহ অনুযায়ী হোক।


বর্তমানে আমার ঘরে তিনটি পার্সিয়ান বিড়াল রয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশে পার্সিয়ান বিড়াল সহজলভ্য নয়, তাই আমাকে সেগুলো কিনতে হয়েছে। এছাড়াও, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, প্রচণ্ড শীতের সময় একটি পথের বিড়াল আমার দরজায় আসে। আমি দয়া করে তাকে খাবার দেই। পরে সে চলে যায়, কিন্তু পরের দিন আবার ফিরে আসে এবং নিজ থেকেই থাকতে শুরু করে। এরপর থেকে আমি তাকে ঘরেই রেখে যত্ন নিচ্ছি।


কিন্তু বিভিন্ন মতামত শোনার কারণে এখন আমি দুশ্চিন্তায় আছি:

• আমি কি তাদের ঘরে রেখে গুনাহ করছি?

• ইসলাম অনুযায়ী ঘরের ভিতরে বিড়াল পোষা কি জায়েজ?

• পার্সিয়ান বা অন্যান্য বিদেশি জাতের বিড়াল কেনা-বেচা কি জায়েজ?

• তাদের খাবার, যত্ন ও লিটার (বাথরুম) এর জন্য যে খরচ করছি, তা কি অপচয় বা গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে?

• আখিরাতে কি আমাকে এসবের জন্য জবাবদিহি করতে হবে?


আমার নিয়ত সবসময়ই ছিল তাদের প্রতি দয়া ও দায়িত্বশীলতার সাথে যত্ন নেওয়া, কোনো অপচয় বা ভুল কাজের উদ্দেশ্যে নয়। তবুও আমি আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তাআলা)-এর অসন্তুষ্টির ভয়ে আছি এবং যদি আমার কোনো ভুল হয়ে থাকে, তাহলে আমি তা সংশোধন করতে চাই। এবং যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে কি করবো আমি এই অবলা প্রানীদের নিয়ে?
আমি অনেক মুফতিদের দেখছি (ইউটিউব এ) যাদের বাসায় বিড়াল আছে এবং বিড়াল থাকলে তাদের মিনিমাম যত্ন তো মাসে ১/২ বার হলেও নিতে হয়।


আমি আমার যাকাত আদায় করি, সাধ্যমত সাদাকা করি, যেগুলো আমার উপর ফর‍জ/ ওয়াজিব সব দায়িত্ব আলহামদুলিল্লাহ আমি পালন করি।


আমি আপনার কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকব যদি আপনি দয়া করে আমাকে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে দিতেন, যাতে আমি ইসলামের সঠিক পথে চলতে পারি।


আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।


জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (806,910 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে,
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে অধিক সদাচারী ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল; ‘তাকে আবূ ‘উমায়র’ বলে ডাকা হতো। আমার ধারণা যে, সে তখন মায়ের দুধ খেতো না। যখনই সে তাঁর নিকট আসতো, তিনি বলতেনঃ হে আবূ ‘উমায়র! কী করছে তোমার নুগায়র? সে নুগায়র পাখিটা নিয়ে খেলতো।(সহীহ বোখারী-৬২০৩,সহীহ মুসলিম-২১৫০)

প্রাণী লালন-পালন কয়েকটি শর্তে ভিত্তিতে জায়েয।
(১)প্রাণীকে নিয়মিত খাবার দাবার প্রদান করতে হবে।
হযরত ইবনে উমর থেকে বর্ণিত,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক নারী একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে গিয়েছিল, সে তাকে বেঁধে রেখেছিল। সে তাকে খাবারও দেয়নি, ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে যমীনের পোকা মাকড় খেতে পারত। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রেও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।(সহীহ বোখারী-৩৩১৮,সহীহ মুসলিম-২২৪২)

(২)প্রাণীকে কোনো প্রকার কষ্ট দেয়া যাবে না।
রাসূলুল্লাহ সাঃ মুখে প্রহার করা  এবং মুখে ট্যাটু অঙ্কন করা যাবে না।(সহীহ মুসলিম-২১১৬) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/10998

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি যদি বিড়ালের হক আদায় করতে পারেন, তাহলে বিড়াল গুলোকে লালন পালন করতে পারবেন।এতে কোনো সমস্যা হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...