আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
67 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (4 points)
সব নবী রাসুলগন কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত ছিলেন এই কথা আমি পুর্বে শুনেছিলাম, আমি আজকে আমার শাশুড়ি, আমার ছোট বোন, আমার মা এদের একটা জিনিস বুজাতে এভাবে কথাটা বলি যে, আমরা কমবেশি সবাই কবিরা গুনাহগার কেউ কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত না একমাত্র আল্লাহর নবি রাসুলগন ছিলেন এই কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত আমার এই কথাতে কোন ভুল হয়েছে কিনা?

1 Answer

0 votes
by (805,290 points)
ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
নবীগণ হচ্ছেন শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁরা সৃষ্টিকুলের মাঝে আল্লাহ্র কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহ্ তাআলা তাঁদেরকে কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত করেছেন। তাই তাঁরা কখনও কবিরা গুনাহ করেন না। তাঁরা কবিরা গুনাহ থেকে মাসুম বা মুক্ত; সেটা নবুয়তপ্রাপ্তির আগে হোক কিংবা পরে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) মাজমুউল ফাতাওয়া গ্রন্থে (৪/৩১৯) বলেন:
"নবীগণ কবিরা গুনাহ থেকে মাসুম (নিষ্পাপ); সগিরা গুনাহ থেকে নয়- এটি কিছু সংখ্যক আলেমের মত।

সগিরা গুনাহ তাঁদের কাছ থেকে কিংবা তাঁদের কারো কারো কাছ থেকে সংঘটিত হতে পারে। এ কারণে কিছু আলেমের অভিমত হল: তাঁরা সগিরা গুনাহ থেকে মাসুম নন। যদি এমন কোন সগিরা গুনাহ তাঁদের দ্বারা ঘটে যায় তাহলে তাতে সম্মতি দেওয়া হয় না; বরং আল্লাহ্ তাঁদেরকে সতর্ক করে দেন এবং অবিলম্বে তাঁরা সেগুলো থেকে তওবা করে ফিরে আসেন।

তবে অধিকাংশ আলেমের মত হল,যেভাবে নবীগণ কবিরা গোনাহ থেকে মুক্ত ঠিকতেমনিভাবে সগিরা গোনাহ থেকেও মুক্ত। এটা তাফসিরবিদ, হাদিসবিদ, ফিকাহবিদেরও অভিমত। বরং সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী, সলফে সালেহিন ও ইমামদের কাছ থেকে যে সব বক্তব্য এসেছে সেগুলো এ অভিমতের অনুকূলে।"

নবীদের দ্বারাও কবিরা গুনাহ হয়েছে'- এই আকিদায় বিশ্বাস করলে অবশ্যই জরুরিয়াতে দ্বীনকে অস্বীকার করা হয়।যে জন্য অবশ্যই ঈমান চলে যাবে।তবে সবীদের কাছ থেকে সগিরা গোনাহ হয়েছে,এটা ইজতেহাদি মাসাঈল,সুতরাং এমন আকিদা পোষণ করলে অবশ্যই জরুরিয়াতে দ্বীনকে অস্বীকার করা হয়,যেজন্য ঈমান চলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ধরণের গুনাহ হচ্ছে মূসা আলাইহিস সালাম কর্তৃক মিশরি কিবতি লোকটিকে হত্যা করা। কারণ বিনা অপরাধে লোকটিকে হত্যা করা হয়েছিল। এ হত্যা মূসা আলাইহিস সালাম ইচ্ছাকৃতভাবে করেননি। বরং ভুলক্রমে ঘটেছে। যে কারণে তিনি এতে প্ররোচিত হয়েছিলেন সেটা হচ্ছে- মজলুম লোকটিকে সাহায্য করা। কারণ মিশরি কিবতিরা বনী ইসরাঈলদেরকে দাস বানাত এবং তাদের উপর অবিচার করত।

ইমাম কুরতুবী বলেন: "তিনি তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন; কেননা মজলুমকে সাহায্য করা সকল উম্মতের কাছে দ্বীনি কাজ ও সকল শরিয়তে ফরয। কাতাদা বলেন: কিবতি লোকটি চাচ্ছিল প্রভাব খাটিয়ে ইসরাঈলি লোকটিকে দিয়ে ফেরাউনের রান্নাঘরের জন্য কাঠ বহন করাতে। ইসরাঈলি লোকটি অস্বীকার করল এবং তাকে সাহায্য করার জন্য মূসাকে ডাকল।"

অনুরূপভাবে
قالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ
(অর্থ: সে বলল: হে আমার রব, আমি আমার নিজের প্রতি অন্যায় করে ফেলেছি। অতএব, তুমি আমাকে ক্ষমা কর। তখন তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন।) এর ব্যাখ্যায় কুরতুবী বলেন: মূসা আলাইহিস সালাম যে ঘুষিটি মেরেছিলেন সেটার জন্য তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন; যে ঘুষির কারণে লোকটির প্রাণ অবসান হয়। এ অনুতপ্ততা তাঁকে তাঁর রবের প্রতি বিনয়াবনত হওয়া ও ক্ষমাপ্রার্থনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে...।

তাঁর এ হত্যাটি ছিল ভুলক্রমে। যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘুষি বা লাথি মারলে মানুষ মরে না।

সালিম বিন আব্দুল্লাহ থেকে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওহে ইরাকবাসী! সগিরা গুনাহ সম্পর্কে তোমাদের অধিক প্রশ্ন, আর কবিরা গুনাহতে লিপ্ত হওয়া বড়ই বিস্ময়কর! আমি আবু আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: ফিতনা এদিক থেকে আসবে। তিনি হাত দিয়ে পূর্বদিকে ইশারা করেছেন, যেদিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়। তোমরা একে অপরের গর্দান কর্তন করতেছ। অথচ ফেরআউনের গোষ্ঠীর যে লোকটিকে মূসা আলাইহিস সালাম ভুলক্রমে হত্যা করেছিলেন সে প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন:
وَقَتَلْتَ نَفْساً فَنَجَّيْناكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنَّاكَ فُتُوناً
(অর্থ- তুমি একজনকে হত্যা করে বসলে। তারপর আমি তোমাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম এবং আমি তোমাকে বড় রকম পরীক্ষায় ফেলেছিলাম।)[তাফসিরে কুরতুবী (১৩/২৬১) থেকে সংক্ষেপে সমাপ্ত]

কুস্তালানি বলেন:
এটি তাঁর ইসমতকে (নিষ্পাপ হওয়াকে) প্রশ্নবিদ্ধ করবে না। কারণ সেটা ভুল ছিল। আয়াতে কারীমাতে সেটাকে শয়তানের কাজ বলা হয়েছে, অন্যায় বলা হয়েছে। অবহেলাবশতঃ কোন ছোট গুনাহ হয়ে গেলে তাঁদের (নবীদের) অভ্যাস অনুযায়ী সেটাকে বড় জ্ঞান করে তিনি সেটা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।[ইরশাদুস সারি (৭/২০৬)]

বরং এর উপরে আমরা যে কথাটি বলতে চাই: নিশ্চয় এ মিশরি কিবতিকে হত্যা করাটা (হত্যা করার কারণ থাকা সত্ত্বেও) ছিল অনিচ্ছাকৃত ভুল। কিন্তু এটি মূসা আলাইহিস সালামের নবুয়তের আগে সংঘটিত হয়েছে। আর নবীগণ নবুয়তপ্রাপ্তির আগে ভুল করা থেকে মাসুম বা মুক্ত নন। বিশেষত তাঁদের অভিপ্রায় যদি ভাল হয় এবং কার্যকারণ থাকে।

ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন:
"আমি এমন কিছু জানি না যে, বনী ইসরাঈল কোন নবীকে কোন কাজ থেকে তওবা করার কারণে সমালোচনা করেছে। বরং তারা মিথ্যাচার করে তাঁদের উপর দোষারোপ করত; যেমনিভাবে তারা মূসা আলাইহিস সালামকে কষ্ট দিয়েছিল। নচেৎ মূসা আলাইহিস সালাম মিশরি কিবতি লোকটিকে হত্যা করেছেন নবুয়তপ্রাপ্তির আগে। এবং তিনি আল্লাহ্কে দেখতে চাওয়া থেকে ও অন্যান্য ভুল থেকে নবুয়তপ্রাপ্তির পর ক্ষমা চেয়েছেন। আমি জানি না যে, বনী ইসরাঈলের কেউ এ ধরণের কোন কিছুর জন্য মূসা আলাইহিস সালামের উপর দোষারোপ করেছেন।[মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাওয়্যিয়াহ (২/৪০৯)]


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...