আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
52 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (36 points)
আমাদের একটি ইসলামিক সেবামূলক ফাউন্ডেশন রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা দ্বীনের ও উম্মাহর কল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ ও প্রজেক্ট করে থাকি আলহামদুলিল্লাহ।
অনেক মাস আগে আমাদের কে এক ভাই বেদে পল্লিতে মক্তব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিল, ওনার বেদে পল্লিতে ইসলাম প্রচারের অভিজ্ঞতা ছিল। ওনার তত্ত্বাবধানে মক্তব দেয়ার কথা ছিল। এজন্য আমাদের ফাউন্ডেশন থেকে ফান্ড কালেকশন করেছিলাম, কিন্তু মক্তবের জন্য শিক্ষক না পাওয়ায় এবং আনুষঙ্গিক আরো কিছু সমস্যার জন্য প্রজেক্ট টা শুরু করতে পারিনি। যার তত্ত্বাবধানে করার কথা ছিল তার সাথে আমরা অনেক বার যোগাযোগ করলেও উনি আমাদের প্রজেক্ট টা করিয়ে দিতে পারেনি। সুতরাং বেদে পল্লিতে মক্তব দেয়ার কথা বলে আমরা যে টাকা তুলেছিলাম সেই টাকা আমাদের হাতে এখনো রয়েছে। যেহেতু মক্তব দেয়া এখন আমাদের জন্য কঠিন কারণ যে ভাই এই কাজে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল উনি এখন অপরাগ। ঐ ভাই সহযোগিতা করতে না চাইলে আমরা এই প্রজেক্ট টা হাতে নিতাম না কেননা আমাদের পক্ষে একা একা এই প্রজেক্ট চালানোর সক্ষমতা নেই।
এমতাবস্থায় এই টাকা টা ইসলামিক অন্য কোনো প্রজেক্টে ব্যয় করা যাবে কি?
বিশেষ দ্রষ্টব্য এই টাকা যারা ডোনেট করেছে তাদের ফেরত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই কেননা বিকাশের মাধ্যমে anonymously ১০/২০/৫০/১০০ এভাবে অনেকে ডোনেট করেছে .

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ عُمَرَ تَصَدَّقَ بِمَالٍ لَهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ يُقَالُ لَهُ ثَمْغٌ وَكَانَ نَخْلًا، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي اسْتَفَدْتُ مَالًا وَهُوَ عِنْدِي نَفِيسٌ، فَأَرَدْتُ أَنْ أَتَصَدَّقَ بِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَصَدَّقْ بِأَصْلِهِ، لاَ يُبَاعُ وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ، وَلَكِنْ يُنْفَقُ ثَمَرُهُ»، فَتَصَدَّقَ بِهِ عُمَرُ،

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময়ে ‘উমার (রাঃ) নিজের কিছু সম্পত্তি সদাকাহ করেছিলেন, তা ছিল, ছামাগ নামে একটি খেজুর বাগান। ‘উমার (রাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি সম্পদ পেয়েছি, যা আমার নিকট খুবই পছন্দনীয়। আমি সেটি সদাকাহ করতে চাই।’ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘মূল সম্পদটি এ শর্তে সদাকাহ কর যে তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং কেউ ওয়ারিস হবে না, বরং তার ফল দান করা হবে। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) সেটি এভাবেই সদাকাহ করলেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৭৬৪]

على أنهم صرحوا بأن مراعاة غرض الواقفين واجبة (رد المحتار، كتاب الوقف، مطلب: مراعاة غرض الواقفين يصلح مخصصا-6/665)
সারমর্মঃ ওয়াকফ কারীদের উদ্দেশ্য এর প্রতি রিয়ায়াত করা ওয়াজিব।   

شرط الواقف كنص الشراع أى فى المفهوم والدلالة ووجوب العمل به (الدر المختار، كتاب الوقف، مطلب فى قولهم شرط الواقف كنص الشارع، ومطلب بيان مفهوم المخالفة-6/649، الأشباه والنظائر، كتاب الوقف، الفن الثانى، الفوائد-2/106، تنقيح الفتاوى الحامدية-1/126
সারমর্মঃ ওয়াকফ কারীর শর্ত,শরীয়ত প্রনেতার শর্তের মতোই। 

فإذا تم ولزم لا يملك ولا يملك ولا يعار ولا يرهن،
وفى رد المحتار: لا يكون مملوكا لصاحبه ولا يملك أى لا يقبل التتمليك لغيره بالبيع ونحوه لا ستحالة تمليك الخارج عن ملكه (الفتاوى الشامية، كتاب الوقف-6/539)
সারমর্মঃ যখন ওয়াকফ পূর্ণ হয়ে যাবে,তাহলে সেটি আর বিক্রয় পরিবর্তন, ইত্যাদি করা যাবেনা।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে এক্ষেত্রে টাকা যারা দান করেছেন, তারা যেহেতু মক্তব দেয়ার জন্যই দান করেছিলেন, তাই আপনারা বেদে পল্লীতে মক্তব দিতে না পারলেও দেশের অন্য কোন জায়গায় মক্তব দিয়ে সে টাকা সেখানে ব্যয় করবেন।

অন্যথায় টাকা প্রদানকারীদের অনুমতি ব্যতীত এ টাকা অন্য খাতে ব্যয় করার সুযোগ নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...