আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
65 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (1 point)
edited by
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ, আমি এইচএসসি পরীক্ষার পর ১ম শ্রেণীর সরকারী চাকুরি তে যোগদান করেছিলাম। ট্রেনিং এ থাকাকালীন অবস্থায় আল্লাহ আমাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনেন আলহামদুলিল্লাহ। এখন আমি পর্দার বিধান পালন করি, জ্ঞান ও সাধ্যমত শরীয়াহর ভেতর চলার চেষ্টা করি। যদিও আমি এসে আবার অনার্সে ভর্তি হই, আমার চাকরি করার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই কেননা যে চাকরিই হোক না কেন, বাংলাদেশের কোনো চাকরিই মেয়েদেরকে পরিপূর্ণ শরীয়াহর ভেতর থাকতে সাহায্য করে না। সেকুলার স্ট্রাকচারে ঢুকে আমি যদি আবার শরীয়াহ মানায় ছাড় দেওয়া শুরু করে দিই এই ভয় আমার আছে। পাশাপাশি আমার সন্তানেরা কখনোই পরিপূর্ণ পর্দার গুরুত্ব বুঝবে না যদি তাদের মা বাইরে চাকরি করে। সেই ভেবে আমি দ্বীনদার কাউকে বিয়ে করে সংসারী হওয়ার চিন্তা করছি কিন্তু আমার যে সমস্যাগুলো ফেইস করতে হচ্ছে,
১. আমার পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা তেমন ভালো না, আমি পড়াশোনায় ভালো তাই শিক্ষা টাই বলতে গেলে আমার একমাত্র সম্পদ। কিন্তু পাত্র যারা আসেন তাদের বেশিরভাগই অশিক্ষিত থাকেন যেহেতু আর্থিক সচ্ছলতা নেই, পাশাপাশি তাদের দ্বীনের বুঝও থাকে না, থাকলেও তারা মনে করে নামাজ রোজাই ইসলাম।

 ২. এজন্য আমার পরিবার ক্রমাগত প্রেশার দিচ্ছে যেনো বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যাই, যেখানে পর্দা করায় কোনো সমস্যা হবে না বলে তারা মনে করেন। এতে শিক্ষিত পরিবার বিয়ের জন্য আগ্রহী হবে বলে তারা ধারণা করেন।
৩. আমাদের উপমহাদেশে মেয়েদের সাথে শ্বশুরবাড়ি থেকে যে ধরনের আচরণ করা হয়, বাবার বাড়ির সচ্ছলতা বা মেয়ের নিজের সেটেলমেন্ট না থাকলে সম্মান করা হয় না। স্বামী দ্বীনদার হলেও পরিবারের কাছ থেকে এমন আচরণ চারপাশে প্রতিনিয়তই দেখছি দ্বীনী বোনদের পরিবারেই।
৪. আমরা দুই বোন এক ভাই। ভাই অনেক ছোট, এদিকে বাবার শারীরিক অসুস্থতা। পরিবার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। বাবার অসুস্থতা বাড়লে ভাই তো পরিবারের হাল ধরতে পারবে না। আমরাও চাকরি করতে চাচ্ছি না দেখে পিতা মাতা চিন্তায় আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।

৫. অনলাইনে কাজ করার কথা ভাবলেও দীর্ঘক্ষণ বসে কাজে শারীরিক সমস্যা, ভয়াবহ ফিতনার অবাধ বিচরণ দেখে সেদিকে আগাবো কিনা তাও বুঝতেছি না। আমার জন্য অনলাইন জগত একটা ভয়ংকর ফাঁদ ফিতনার ও সময় অপচয়ের। সেই ভেবেই ২বছর ধরে সকল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে। পাশাপাশি এই জগতে আমার আস্থা আসে না যে আমি ভালো কিছু করতে পারবো। তবু যদি উস্তাদ এখানেই আগাতে বলেন আমি ইং শাআল্লাহ তাই করবো।

 সবমিলিয়ে আমার আসলে ঠিক করণীয় কি? আমার কি যেখানে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত? কিন্তু আমার যে ভয় হয় যদি আমি আবার আগের মতো দ্বীন ইসলাম পালনে সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলি যেহেতু পরিবেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ? আমি অনেক পেরেশানি ও সিদ্ধান্তহীনতায় আছি। যেদিকে উত্তর দিবেন সেদিকেই আমি আল্লাহর ফায়সালা ধরে নিয়ে পূর্ণ তাওয়াক্কুল করবো ও পূর্ণ মনোনিবেশ করবো ইং শাআল্লাহ। প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই পরামর্শ নিয়ে নেওয়া যেনো আমার আল্লাহর কাছ থেকে আমি দূরে সরে না যাই।

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

প্রয়োজন, অপরাগতা কিংবা ঠেকায় পড়ার পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণ অবস্থায় নারীদেরকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শরীয়ত তাদের ওপর এমন দায়িত্ব আরোপ করে নি, যার কারণে তাদের ঘরের বাইরে যেতে হয়। 

আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
‘আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং জাহিলিয়াতযুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’(সূরা আহযাব ৩৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ ، وَإِنَّهَا إِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ ، وَإِنَّهَا لا تَكُونُ أَقْرَبَ إِلَى اللَّهِ مِنْهَا فِي قَعْرِ بَيْتِهَا
‘নারী গোপন জিনিস, যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে তাড়া করে। আর সে আল্লাহ তাআলার সবচে’ নিকটতম তখন হয় যখন সে নিজের ঘরের মাঝে লুকিয়ে থাকে।’ (তাবরানী ২৯৭৪)

নারী মসজিদে যাওয়ার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ ‘তাদের জন্য তাদের ঘর উত্তম।’ (আবু দাউদ ৫৬৭)

নারী চাকরির খাতিরে ঘর থেকে বের হতে পারবে। তবে এর জন্য কিছু নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। নিয়ম ও শর্তগুলো মেনে চললে নারীর জন্য ঘর থেকে বের হওয়া জায়েয হবে; অন্যথায় নয়। 
যেমন,
– যদি সত্যিকারে তার চাকরি করার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে।
– চাকরিটা তার দৈহিক, মানসিক স্বভাব ও রুচির সঙ্গে সামন্জস্যশীল হতে হবে। যেমন, ডাক্তারি, নার্সিং, শিক্ষা, সেলাই কিংবা এ জাতীয় পেশা হতে হবে।
– কর্মক্ষেত্রে পর্দার পরিপূর্ণ পরিবেশ থাকতে হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।
– চাকরির কারণে যাতে পরপুরুষের সঙ্গে সফর করতে না হয়।
– কর্মক্ষেত্রে আসা-যাওয়ার পথে যাতে কোন হারাম কাজ করতে না হয়। যেমন, ড্রাইভারের সঙ্গে একাকী যাওয়া, পারফিউম ব্যবহার করা ইত্যাদি।
– নারীর প্রধান কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর খেদমত করা, তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা ও মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা। যদি চাকরি করতে গিয়ে এসব দায়িত্ব পালনে ব্যাপক অসুবিধা হয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে না। (ফাতাওয়াল মারআতিল মুসলিমাহ ২/৯৮১ ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯)

মহিলাদের জন্য পর্দা রক্ষা করে ব্যবসা বাণিজ্য ও চাকুরী করা জায়েজ আছে। তবে এক্ষেত্রে যেন পর্দা লঙ্ঘণ না হয়, সেই সাথে শরয়ী অন্য কোন বিধান লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
হ্যাঁ, যদি উপার্জনক্ষম কোন মাহরাম আত্মীয় থাকে, বা অভিভাবক থাকে, তাহলে মহিলাদের জন্য ব্যবসা ও চাকরীর জন্য বাহিরে যাওয়া উচিত নয়।

শরয়ী পর্দা ও বিধান অনুসরণ করে মহিলাদের ব্যবসা বাণিজ্য ও চাকুরী করাতে কোন নিষেধাজ্ঞা আসেনি। তা’ই শরয়ী কোন কারণ ছাড়া মহিলাদের ব্যবসা করা ও চাকুরী করাকে হারাম বলার সুযোগ নেই।

(তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/১১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫৫; আলবাহরুর রায়েক ১/২০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮, ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯)

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনি উপরে উল্লেখিত শর্তাবলী মেনে চাকরি করতে পারলে সেক্ষেত্রে বাবা মায়ের আদেশ মান্য করার জন্য বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি করার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...