আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ।
আমি আমার জীবনের যেকোনো সমস্যায় আপনাদের শরণাপন্ন হয়েছি,আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের থেকে ভালো পরামর্শ পেয়েছি। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
বর্তমানে এমন এক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি না পারছি কাউকে কিছু বলতে, না কারও কাছে থেকে পরামর্শ নিতে পারছি আর না মানসিক শান্তি পাচ্ছি। ইবাদতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি আমি।
কিছুদিন পূর্বে আমি প্রশ্ন করেছিলাম আমার স্বামীর বিষয়ে যেখানে আমি উল্লেখ করেছিলাম তার আচরণের বিষয়ে, সে রাগী, আমার সাথে ভালো করে কথা বলেনা, ইত্যাদি। বিয়ের ২ দিন পর চলে গিয়েছিলাম তার আচরণের জন্য, সে আমাকে তালাকের অনুমতি দিয়েছিল। আপনারাও তালাক নেওয়া আমার জন্য জায়েজ আছে বলেছিলেন।
৩-৪ দিন আগে সে আমাকে বলে আমি যেনো ফিরে আসি, সে নিজেকে সংশোধন করবে। তার কথায় আমি আবার ফিরে আসি। উল্লেখ্য আমি তার ৩য় স্ত্রী, ১ম জনের সাথে তালাক হয়েছে, ২য় জন চলে গেছে ১ তালাক দিয়েছে এখনো ৩ মাস হয়নি। আমার এটা দ্বিতীয় বিয়ে। সমস্যা হলো, বিয়ের ২ দিন পর তার আচরণে অতিষ্ট হয়ে আমি চলে গেছিলাম, এরপর এসব কথা আমার ১ম স্বামী জানতে পারে আর সে আমাকে ফেরত নিতে চায়,ঐ ঘরে আমার ২ বছরের ছেলে সন্তান আছে, তার বর্তমান স্ত্রীও আছে, কিন্তু সে আমাকে ফেরত চায়। এখন আমার কিছু প্রশ্ন, উত্তর দিবেন ইনশাআল্লাহ।
১) উস্তায আমি এই সংসারে কিছুতেই মন টেকাতে পারছিনা, তার প্রতি আমার কোনো আবেগ অনুভূতি কাজ করছে না, সে আমার সাথে তেমন স্বাভাবিক ও নয়। আবার খারাপ আচরণও করে না। এক্ষেত্রে যেহেতু সে আমাকে তালাকের অনুমতি দিয়েছে আমি কী তালাক নিতে পারবো?
২) তার জন্য আমার খারাপ লাগে, তার আগের ২ টা স্ত্রী চলে গেছে, যদিও আমি বুঝতে পারছি তার আচরণ অনেক রূঢ় ছিল, তার স্ত্রীরা সহ্য করতে পারেনি। আমি তাকে বলেছি আমি চলে গেলে সে কষ্ট পাবে কি না, বলেছে কিছুটা, এখন এইজন্য ভয় পাচ্ছি আমি চলে গেলে আল্লাহ আমার প্রতি নারাজ হবে কি না, আবার তার সাথে থাকতেও পারছিনা, দম বন্ধ লাগছে, পরিবারের মানুষের সম্মানের কথা চিন্তা করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা চিন্তা করে যদি থেকে যাই এর বিনিময়ে কী আল্লাহ আমাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন?
৩) আমি না চাইলেও আমার পূর্বের স্বামীর কথা মনে পড়ে, তিনি আমার প্রতি অনেক কেয়ারিং ছিলেন, আমাকে অনেক ভালোবাসতেন, যার ১% ও আমি আমার বর্তমান স্বামীর কাছে পাইনা। তিনি তো তার ফিজিক্যাল নিড ছাড়া আমার কাছেই আসে না, এই বিষয়টা আমাকে নিদারুণ কষ্ট দেয়। আমি তাকে গায়ে হাত দিলেও বিরক্ত হন, আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি। আচ্ছা, দুনিয়ায় তার এমন আচরণ হলেও জান্নাতেও তার আচরণ কী এমন থাকবে উস্তায? নাকি আমি একটু কষ্ট করে সহ্য করলে জান্নাতে কী তার কাছে উত্তম আচরণ পাবো আমি যেমন চাই?
৪) আমার এই সম্পর্ক বিচ্ছেদ হলে সমাজে আমার পরিবারকে অনেক হেনস্তার শিকার হতে হবে। তাদের সম্মানের কথা চিন্তা করলে আমি ভালো থাকবো না, আবার এ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে নতুন করে বিয়ে করলে হয়তো আমি ভালো থাকবো, পরবর্তীতে তাদের কষ্টও হয়তো দুর হবে, মাঝখানে তাদের কিছু সম্মানহানি হবে। দুনিয়ার জিন্দেগী আর ভালো লাগছে না, সবার কথা চিন্তা করলে, সবাই ভালো থাকলে আমি ভালো থাকবো না, সবাইকে ভালো রাখতে গিয়ে আমি মানসিকভাবে শান্তি পাচ্ছি না, ইবাদাতে অনিহা আসছে, স্বাভাবিক হতে পারছিনা। আমি কী সবার ভালো থাকার কথা চিন্তা করবো নাকি আমি আমার ভালো চাইবো?
৫)আমার স্বামী যেহেতু আমাকে তালাকের অনুমতি দিয়েছে, আমি যদি একসাথে ৩ তালাক নেই, তবে কী আমার ইদ্দত ১ হায়েজ হবে নাকি ৩ হায়েজ?
সে দ্বীনদার কীনা বুঝিনা আমি, সালাতে মনোযোগী মাশাল্লাহ জামায়াতের সহিত আদায়কারী, তাহাজ্জুদও আদায় করে, কিন্তু সুন্নাতের ব্যাপারে মনে হয় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে, একসাথে খাওয়া সুন্নাহ অথচ তার পছন্দ নয়, স্ত্রীকে মহব্বত করা সুন্নাহ অথচ তিনি স্ত্রীর কাছেই আসেননা, স্ত্রী কাছে গেলেও পছন্দ করেননা, পাগল পাগল লাগে নিজেকে উস্তায।আমি কী আমার স্বামীর কাছে বেশি আশা করছি, আমি চাই সে আমাকে বুঝুক, আমাকে সময় দিক, স্ত্রী হিসেবে আমি তার কাছে তো মানসিক শান্তি আশা করি তাইনা?আমাকে উত্তম নসিহত করুন, যেনো সবকিছু ভুলে রবের দিকে ফিরতে পারি। জাজাকাল্লাহ খইর।।