আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
47 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (13 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ।

আমি আমার জীবনের যেকোনো সমস্যায় আপনাদের শরণাপন্ন হয়েছি,আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের থেকে ভালো পরামর্শ পেয়েছি। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
বর্তমানে এমন এক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি না পারছি কাউকে কিছু বলতে, না কারও কাছে থেকে পরামর্শ নিতে পারছি আর না মানসিক শান্তি পাচ্ছি। ইবাদতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি আমি।

কিছুদিন পূর্বে আমি প্রশ্ন করেছিলাম আমার স্বামীর বিষয়ে যেখানে আমি উল্লেখ করেছিলাম তার আচরণের বিষয়ে, সে রাগী, আমার সাথে ভালো করে কথা বলেনা, ইত্যাদি। বিয়ের ২ দিন পর চলে গিয়েছিলাম তার আচরণের জন্য, সে আমাকে তালাকের অনুমতি দিয়েছিল। আপনারাও তালাক নেওয়া আমার জন্য জায়েজ আছে বলেছিলেন।
৩-৪ দিন আগে সে আমাকে বলে আমি যেনো ফিরে আসি, সে নিজেকে সংশোধন করবে। তার কথায় আমি আবার ফিরে আসি। উল্লেখ্য আমি তার ৩য় স্ত্রী, ১ম জনের সাথে তালাক হয়েছে, ২য় জন চলে গেছে ১ তালাক দিয়েছে এখনো ৩ মাস হয়নি। আমার এটা দ্বিতীয় বিয়ে।  সমস্যা হলো, বিয়ের ২ দিন পর তার আচরণে অতিষ্ট হয়ে আমি চলে গেছিলাম, এরপর এসব কথা আমার ১ম স্বামী জানতে পারে আর সে আমাকে ফেরত নিতে চায়,ঐ ঘরে আমার ২ বছরের ছেলে সন্তান আছে, তার বর্তমান স্ত্রীও আছে, কিন্তু সে আমাকে ফেরত চায়। এখন আমার কিছু প্রশ্ন, উত্তর দিবেন ইনশাআল্লাহ।
১) উস্তায আমি এই সংসারে কিছুতেই মন টেকাতে পারছিনা, তার প্রতি আমার কোনো আবেগ অনুভূতি কাজ করছে না, সে আমার সাথে তেমন স্বাভাবিক ও নয়। আবার খারাপ আচরণও করে না। এক্ষেত্রে যেহেতু সে আমাকে তালাকের অনুমতি দিয়েছে আমি কী তালাক নিতে পারবো?
২) তার জন্য আমার খারাপ লাগে, তার আগের ২ টা স্ত্রী চলে গেছে, যদিও আমি বুঝতে পারছি তার আচরণ অনেক রূঢ় ছিল, তার স্ত্রীরা সহ্য করতে পারেনি। আমি তাকে বলেছি আমি চলে গেলে সে কষ্ট পাবে কি না, বলেছে কিছুটা, এখন এইজন্য ভয় পাচ্ছি আমি চলে গেলে আল্লাহ আমার প্রতি নারাজ হবে কি না, আবার তার সাথে থাকতেও পারছিনা, দম বন্ধ লাগছে, পরিবারের মানুষের সম্মানের কথা চিন্তা করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা চিন্তা করে যদি থেকে যাই এর বিনিময়ে কী আল্লাহ আমাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন?

৩) আমি না চাইলেও আমার পূর্বের স্বামীর কথা মনে পড়ে, তিনি আমার প্রতি অনেক কেয়ারিং ছিলেন, আমাকে অনেক ভালোবাসতেন, যার ১% ও আমি আমার বর্তমান স্বামীর কাছে পাইনা। তিনি তো তার ফিজিক্যাল নিড ছাড়া আমার কাছেই আসে না, এই বিষয়টা আমাকে নিদারুণ কষ্ট দেয়। আমি তাকে গায়ে হাত দিলেও বিরক্ত হন, আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি। আচ্ছা, দুনিয়ায় তার এমন আচরণ হলেও জান্নাতেও তার আচরণ কী এমন থাকবে উস্তায? নাকি আমি একটু কষ্ট করে সহ্য করলে জান্নাতে কী তার কাছে উত্তম আচরণ পাবো আমি যেমন চাই?
৪) আমার এই সম্পর্ক বিচ্ছেদ হলে সমাজে আমার পরিবারকে অনেক হেনস্তার শিকার হতে হবে। তাদের সম্মানের কথা চিন্তা করলে আমি ভালো থাকবো না, আবার এ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে নতুন করে বিয়ে করলে হয়তো আমি ভালো থাকবো, পরবর্তীতে তাদের কষ্টও হয়তো দুর হবে, মাঝখানে তাদের কিছু সম্মানহানি হবে। দুনিয়ার জিন্দেগী আর ভালো লাগছে না, সবার কথা চিন্তা করলে, সবাই ভালো থাকলে আমি ভালো থাকবো না, সবাইকে ভালো রাখতে গিয়ে আমি মানসিকভাবে শান্তি পাচ্ছি না, ইবাদাতে অনিহা আসছে, স্বাভাবিক হতে পারছিনা। আমি কী সবার ভালো থাকার কথা চিন্তা করবো নাকি আমি আমার ভালো চাইবো?

৫)আমার স্বামী যেহেতু আমাকে তালাকের অনুমতি দিয়েছে, আমি যদি একসাথে ৩ তালাক নেই, তবে কী আমার ইদ্দত ১ হায়েজ হবে নাকি ৩ হায়েজ?

সে দ্বীনদার কীনা বুঝিনা আমি, সালাতে মনোযোগী মাশাল্লাহ জামায়াতের সহিত আদায়কারী, তাহাজ্জুদও আদায় করে,  কিন্তু সুন্নাতের ব্যাপারে মনে হয় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে, একসাথে খাওয়া সুন্নাহ অথচ তার পছন্দ নয়, স্ত্রীকে মহব্বত করা সুন্নাহ অথচ তিনি স্ত্রীর কাছেই আসেননা, স্ত্রী কাছে গেলেও পছন্দ করেননা, পাগল পাগল লাগে নিজেকে উস্তায।আমি কী আমার স্বামীর কাছে বেশি আশা করছি, আমি চাই সে আমাকে বুঝুক, আমাকে সময় দিক, স্ত্রী হিসেবে আমি তার কাছে তো মানসিক শান্তি আশা করি তাইনা?আমাকে উত্তম নসিহত করুন, যেনো সবকিছু ভুলে রবের দিকে ফিরতে পারি। জাজাকাল্লাহ খইর।।

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
যখন কারো সামনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসে উপস্থিত হবে।এবং সে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না যে, সে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিবে।তাহলে এমন পরিস্থিতে তার জন্য উচিৎ ইস্তেখারা করা তথা ভালো দিক কে অন্বেষণ করা।অবশ্যই ইস্তেখারা, নামাযের মাধ্যমেই করবে। ইস্তেখারার পদ্ধতি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাঃ এক হাদীসে বলেন, দুই রা'কাত নামায পড়ে বিশেষ মনোযোগের সাথে (নিম্নে উল্লেখিত) দু'আ পড়বে।তাহলে হয়তো তার মন কোনো এক দিকে ধাবিত হবে,বা সে স্বপ্নযোগে কোনো এক ইশারা পাবে।  এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1472


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
ইস্তেখারার অর্থ হল, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রাব্বে কারীমের মদদ আর সাহায্য কামনা করা। সেটা হয়তো স্বপ্নের মাধ্যমে কাউকে ইঙ্গিত দেয়া হতে পারে আবার কারো অন্তরে সেদিকে টান অনুভব সৃষ্টি করা হতে পারে। যতদিন না মন কোনো এক দিকে ধাবিত হচ্ছে ততদিন আপনি ইস্তেখারা করবেন। আপনার জন্য তালাক গ্রহন এবং প্রথম স্বামীর নিকট গমন সবই আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আপনার মাতাপিতা ও হিতাকাঙ্ক্ষীদের সাথে পরামর্শ করে ইস্তেখারার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...