আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
56 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম

উত্তরটি আমার আজকেই প্রয়োজন, অনুগ্রহ পূর্বক আমাকে দ্রুত উত্তরটি জানাবেন
আমি একজন মেয়ে, এবং বর্তমানে একটি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত আছি

২০২৩ সাল থেকে আমি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি এবং অনেক সম্মানের সাথে কাজ করে যাচ্ছি।
আমি গত ২ বছর আগে আমি একজনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরি এবং সম্পর্ক অনেক গভীর হয়ে যায়। আমরা ২ জনই অনুতপ্ত হয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আমার বাবা মা কিছুতেই রাজি হচ্ছেন না এবং বিয়ের পরে অসুখী হবো বলে সারাক্ষণ অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছেন।
আমি সব কিছু অনুতপ্ত, আমি যার সাথে সম্পর্কে আছি তার পরিবারের সাথে আমার পরিবারের কুফুর কিছু অমিল আছে। কিন্তু তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং এই লম্বা সময়ে আমার জীবনের সকল খারাপ মূহুর্তে আমি উনাকে আমার পাশে পেয়েছি। আমি এবং উনি ২ জনই চাচ্ছি অতীতের ভুল গুলো থেকে বের হয়ে নতুন করে সব কিছু শুরু করতে।

কিন্তু আমার পরিবার বলছেন, আমি এখানে গেলে তারা আমার সাথে লিখিতভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিবেন (আমি গভীরভাবে জড়িয়ে গেছি এটা তারা জানার পরেও) এবং আমি কখনো ভালো থাকবো না তাদের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করে।আমার বাবা মা, ভাই ৩ জন আমাকে সামনে থেকে বিয়ে দিয়ে শুধু বিদায় করবেন, কাউকে জানাবেন না। ছেলে সবার কাছে পরিচয় দেয়ার মত অবস্থায় থাকার পরেও তারা এমন চাচ্ছেন
এক্ষেত্রে আমার বিয়ে কি শুদ্ধ হবে, বা বাবা মাকে কষ্ট দিয়ে বিয়ে করছি বলে আমার বিবাহিত জীবনে খারাপ হবে?

আমি প্রেগন্যান্ট ছিলাম, পরবর্তীতে গর্ভপাত করেছি এর পরেই মূলত আমরা ২ জন অনুতপ্ত হয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি,আমার পরিবার এটা জানার পরেও চাচ্ছেন আমি উনাকে ছেড়ে অন্যকাউকে বিয়ে করি যিনি সামাজিক ভাবে উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন।

1 Answer

0 votes
by (805,290 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا
তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।(সূরা বনি ইসরাঈল-২৩)

মাতাপিতার সন্তুষ্টি সন্তানের কল্যাণ ও কামিয়াবির জন্য অতীব জরুরী। সুতরাং মাতাপিতার সন্তুষ্টির বাহিরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ সন্তানের জন্য কখনই কাম্য হতে পারে না। কাজেই আপনারা মাতাপিতার পরামর্শ মুতাবেক সামনে অগ্রসর হওয়াই উচিত ও কাম্য। লুকিয়ে বিয়ে করা গোপন যিনাহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং লুকিয়ে বিয়ে করা থেকে দূরে থাকাই উচিত। 

মনে রাখতে হবে, মাতাপিতাই একমাত্র সর্বশেষ ব্যক্তি যারা নিঃস্বার্থ ভাবে আপন সন্তানদেরকে ভালবাসে। বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র পাত্রীর দ্বীনদারিতা এবং পাত্রর হালাল ইনকাম অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সুতরাং এ সম্পর্কে মাতাপিতাকে যথাসাধ্য বুঝানোর চেষ্টা করা সন্তানের উচিত।


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মাতাপিতার সম্মতি ব্যতীত কখনো কোনো মুসলমান যুবক যুবতীর জন্য কোর্ট মেরেজ করা সমীচীন হবে না,মঙ্গলজনক হবে না।মাতাপিতাকে না জানিয়ে বালিগ ছেলে মেয়ের বিবাহ নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।উনেক উলামায়ে কেরাম অভিভাবকহীন বিয়েকে বাতিল বলে মনে করেন।হানাফি মাযহাব মতে কু'ফু হিসেবে ছেলেটি যদি মেয়ের সমকক্ষ বা বেশী মর্যাদার অধীকারী হয়, কেবল তখনই বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।নতুবা মেয়ের অভিভাবকের অনুমতির উপর বিয়ে মওকুফ থাকবে।বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/2730


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেহেতু আপনাদের গোনাহের জীবন অনেক গভীরে চলে গেছে, এই মূহুর্তে অন্যত্র বিয়ে হলে আপনাকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। কাজেই আপনি মাতাপিতাকে বুঝাতে থাকুন। তাদের হাতে পায়ে ধরে মানানোর চেষ্টা করুন। সর্বশেষ মানানো সম্ভব না হলে, আপনার জন্য বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় উক্ত পাত্রের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার রুখসত থাকবে। আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুক।আমীন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...