আমার শ্বশুরের চরিত্রে সমস্যা আছে। উনি হুট করে ইচ্ছা করেই আমার রুমে ঢুকে যান। আমি নিষেধ করেছিলাম বলে আমার ওপর রেগে যান। প্রচণ্ড গরমে আমি আমার ননদের সাথে ঘুমিয়েছিলাম, কাপড়ের অবস্থা খারাপ ছিল। উনি দরজা ধাক্কা দিয়ে দুইদিন এসেছেন। ঘৃণা লাগে খুব,এটা আবার নিজের ছেলেকে চিৎকার করে বলেন, 'কেমন বউ যে শ্বশুরকে বলে দরজায় টোকা দিয়ে রুমে আসতে!' আমার বাবু হয়েছে, আমি বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়েও এমন করেছেন। আমি রেগে গিয়ে নিষেধ করেছি, তখন দেবর, ননদ ও আমার স্বামীর সামনে চিৎকার করে একই কথা বলেন, 'কত বড় খারাপ মেয়ে, শ্বশুরকে বলে দরজায় টোকা দিয়ে আসতে!'
আমার ননদ লজ্জায় আমার দিকে তাকাতে পারে না। ওর বয়স ২৩ বছর, বাপকে এতটাই ঘৃণা করে যে নিজের কাপড় ঠিক করে উনার সামনে যায়। ওর একই কথা, 'যে বাপ নিজের ছেলের বউয়ের সাথে এমন করতে পারে, সে যে আমার সাথে এমন করবে না, তা কীভাবে বিশ্বাস করি?'
আমার স্বামীকে আমি অনেক বুঝিয়েছি, কিন্তু লাভ হয় না। সে আমার হয়ে ওর বাপ-মায়ের সাথে প্রচুর ঝগড়া করে, কিন্তু তাদের মুখ বন্ধ হয় না। আমার যে কী খারাপ লাগে, ঘৃণায়! আল্লাহ তো এমন বলেন নাই যে, বউ না চাইলেও জোর করে শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতেই হবে। স্বামীর কথা হলো, 'আমি প্রতিদিন ঝগড়া করব, তবুও বাপ-মাকে ছাড়ব না।' সে সারাদিন অফিসে থাকে, রাতে আসে। সকাল থেকে আমার ওপর অত্যাচার চলে। ননদ আমার হয়ে উত্তর দেয় বলে তাকে ওর বাপ ইচ্ছামতো মারে। স্বামী আমাকে অনুমতি দিয়েছে কিছু বললে যেন আমি শাশুড়িকে ছেড়ে কথা না বলি, কিন্তু আমি পারি না। আমার হয়ে ননদ উত্তর দেয় আর মার খায়। আমার স্বামীর সামনেই শ্বশুর আমাকে মারতে এসেছেন, তবুও নাকি আমার স্বামীর কাছে এগুলো মেজর প্রবলেম মনে হয় না!
আমি প্রেগন্যান্ট থাকা অবস্থায় তাদের অত্যাচারে আমাকে ৯ মাস বাপের বাড়ি রেখেছিল। আমাকে এই বলে নিয়ে এসেছে, 'মুনিয়া, তুমি না গেলে তো ঝগড়া হবে না, চলো। ঝগড়া হলে, আমাকে বের করে দিলে আমরা চলে আসব।' ওর টাকাতেই বাজার চলে, শ্বশুরের কাজ নাই। নিজে থেকে বলেন ৩ বছর পর মারা যাবেন, তাই কাজ করেন না। সারাদিন কুটনামি করেন, উনাকে কেউ সহ্য করতে পারে না—কেউ না, কোনো আত্মীয়ও না। কীভাবে আমাকে কষ্ট দিতে হবে তা শাশুড়িকে বলে দেন, আর শাশুড়ি তাই করেন।
দুইদিন পরে পরে ঝগড়া প্রতিবার ঝগড়াতে আমার শশুর বলে তোরা বের হয়ে যা আল্লাহ আমাদের খাওয়াবে। আমার স্বামীর কথা এটা নাকি তার বাপ রাগ করে বলে, যেন আত্মীয়-স্বজনকে বলতে পারে ইচ্ছে করে ছেলে তাদের বিপদে ফেলে চলে যাবে
দুটো রুম, বারান্দায় দেবর, ননদ, শাশুড়ি একসাথে ঘুমায়। আমি পর্দা করি বলে বয়স্ক লোকদের সামনে ইচ্ছামতো অপমান করেন আমার শ্বশুর। আর বাকিটা না-ই বললাম।
আমার প্রশ্ন:
১) আমি যে আলাদা হয়ে যেতে চাচ্ছি, তা কি পাপ করছি? এমন না যে আমি চাপ দিচ্ছি, ২ বার বলেছিলাম। এত কষ্ট লাগে যে, স্বামী চোখে দেখে না। শশুর মারতে আসছে, রুমে ঢুকতে চায়, তবুও নাকি মেজর প্রবলেম হয় নাই!
২) স্বামী সবসময় আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে, ঝগড়াও করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে দুই সপ্তাহ হলো বাপের বাড়ি থেকে এসেছি, আর ওর মধ্যে প্রচুর চেঞ্জ দেখছি। নিরিবিলি হয়ে গেছে, ভেতরে ভয় কাজ করে যে বাপ-মা যদি আলাদা করে দেয়। তারা চায় যেন আমরা আলাদা হয়ে যাই, তাহলে শ্বশুর সবাইকে বলতে পারবেন যে ছেলে তাদের ফেলে চলে গেছে। একদিনও ঝগড়া করে নাই, এটা জাস্ট বলতে চায়। ননদ বলছে, 'আমার ভাই কেমন যেন হয়ে গেছে, কথা বলে না, খিটখিট করে।' ননদ তো বলতেই আছে, 'ভাইকে কি হুজুর দিয়ে গোপনে ঝাড়ফুঁক করাবা? কেমন যেন হয়ে গেছে, সাপোর্ট করে না।' স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক সপ্তাহে একবারের মতো, ছাড়া ছাড়া। আমার কাছে মনে হচ্ছে উনারা কি কিছু করেছেন কি না। আমার না, শুধু সবার চোখেই পড়ছে যে স্বামী চেঞ্জ হয়ে গেছে।
হুজুর বলেছেন, শাশুড়ি নাকি তাবিজ করেছেন যেন আমার থেকে দূরে থাকে। হুজুর কিছু লবণ পড়া আর একটা তাবিজ দিয়েছেন বালিশের মধ্যে রাখতে। প্রশ্ন হলো, লবণ পড়া আর তাবিজ কি আমি নেব? এটা কি হালাল হবে?"