আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
68 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (15 points)

আমার শ্বশুরের চরিত্রে সমস্যা আছে। উনি হুট করে ইচ্ছা করেই আমার রুমে ঢুকে যান। আমি নিষেধ করেছিলাম বলে আমার ওপর রেগে যান। প্রচণ্ড গরমে আমি আমার ননদের সাথে ঘুমিয়েছিলাম, কাপড়ের অবস্থা খারাপ ছিল। উনি দরজা ধাক্কা দিয়ে দুইদিন এসেছেন। ঘৃণা লাগে খুব,এটা আবার নিজের ছেলেকে চিৎকার করে বলেন, 'কেমন বউ যে শ্বশুরকে বলে দরজায় টোকা দিয়ে রুমে আসতে!' আমার বাবু হয়েছে, আমি বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়েও এমন করেছেন। আমি রেগে গিয়ে নিষেধ করেছি, তখন দেবর, ননদ ও আমার স্বামীর সামনে চিৎকার করে একই কথা বলেন, 'কত বড় খারাপ মেয়ে, শ্বশুরকে বলে দরজায় টোকা দিয়ে আসতে!'

আমার ননদ লজ্জায় আমার দিকে তাকাতে পারে না। ওর বয়স ২৩ বছর, বাপকে এতটাই ঘৃণা করে যে নিজের কাপড় ঠিক করে উনার সামনে যায়। ওর একই কথা, 'যে বাপ নিজের ছেলের বউয়ের সাথে এমন করতে পারে, সে যে আমার সাথে এমন করবে না, তা কীভাবে বিশ্বাস করি?'

আমার স্বামীকে আমি অনেক বুঝিয়েছি, কিন্তু লাভ হয় না। সে আমার হয়ে ওর বাপ-মায়ের সাথে প্রচুর ঝগড়া করে, কিন্তু তাদের মুখ বন্ধ হয় না। আমার যে কী খারাপ লাগে, ঘৃণায়! আল্লাহ তো এমন বলেন নাই যে, বউ না চাইলেও জোর করে শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতেই হবে। স্বামীর কথা হলো, 'আমি প্রতিদিন ঝগড়া করব, তবুও বাপ-মাকে ছাড়ব না।' সে সারাদিন অফিসে থাকে, রাতে আসে। সকাল থেকে আমার ওপর অত্যাচার চলে। ননদ আমার হয়ে উত্তর দেয় বলে তাকে ওর বাপ ইচ্ছামতো মারে। স্বামী আমাকে অনুমতি দিয়েছে কিছু বললে যেন আমি শাশুড়িকে ছেড়ে কথা না বলি, কিন্তু আমি পারি না। আমার হয়ে ননদ উত্তর দেয় আর মার খায়। আমার স্বামীর সামনেই শ্বশুর আমাকে মারতে এসেছেন, তবুও নাকি আমার স্বামীর কাছে এগুলো মেজর প্রবলেম মনে হয় না!

আমি প্রেগন্যান্ট থাকা অবস্থায় তাদের অত্যাচারে আমাকে ৯ মাস বাপের বাড়ি রেখেছিল। আমাকে এই বলে নিয়ে এসেছে, 'মুনিয়া, তুমি না গেলে তো ঝগড়া হবে না, চলো। ঝগড়া হলে, আমাকে বের করে দিলে আমরা চলে আসব।' ওর টাকাতেই বাজার চলে, শ্বশুরের কাজ নাই। নিজে থেকে বলেন ৩ বছর পর মারা যাবেন, তাই কাজ করেন না। সারাদিন কুটনামি করেন, উনাকে কেউ সহ্য করতে পারে না—কেউ না, কোনো আত্মীয়ও না। কীভাবে আমাকে কষ্ট দিতে হবে তা শাশুড়িকে বলে দেন, আর শাশুড়ি তাই করেন।

দুইদিন পরে পরে ঝগড়া প্রতিবার  ঝগড়াতে আমার শশুর বলে তোরা বের হয়ে যা আল্লাহ আমাদের খাওয়াবে। আমার স্বামীর কথা এটা নাকি তার বাপ রাগ করে বলে, যেন আত্মীয়-স্বজনকে বলতে পারে ইচ্ছে করে ছেলে তাদের বিপদে ফেলে চলে যাবে 

দুটো রুম, বারান্দায় দেবর, ননদ, শাশুড়ি একসাথে ঘুমায়। আমি পর্দা করি বলে বয়স্ক লোকদের সামনে ইচ্ছামতো অপমান করেন আমার শ্বশুর। আর বাকিটা না-ই বললাম।

আমার প্রশ্ন:

১) আমি যে আলাদা হয়ে যেতে চাচ্ছি, তা কি পাপ করছি? এমন না যে আমি চাপ দিচ্ছি, ২ বার বলেছিলাম। এত কষ্ট লাগে যে, স্বামী চোখে দেখে না। শশুর মারতে আসছে, রুমে ঢুকতে চায়, তবুও নাকি মেজর প্রবলেম হয় নাই!

২) স্বামী সবসময় আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে, ঝগড়াও করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে দুই সপ্তাহ হলো বাপের বাড়ি থেকে এসেছি, আর ওর মধ্যে প্রচুর চেঞ্জ দেখছি। নিরিবিলি হয়ে গেছে, ভেতরে ভয় কাজ করে যে বাপ-মা যদি আলাদা করে দেয়। তারা চায় যেন আমরা আলাদা হয়ে যাই, তাহলে শ্বশুর সবাইকে বলতে পারবেন যে ছেলে তাদের ফেলে চলে গেছে। একদিনও ঝগড়া করে নাই, এটা জাস্ট বলতে চায়। ননদ বলছে, 'আমার ভাই কেমন যেন হয়ে গেছে, কথা বলে না, খিটখিট করে।' ননদ তো বলতেই আছে, 'ভাইকে কি হুজুর দিয়ে গোপনে ঝাড়ফুঁক করাবা? কেমন যেন হয়ে গেছে, সাপোর্ট করে না।' স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক সপ্তাহে একবারের মতো, ছাড়া ছাড়া। আমার কাছে মনে হচ্ছে উনারা কি কিছু করেছেন কি না। আমার না, শুধু সবার চোখেই পড়ছে যে স্বামী চেঞ্জ হয়ে গেছে।

 হুজুর বলেছেন, শাশুড়ি নাকি তাবিজ করেছেন যেন আমার থেকে দূরে থাকে। হুজুর কিছু লবণ পড়া আর একটা তাবিজ দিয়েছেন বালিশের মধ্যে রাখতে। প্রশ্ন হলো, লবণ পড়া আর তাবিজ কি আমি নেব? এটা কি হালাল হবে?"

1 Answer

0 votes
by (763,380 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ " أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا… أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ
বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। ... জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। (সুনানে তিরমিযী ১১৬৩)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে রয়েছে-

تجب السكني لها عليه في بيت خال

মর্থার্থ: স্ত্রীর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর আবশ্যক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াত, ১/৬০৪)

قَوْلُهُ خَالٍ عَنْ أَهْلِهِ إلَخْ) ؛ لِأَنَّهَا تَتَضَرَّرُ بِمُشَارَكَةِ غَيْرِهَا فِيهِ؛؛ لِأَنَّهَا لَا تَأْمَنُ عَلَى مَتَاعِهَا وَيَمْنَعُهَاذَلِكَ مِنْ الْمُعَاشَرَةِ مَعَ زَوْجِهَا وَمِنْ الِاسْتِمْتَاعِ إلَّا أَنْ تَخْتَارَ ذَلِكَ؛ لِأَنَّهَا رَضِيَتْ بِانْتِقَاصِ حَقِّهَا هِدَايَةٌ )

স্ত্রীকে এমন একটি বাসস্থান দান করা স্বামীর জন্য ওয়াজিব,যা স্বামীর পরিবার থেকে খালি থাকবে,কেননা সে অন্যর উপস্থিতির ধরুণ কষ্ট উপভোগ করবে,এবং তার মাল সামানা পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকবে না।তৃতীয় কারো উপস্থিতি স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক জীবন ও একান্ত সময় অতিবাহিত করতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। এ জন্য একটি পৃথক বাসস্থান স্ত্রীর মৌলিক অধিকার।তবে যদি সে তার নিজ অধিকার বিসর্জন দিতে রাজি হয় যায় তাহলে তার জন্য অনুমিত রয়েছে (যদি এক্ষেত্রে গোনাহের কোনো সম্ভাবনা না থাকে)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/430

ইসলামের দিক-নিদের্শনা হচ্ছে বিবাহের পরে স্বামীর প্রথম কতর্ব্য হলো স্ত্রীর জন্য এমন একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যেখানে স্ত্রী মানুষের দৃষ্টি থেকে নিরাপদ থাকবে। কেননা পর্দা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। আর এই বিধান পালন করার জন্য স্বামীর কতর্ব্য স্ত্রীকে সাহায্য করা। সেই সাথে অন্যান্য সকল কষ্ট থেকে স্ত্রীর আরামের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে স্ত্রীকে শ্বশুর ও শাশুড়ির সাথেই থাকতে হবে এমন বাধ্যও করা যাবে না। কেননা এমন কোন অধিকার স্বামীর নেই। তবে এই ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী উভয়কে সামাজিক অবস্থার উপর বিবেচনা করেও কিছু কাজ করতে হবে।

যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে স্বামীর পরিবারের সাথে অথবা অন্য আত্মীয়ের সাথে থাকার কথা বলে কিন্তু স্ত্রী কারো সাথে থাকার কথা রাজি না হয় তাহলে স্ত্রীকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা স্বামীর কতর্ব্য। কেননা স্ত্রীর সকল কিছু রক্ষা করা ও নিরাপদে বসবাস করার দায়িত্ব স্বামীর।

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্বামীর উপর আবশ্যক, আপনার জন্য আলাদা নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। শরীয়তের উক্ত বিধান জানানোর পরেও সে যদি এর উপর আমল না করে, তাহলে পারিবারিক মুরব্বিদের মাধ্যমে তাকে বুঝাবেন। এতেও কাজ না হলে সেক্ষেত্রে আপনি যদি আলাদা হয়ে যেতে চান,সেক্ষেত্রে গুনাহ হবে না।

(০২)
এর প্রয়োজনীয়তা নেই।

এক নাম্বার প্রশ্নের জবাবে দেয়া পরামর্শের উপর আমল করবেন। 

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...