আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
79 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (25 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।

১.দুইদিন আগে স্বপ্নে দেখেছি আমার পুরাতন এক বান্ধবী কোনো কারণে আমার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করছিল। ওর সাথে কথা বলতে বলতে আমরা একটা খোলা ময়দানে চলে আসি। তখন গভীর রাত। আকাশে মেঘের ভেলা ভেসে যাচ্ছিলো। হটাৎ দেখি মেঘের মতো বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লিখা উঠেছে। আমার পাশে ওই ফ্রেন্ডটা ছিল, ওকে দেখানোর জন্য ডাক দিতেই এটা ভ্যানিশ হয়ে যায়। তারপর আবার লিখা উঠতে থাকে "আসমানসমূহ ও জমীনসমূহ... " এতটুকু উঠতেই তাকে আবার ডাক দিলে লিখাটা ভ্যানিশ হয়ে যায়। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি?

২.কয়দিন আগে স্বপ্নে দেখি, একজন বৃদ্ধা মহিলা, মারা যাচ্ছে/যাবে এমন। আমি উনার দিকে তাকাতেই ভেতরে এক প্রকার চাপা কান্নার উদয় হলো। তাকে জিজ্ঞেস করলাম তার ধর্ম সম্পর্কে, জানতে পারলাম তিনি হিন্দু। তাকে আমি কালিমা পড়ালাম এবং এরপর তিনি ইন্তেকাল করলেন। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি?

৩.একটি স্বপ্নে দেখলাম, আমাকে বিষাক্ত একটি সাপ দংশন করেছে। সাপটা কামড় দেয়ার সাথে সাথেই আমি ভাবলাম আমি তো আর বাঁচবো না। আমাকে কালিমা পড়তে হবে। আমি অনবরত কালিমা পড়তে লাগলাম, সাথে চোখগুলোও ঝাপসা হয়ে আসছিল। শেষে আমি ইন্তেকাল করলাম এবং শেষবার কালিমা পড়ার সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম এবং অন্তর দিয়ে কালিমা উপলব্ধি করেছিলাম। স্বপ্নে আমি মালাকুল মউত কে দেখিনি এবং কোনো মৃত্যু যন্ত্রণাও উপলব্ধি হয়নি। তারপর দেখি কালিমা পড়ার কারণে আমাকে জান্নাতে দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু আমরা জান্নাতের যেমন বর্ণনা পড়ি, এটা তেমন ছিল না। পরিবেশ টা দুনিয়ার মতো ছিল। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি?

4.এরপর আরেকদিন স্বপ্নে দেখি আমাদের ওয়াড্রবের উপর সব কুরআন রাখা ছিল। হটাৎ কিভাবে জানি না দেখি কুরআনের পাশে তরল নাজাসাতে খফিফা পড়ে গেছে। আমি কুরআন সরাতে সরাতে কান্না করে দিয়েছিলাম। আম্মু বিষয় টা স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিলেন। উনি বললেন, এটাতে কান্না করার কি আছে? আমি বলছিলাম, আম্মু তুমি জানো এটা কি? এটা কুরআন। কুরআনে নাপাকি লেগে যাচ্ছে, তুমি এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছো? এক্সেক্ট মনে পড়ছে না। তবে এমন কিছুই বলেছি। বলতে বলতে কান্না করছিলাম। এরপর কুরআন সরিয়ে নাপাকি পরিষ্কার করেছি। কিন্তু কুরআনে নাপাকি কিছুটা লেগে গিয়েছিল। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি?

৫.আমাদেরকে ফিক্বহ ক্লাসে শিখানো হয়েছে নাজাসাতে গলিজা যদি শুকিয়ে যায়, তাহলে তা ছুরি/শক্ত কিছু এমনকি নখ দিয়ে খুটে খুটে পরিষ্কার করলেও নাকি নাপাকি দূর হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হলো, শুকনো নাপাকি তো সরাসরি কাপড়ে লাগে না। এটি ভেজা অথবা আর্দ্র থাকে। সেই হিসেবে কাপড়ে নাজাসাতে গলিজা লাগলে তা শুকিয়ে গেলে খুটে উঠিয়ে ফেললেও কাপড়ে তো ভেজা বা আর্দ্র ভাবটা শুকিয়ে নাপাকি থেকেই যায়। তাহলে নাপাকি দূর করার এই পদ্ধতিটা কি ঠিক আছে?

জাযাকিল্লাহু খইরন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ رُؤْيَا الْمُسْلِمِ تَكْذِبُ وَأَصْدَقُكُمْ رُؤْيَا أَصْدَقُكُمْ حَدِيثًا وَرُؤْيَا الْمُسْلِمِ جُزْءٌ مِنْ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ وَالرُّؤْيَا ثَلاَثَةٌ فَرُؤْيَا الصَّالِحَةِ بُشْرَى مِنَ اللَّهِ وَرُؤْيَا تَحْزِينٌ مِنَ الشَّيْطَانِ وَرُؤْيَا مِمَّا يُحَدِّثُ الْمَرْءُ نَفْسَهُ فَإِنْ رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ وَلاَ يُحَدِّثْ بِهَا النَّاسَ "
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার আল-মাক্কী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুগ ও সময় (কিয়ামাতের) সন্নিকটে হয়ে আসবে তখন প্রায়শ (খাঁটি) মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা ও ভ্রান্ত হবে না। তোমাদের (মাঝে) অধিক সত্যভাষী লোক সর্বাধিক সত্য (ও বাস্তব) স্বপ্নদ্রষ্টা হবে। আর মুসলিমের স্বপ্ন নুবুওয়াতের পয়তাল্লিশ ভাগের এক ভাগ। আর স্বপ্ন তিন (প্রকার)- ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে সুসংবাদ (বাহক)। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন শাইতানের পক্ষ হতে দুর্ভাবনা তৈরি করে। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন যা মানুষ তার মনের সাথে কথা বলে (এবং ভাবনা-চিন্তা করে) তা থেকে (উদ্ভূত)।

অতএব তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু (স্বপ্ন) দর্শন করে- যা সে পছন্দ করে না, তাহলে সে যেন (ঘুম থেকে) উঠে দাঁড়ায় এবং সলাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করে আর মানুষের নিকট সে (স্বপ্নের) কথা গোপন রাখে।
(মুসলিম ৫৭৯৮, (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৮, ইসলামিক সেন্টার ৫৭৪০)

ইসলামী দৃষ্টিতে স্বপ্ন তিন প্রকার। 
,
১. যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাহকে দেখানো হয় যা কল্যানকর হয়।

২. শয়তানের পক্ষ হতে দেখানো হয় যাতে মানুষ খারাপ, মন্দ ভয়ংকর কিছু দেখে থাকে।
তবে শয়তান স্বপ্ন দেখানোর দ্বারা মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারেনা।
,
ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। শয়তান মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্যই এমন সব আজব আজব জিনিস দেখায়। এমনটা দেখলে ঘুম থেকে জেগে বাম দিকে থুথু ফেলে আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে হয়। 

৩. মানুষের কল্পনা। অর্থাৎ মানুষ যা কল্পনা করে স্বপ্নে তা দেখতে পায়। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الرُّؤْيَا الْحَسَنَةُ مِنَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ ".

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নেককার লোকের ভাল স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
(বুখারী শরীফ ৬৫১২)

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى ـ هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ ـ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَتَادَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الرُّؤْيَا مِنَ اللَّهِ، وَالْحُلْمُ مِنَ الشَّيْطَانِ ".

আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে আর অশুভ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।
(৬৫১৩)

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا يُحِبُّهَا فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ اللَّهِ، فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ عَلَيْهَا، وَلْيُحَدِّثْ بِهَا، وَإِذَا رَأَى غَيْرَ ذَلِكَ مِمَّا يَكْرَهُ، فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَلْيَسْتَعِذْ مِنْ شَرِّهَا، وَلاَ يَذْكُرْهَا لأَحَدٍ، فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّهُ ".

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে, তাহলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাই সে যেন এর উপর আল্লাহর প্রশংসা করে এবং অন্যের কাছে তা বর্ণনা করে। আর যদি এর বিপরীত অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তাহলে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। তাই সে যেন এর অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়। আর কারো কাছে যেন তা বর্ণনা না করে। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি সাধন করবে না।
(বুখারী শরীফ ৬৫১৪)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
স্বপ্নটি আপনার মনের কল্পনা প্রসূত বলেই মনে হচ্ছে। সুতরাং এক্ষেত্রে আপনার জন্য কোন করনীয় নেই।

(০২)
এ স্বপ্নের ব্যখ্যা জানুনঃ- 

(০৩)
সম্ভবত আপনার ঘনিষ্টজনদের মধ্য থেকে কেউ আপনার সাথে শত্রুতার চেষ্টা করতেছে।

আপনার প্রতি নসিহা হল,আপনি ফরয ওয়াজিব বিধানকে গুরুত্বসহকারে পালন করবেন।সামর্থ্যানুযায়ী গরীব-মিসকিনকে কিছু দান করবেন।

আর নিম্নোক্ত দুআ পড়বেন।
আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম,ওয়া নাউযুবিকা মিন শুরুরিহিম।

আরো করনীয় জানুনঃ- 

(০৪)
স্বপ্নটি আপনার মনের কল্পনা প্রসূত বলেই মনে হচ্ছে। 

(০৫)
যদি নাজাসাতে গলিজা এমন গাড় হয়,যে কাপড়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেনা,তাহলে সেই নাজাসাত কাপড়ে লেগে শুকিয়ে গেলে তাহা খুটিয়ে তুললেই পাক হয়ে যাবে।
আর ভেজা থাকলে কাপড় তিনবার ভালো ভাবে ধৌত করতে হবে।
প্রত্যেকবার কাপড় নিংড়াতে হবে।
,
আর যদি নাজাসাতে গলিজা এমন গাড় না হয়,তাহলে সর্ব ছুরতেই কাপড় তিনবার ভালো ভাবে ধৌত করতে হবে।
প্রত্যেকবার কাপড় নিংড়াতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...